ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গত সোমবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, সারাদেশে সহিংসতা নাকি সরকার করছে। খালেদা জিয়ার একথা শুনে শুধু দেশের মানুষ নয় বিদেশী কূটনীতিকরা মুচকি মুচকি হাসছেন। প্রিন্ট, ইলেকট্রিক মিডিয়া ও ইন্টারনেটের অনলাইন ব্লগিং এর মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তেই দেশের মানুষ জানতে পারছে বেগম খালেদা জিয়ার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কারা নাশকতা করছে, কারা পেট্রোল বোমায় প্রতিনিয়ত পুড়িয়ে মারছে দেশের নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে। আন্দোলনের নামে বিএনপি সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষের চলাফেরার অধিকারও বিঘ্নিত করছে। দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করছে । বার্ন ইউনিটে দগ্ধ রোগী ও স্বজনদের কান্না হাহাকার আহাজারি চলছেই।

একজন জাতীয় নেত্রী হিসেবেই নয়; দেশের সোয়া দুইবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন ধরনের বালখিল্য কথা বলা কেউ মেনে নিতে পারছে না। এমনকি বিএনপির ঘোর কোনো সমর্থকও। তাই প্রতিদিনই বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ফুঁসে ওঠতে শুরু করেছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবু টনক নড়ছে না বেগম জিয়া তথা বিশ দলের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তথাকথিত অবরোধের নিয়ন্ত্রণ এখন আর খালেদা জিয়ার হাতে নেই। তথাকথিত দেশবিরোধী এই আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ করছে এখন বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির ও জামায়াত শিবিরের বিভিন্ন প্লিন্টার গ্রুপ জঙ্গিগোষ্ঠী ও লন্ডনে চিকিৎসার নামে পলাতক তারেক জিয়ার হাতে। কিছুতেই ওদের নাশকতা, নৃশংসতা ও উন্মত্ততার উল্লাস নৃত্য থামছে না। কিন্তু কেউ জানেনা, এই অপশক্তি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়।

২১ জানুয়ারি ২০১৫ জাতীয় প্রেসক্লাবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১৫ দিনে বিএনপি-জামায়াতজোট তথা ২০ দলীয় জোটের অবরোধের নামে নৃশংস নাশকতা ও সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৩০ জন সাধারণ মানুষের। নিহত হতভাগ্যদের মধ্যে ১৮ জন যাত্রী ও ১২ জন চালক-শ্রমিক। আর গত ২৫ মাসে বিএনপি-জামায়াত জোটের নশকতায় নিহত ৩২৪, আহত ৪ লাখ ৪১ হাজার ৮৬৫ আর্থিক ক্ষতি সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকারও বেশি। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতা, পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে মরেছে ২২২ যাত্রী, ৭৩ চালক ও পরিবহন শ্রমিক। এ সময় ২৬ হাজার ৩৭৪টি যানবাহন ভাংচুর, ১ হাজার ১৬২ যানবাহনে আংশিক অগ্নিসংযোগ ও ৭৮১ যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এছাড়া ফিশপ্লেট খুলে ও লাইন উপড়ে রেলে ২১দফা নাশকতা চালানো হয়। নৌপথে নাশকতা চালানো হয় তিনটি। এসব ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার ২২৩ যাত্রী পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচীর কারণে পরিবহন খাতে দিনে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে তিন শ’ কোটি টাকার বেশি। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় একই সময় সারা দেশে ৫৭২ যানবাহনে আংশিক অগ্নিসংযোগসহ ৬৫ যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে ৩ হাজার ২৩১ যানবাহন। সরকারী পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির ৫০ বাসে অগ্নিসংযোগ ও ৩১৭ বাস ভাংচুর করা হয়েছে। এ সময় ৪ দফা রেলে নাশকতা চালানো হয়। এসব ঘটনায় আহত হয়ে ৫৫ হাজার ২১৭ যাত্রী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীর সহিংস থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে রাজপথ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। নির্মমভাবে নিহত হচ্ছে নিরীহ যাত্রী। ভস্মীভূত হচ্ছে শত শত কোটি টাকার যানবাহন। পেট্রোলবোমার আগুনে অঙ্গার হচ্ছে যাত্রী, চালক, পরিবহন শ্রমিক। তথাকথিত প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে ভাংচুর করা হচ্ছে হাজার হাজার গাড়ি। ফলে গণপরিবহন সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে। আবার হরতাল-অবরোধ কর্মসূচীতে গণপরিবহন সঙ্কটের কারণে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, ‘গণপরিবহনে রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসন কর্মসূচী’র আওতায় দেশের দশটি জাতীয় ও পাঁচটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রতিবেদন মনিটর করে গণপরিবহনে রাজনৈতিক সহিংসতা বিষয়ক এক প্রতিবেদন-২০১৫ তৈরি করা হয়েছে।

বিএনপি জামায়াতের দেশবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের সংখ্যা বাড়ছে। এত নাশকতা, এত লাশ, মানুষ পুড়িয়ে মারার দানবীয় তান্ডবের বিরুদ্ধে দেশের বিবেকবান প্রতিটি মানুষের মন ভারাক্রান্ত হলেও গলছেনা খালেদার পাষাণ হৃদয়। তাই ঘৃণা ও প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় জননিরাপত্তা আতঙ্কজনকভাবে বিপন্ন হয়ে ওঠেছে বলে মনে করে সেক্টর কমান্ডার ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১। ২০ জানুয়রি ২০১৫ সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়। ফোরামের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবীব স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, অব্যাহত অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে দেশের জননিরাপত্তা আতঙ্কজনকভাবে বিপন্ন হয়ে ওঠেছে। শ্রমজীবী মানুষ বিশেষত সাধারণ পথচারী দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন নির্মম পন্থায় হতাহত হচ্ছে। পেট্রোল বোমার আগুনে প্রতিনিয়ত নিরপরাধ নারী-শিশু, ছাত্র-ছাত্রী ও খেটে খাওয়া মানুষ আহত অথবা নিহত হচ্ছে। এমন ঝটিকা আক্রমণ চালানো হচ্ছে পুলিশ বাহিনীর ওপর। এ ধরনের সহিংসতা কখনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও, নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যা, সম্পদ ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক সমাজে কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর রাজনীতি হবে দেশের গণমানুষের সমৃদ্ধি, উন্নত ও মানবিক গুণাবলিসমৃদ্ধ এবং জনকল্যাণের লক্ষ্যে নিবেদিত। কোন আন্দোলন কিংবা নিছক ক্ষমতার পালাবদলের জন্য সংবিধান বহির্ভূত কোন কার্যক্রম, সহিংতা, জনমনে ভীতি সৃষ্টি বা ধ্বংসাত্মক কাজ চালানোর অধিকার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নেই। ফোরাম মনে করে, চলমান এই নৃশংসতা মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুস্থ রাজনীতির ধারা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ অবিলম্বে সকল সহিংসতার অবসান কামনা করে। আইনানুগ সকল মহলের আইনসিদ্ধ গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে প্রতিটি মহলকে গণতান্ত্রিক সহনশীলতা প্রদর্শনের অনুরোধ জানায়।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা বলেন, মানুষকে নির্যাতন করে কোন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে সহিংসতা ও মানুষ হত্যা বন্ধে অবরোধকারীদের প্রতিও আহ্বান জানান তারা। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। এদিকে চলমান নৃশংসতা মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ বলে মনে করে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম। ‘নাশকতা ও সহিংসতা বন্ধ কর, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখ’ গানে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিশিষ্ট নাগরিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ও রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সাংবাদিক আবেদ খান, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার প্রমুখ। জনগণের সব অধিকার আজ পদদলিত উল্লেখ করে আনিসুজ্জামান বলেন, সরকার ও বিরোধীপক্ষ উভয়ের কাছেই আমাদের দাবি, সংবিধানে বর্ণিত সাধারণ জনগণের সব অধিকার ফিরিয়ে দিন। আমাদের নিজস্ব জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করুন। তিনি বলেন, মানুষকে নির্যাতন করে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বর্জন করে দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা সম্ভব নয়।

এমির্যাটস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আজ সারাদেশে যে তান্ডব চলছে, তাতে নর-নারী, শিশু-বৃদ্ধা সবাই আক্রমণের শিকার। অসহায় অন্ধ মায়ের একমাত্র সন্তান পুড়ে মারা যাচ্ছে। আহত অবস্থায় কলেজছাত্রী হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। শ্রমিক রুটি রুজির তাগিদে বের হয়ে দুর্বৃত্তের আঘাতের শিকার হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করা জনসেবার পথ নয়, জনগণকে নির্যাতন করা গণ-আন্দোলনের পথ হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে মানবাধিকার নেত্রী এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, এ অবরোধ কার বিরুদ্ধে? যে কৃষক ফসলের ডালা রেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে তার বিরুদ্ধে? যে শ্রমিক জীবিকার অন্বেষণে বের হয়ে পেট্রোল বোমার আঘাতে ঝলসে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে, যে শিক্ষার্থী শিক্ষার তাগিদে রাস্তায় বের হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। নাকি আমাদের মতো পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে; যাদের রুটি রুজির তাগিতে প্রতিদিন বের হতে হয়? এর প্রতিটি প্রশ্নের জবাব যিনি অবরোধ ডাকছেন তাকে দিতে হবে। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমরা শুধু উদ্বিগ্নই নই, আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। আমরা এ সন্ত্রাস চাই না। আমরা স্বাভাবিকভাবে বাঁচার ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। তা সব মহল থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করলে, এমন কোন কাজ করা যাবে না যা মানুষের বিরুদ্ধে যায়। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে জনস্বার্থ হবে না। এটা সবার মনে রাখা উচিত। সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, আপনারা আন্দোলনের নামে এমন ক্ষেত্র প্রস্তুত করবেন না যাতে জঙ্গীরা আবার হামলা চালানোর সুযোগ পায়। এতে জাতীয় সঙ্কট দেখা দেবে। সবাইকে মাসুল গুনতে হবে। সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাজনীতির বিকল্প সহিংসতা নয়। রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে। এ বিষয়টি সবাইকে অনুধাবন করার সময় এসেছে।

হরতাল-অবরোধের নামে দেশজুড়ে বোমাবাজি সন্ত্রাস আর আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারার প্রতিবাদ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় রংপুর অঞ্চলের মানুষ এখন সংগঠিত হচ্ছে। থানা উপজেলা ছাড়াও পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠছে শান্তি কমিটি। দোকানিরা রাখছে আড়াই হাতি লাঠি। যেখানেই সন্ত্রাস সেখানেই গণপ্রতিরোধ। সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এমনই কর্মসূচী নিয়েছে ‘জাগো রংপুর’ এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশন। গত সোম ও মঙ্গলবার বিশাল দুটি শান্তি মিছিল এবং সমাবেশের মাধ্যমে এমনই কর্মসূচী ঘোষণা করেছে তারা। এসব কর্মসূচীতে সংহতি জানিয়ে যুক্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পাশাপাশি জেলার উর্ধতন সরকারী কর্মকর্তারাও। ক্রমেই দৃঢ় হয়ে উঠছে সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী মুষ্টিবদ্ধ হাত।

পেশাজীবী সমন্বয় পরিষধের মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে বিএনপি-জামাত সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য একমাত্র বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াই দায়ী। এর দায়ভার খালেদা জিয়া কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যাকারী, রাষ্ট্রীয় ও জনসাধারণের সম্পদে অগ্নি সংযোগকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তারা সরকারের উদ্দেশে বলেন, যারা বাসে বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনের নেতারা অগ্নি সংযোগ করে মানুষ পুড়িয়ে মারা, দেশের উন্নয়ন-অর্থনীতিকে ধ্বংসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ মানববন্ধনে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে সংগঠনের নেতারা ছিলেন সোচ্চার।

যেসব রাজনৈতিক দল সহিংসতা সৃষ্টি করছে, তাদের নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিদেশী কূটনীতিকরা। তারা আরও বলেছেন সহিংস কর্মকান্ড চালিয়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা যায় না। সহিংসতা কখনোই গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে না বলেও জানান তাঁরা। সরকারের সঙ্গে বৈঠকে ওআইসির সদস্য দেশগুলোই বর্তমান সহিংসতায় যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা ও জামায়াতকে ত্যাগ করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে যে দুটি রেজ্যুলেশন নিয়ে এসেছিল সে দুটির পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

দেশেরর পেশাজীবীরা এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বলেছেন, বিশ দলীয় জোটের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতেরহরতাল অবরোধের নামে দেশের মানুষকে একটি রাজনৈতিক দল জিম্মি করে রেখেছে । ওই মানববন্ধনে বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিত ছিলেন । সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি মেজবাহ উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা কামরুল হাসান খান, কৃষিবিদ মোবারক আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, ডাঃ জালাল উদ্দীন চৌধুরী, ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, সংগঠনের তথ্য গবেষণা সম্পাদক ও সাংবাদিক জয়ন্ত আচার্য, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জু, অধ্যাপক নাজমা শাহিন, অধ্যক্ষ মোঃ আলী মানিক প্রমুখ ।

শেষ করতে চাই এই বলে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিশদলীয় জোটের তথাকথিত অবরোধের নামে দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষকে পেট্টোল বোমায় পুড়িয়ে মারা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে দেশের যাতায়ত ব্যবস্থাকে ধ্বংস, সচল অর্থনীতিকে স্থবির করাসহ নাগরিক জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলার অপকর্মকে দেশের কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। তাই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে পথে নেমে এসেছেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার এখনই সময়। আসুন দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিগ এ প্রতিবাদে সামিল হয়ে অপশক্তির বিষদাঁত চিরতরে ভেঙে দিই।