ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

অচিরেই হয়তো সদ্যপ্রয়াত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যানমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, খাঁটি দেশপ্রেমিক, শিল্প সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক, মৌলভীবাজারের দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রাণপ্রিয় নেতা, সৈয়দ মহসিন আলী এম.পির আসন শূন্য ঘোষিত হবে এবং সেই শূন্য আসনে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন ঘোষণা করবে। সৈয়দ মহসিন আলী সাহেবের মৃত্যুশোক এখনো মৌলভীবাজারবাসী কাটিয়ে ওঠতে পরেনি। তবু এ অঞ্চলের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ সহসাই একটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এটাই পৃথিবীর নিয়ম, এটাই চরম বাস্তবতা। তাই সেই বাস্তবতায়ই সৈয়দ মহসিন আলী এমপির ঘোষিতব্য শূন্য আসনের উপনির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে । এদের মধ্যে কেউ কেউ সৈয়দ মহসীন আলীর ঘনিষ্ঠজন ও রয়েছেন যাদের নাম মৌলভীবাজারের নির্বাচনী বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে।

২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর বাসভবনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, পৌর উপজেলা ও রাজনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি/সম্পাদক সহ তৃনমুল নেতাকর্মীদের এক জরুরী সভায় সৈয়দ মহসিন আলীর স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসীনকে মৌলভীবাজার-৩ আসনের উপ নির্বাচনে সর্বসম্মতিক্রমে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।যা মৌলভীবারের হাজার হাজার মহসিনভক্ত ও অনুরাগীদের মনে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

যদিও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মৌলভীবাজারের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভাজন বিদ্যমান তাই এই উপ নির্বাচনে প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলীর প্রতিপক্ষ (তা হোক দলের ভেতর বা দলের বাইরে) কেহ কাউকে ছাড় দেবে বলে মনে হয় না। তাই মহসিন আলী’র পরিবারের বাইরে কাউকে প্রার্থী করা হলে সৈয়দ মহসিন আলীর ভক্ত-অনুরাগীরা তা কিছুতেই মেনে নেবে না। কেননা, মৌলভীবাজারের আওয়ামী রাজনীতিতে সৈয়দ মহসিন আলী ও তাঁর পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। কেননা, একজন অপ্রতিদ্ধন্দি জনপ্রিয় নেতা হিসেবেই সৈয়দ মহসিন আলী মৌলভীবাজার পৌরসভার তিন তিনবারের পৌরসভার চেয়াম্যান ছিলেন। তাঁর সময়ে মৌলভবাজার পৌরসভাকে একটি ২য় শ্রেণীর পৌরসভা থেকে ১ম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত করে এই পৌরসভাকে এক আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করেন। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।ওই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির শক্তিশালী নেতা প্রয়াত সাইফুর রহমানকে ৩৬ হাজার ভোটে পরাজিত করেন। সে সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য হন তিনি। এরপর ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি তাঁর দপ্তর সমাজ কল্যাণ মন্ত্রানলয় পরিচালনা করে সুনাম অর্জন করেছেন ।

এই যে সৈয়দ মহসিন আলীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পথ পরিক্রমা, এই পথ পরিক্রমায় সৈয়দ মহসিন আলীর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ত্যাগ ছিল অপরিসীম। কেননা, গণমানুষের সেবায় সৈয়দ মহসিন আলীর আত্মত্যাগের ফলে তাঁর পরিবারকে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এজন্য অনেক পৈতৃক সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়েছে। ব্যাংকে অনেক ধার-দেনা হয়েছে তবু গণমানুষের সেবায় পরিবারটি সৈয়দ মহসিন আলীর কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করে গেছেন, তাঁকে কাজে সাহস যোগিয়েছেন। পুরো পরিবারটি আওয়ামী রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী ও অবিচল বলেই সৈয়দ মহসিন আলী গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের বন্ধু, ও একজন দানবীর মহসিন আলী হিসেবে নিজকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর সৈয়দ মহসিন আলীর সহধর্মীনী, সৈয়দা সায়রা মহসিন নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিলাসবাসন ত্যাগ করে মহসিন আলীর যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরাধীকার হিসেবে সর্বাদা ছিলেন সহযাত্রি। সৈয়দ মহসিন আলীকে তাই পরিবার নিয়ে কখনো মাথা ঘামাতে হয়নি। সৈয়দ মহসিন আলী যেমন বাইরে জনমানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তেমনি সৈয়দা সায়রা মহসিন পরিবারের বড় বউ হিসেবে ঘর যেমন সামলিয়েছেন, স্বামীর সহযাত্রি হিসেবে সামলিয়েছে রাজনীতিও। কেননা, সৈয়দ মহসিন আলীর পরিবার একটাই অতিথি পরায়ন যে, এই বাড়িতে হাত ভেজায়নি এমন মানুষের সংখ্যা মেলাই ভার। তাঁর বাসভবনটি তার জীবিত অবস্থায় যেমন সব মানুষের জন্য খোলা, আজও খোলা আছে তেমন। আর ব্যক্তি জীবনে, সৈয়দা সায়রা মহসিন একজন সহজ, সারল, আমায়িক, নিরহংকারী, অতিথিপরায়ন, আবালবৃদ্ধবনিতারর কাছে মানবসেবায় নিয়োজিত একজন যোগ্য মণিষা। স্বামীর জীবদ্ধশায় তিনি রাজনীতি ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থেকে তিনি রাজনীতিতে নিজকে শাণিত করেছেন। একজন নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ভালবাসতে হয় তা হাতেনাতে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাই পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজনীতি ও গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ততা মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে সৈয়ত মহসিন আলীর পরিবারের অপরিসীম অবদান বিশেষ করে সৈয়দ মহসিন আলী ও সৈয়দা সায়রা মহসিনের ব্যক্তি ইমেজ ব্যবহার, সহানুভূতি প্রভৃতি বিবেচনা করে এ আসনটিকে ধরে রাখতে মৌলভীবাজার ও রাজনগর থানা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিক স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থনে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সৈয়দা সায়রা মহসিনকে প্রাথী ঘোষণা করা হয়েছে বলেই সবাই মনে করছে।

অনেকেই মনে করছে, সৈয়দ মহসিন আলীর রাজনৈতিক ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে বিশেষ করে জনবান্ধব এই মানষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আর কেউ প্রার্থী হবে না। তারপরও যদি কেউ প্রার্থী হন তা হলে সবার অতিত, বর্তমান রাজনীতির ইমেজ, আওয়ামী রাজনীতিতে অবদান ইত্যা বিষয়াবলী বিবেচনা করে মৌভীবাজার-রাজনগর নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন মৌলভীবাজার-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন বলেই মৌলভীবাজারবাসী মনে করছেন ।