ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বাংলাদেশের ব্যাপক অগ্রগতির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করছে; বহির্বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন উন্নত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটানোর স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার পেয়েছেন।পরিবেশ খাতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এ ছাড়া এ প্রথমবারের মতো নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক স্থায়ী সালিশী আদালতের সম্মানজনক সদস্য পদ লাভ করেছেন বাংলাদেশের দুই বিচারপতি। আগে বাংলাদেশ ইন্টারপার্লামেন্টারি (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)-এর প্রধান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী অক্টোবর মাসে জেনেভাভিত্তিক অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম অন মাইগ্রেশন এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (জিএফএমডি) চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব লাভ করতে যাচ্ছে। তাছাড়া, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আদালতে লড়াই করে বাংলাদেশ সমুদ্র বিজয় লাভ করেছে। এর পরে ভারতের সঙ্গে ১৯৭৪ এ ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি নতুনভাবে অনুমোদিত হয়ে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে ১১১টি ছিটমহল পেয়েছে বাংলাদেশ। আর ৫১টি পেয়েছে ভারত। লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিন্ম মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এসব কারণে বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকার দেশে-বিদেশে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছেন।
বর্তমান সরকারের উত্তরোত্তর সফলতা ও অর্জনকে ব্যর্থ ও ম্লান করে দিতে ষড়যন্ত্রকারীরা এখন বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করে সরকারের ভাবমূর্তি ধ্বংসের পায়তারা করছে। দীর্ঘদিন থেকে বিএনপি জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে অনেক আন্দোলন, অঢেল অর্থ ঢেলে বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ সরকারকে টলাতে পারেনি। তাছাড়া ৫ জানুয়ারি ২০১৪ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট অংশ নেয়নি। নির্বাচনের আগে পরে এ জোটের সশস্ত্র ক্যাডাররা সারাদেশে যে ভয়াভবহ নাশকতা চালিয়েছে তা এদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। জ্বালাও পোড়াও হত্যা, দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ ডেকে দেশকে অচল করা ও অর্থনীতিকে পর্যদস্তু করাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু সরকার কঠোর অবস্থানে থাকায় এতেও কোন সফলতা আসেনি। ফলে একপর্যায়ে তারা রণেভঙ্গ দিয়েছে। তারপর গেল ৫ জানুয়ারির ২০১৫ থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট জঙ্গীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে দেশে তিনমাসের মতো লাগাতার অবরোধ ডেকে, দিনের পর দিন অরাজকতা সৃষ্টি করে জ্বালাও পোড়াও ও মানুষ হত্যা করে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেছে। তবে অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের লাভের ঘর রয়েছে শূন্যের কোঠায়। সরকারকে চুল পরিমাণও টলাতে পারেনি। বিভিন্ন নামে জঙ্গী সংগঠন সৃষ্টি করে একের পর এক নাশকতা চালাতে গিয়ে সরকারের কঠোরনীতির কারণে আঁতুড়ঘরে মৃত্যু হয়েছে এসব সমাজ ও দেশ বিরোধীদের। জঙ্গীপনায় দেশী-বিদেশী অর্থায়নের চ্যানেলগুলোও উদ্ঘাটিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিএনপি-জামায়াত জোট দিনের পর দিন লাগাতার হরতাল, অবরোধ, যানবাহন ভাংচুর ও জ্বালাও পোড়াও করেও কোন সফলতা বয়ে আসেনি। এসব ঘটনায় এসব রাজনৈতিক দল উল্টো জনধিক্কৃত হয়েছে।
কিন্তু ষড়যন্ত্র থেকে সরে যায়নি তারা। এখন বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কিভাবে এবং কতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায় তা নিয়ে কূটচালে লিপ্ত । বিদেশীদের মনে নেতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে পারলে ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হবে বলে মনে করছে। সরকারও মনে করছে যে, বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিকভাবে সরকারকে মোকাবেল করতে ব্যর্থ হয়ে নতুন করে ছক কষছে। কেননা রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক আন্দোলন করেও কোন সফলতা আসেনি, এর পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রমও ঠেকানো যায়নি। ফলে তাদের কৌশল পরিবর্তন করে দেশে বিদেশে সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক ও রংপুরে জাপানী নাগরিককে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হয়েছে । বিষয়টিকে প্রমাণের জন্য রাজধানী ঢাকায় ইতালীয় এনজিও কর্মীকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।এর রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার রংপুরে এক জাপানী এনজিও কর্মীকেও একই কায়দায় হত্যা করে বাংলাদেশকে নিয়ে বিদেশীদের মনে ভীতির সঞ্চার সঞ্চার করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই নির্মম হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দেশে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে হেন কোন অপচেষ্টা হয়নি। সরকারকেও টলানো যায়নি। দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাহায্য সহযোগিতা বন্ধে চেষ্টারও কমতি হয়নি। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ অনেকের পক্ষ থেকে বহু ধরনের দুতিয়ালির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কাছে এসব কিছুই পাত্তা পায়নি। এই কারণেই সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান। ফলে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের নিশ্চিতভাবে আতে ঘা লেগেছে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রণীত নীলনক্সার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বিদেশি দুই নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গীদের উত্থান হয়েছে এটি প্রমাণের জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা এ দুটি হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রসহ বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।
আর সেই কারণেই ঠিক এমন সময়ে নাশকতার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর বাতিল এবং পর পর দুই বিদেশীকে একই কায়দায় গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা বিশেষ ইঙ্গিত বহন করে। এবং সম্প্রতি দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ড একইসূত্রে গাঁথা বলেই আমারও ধারণা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কোঅপারেশন বাংলাদেশের প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সিজার তাভেলা। এনজিওটি ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে পানি, স্যানিটেশন, রিফিউজি সমস্যা ও পুনর্বাসনসহ নানা সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে। চলতি বছরের ১৫ মে সিজার বাংলাদেশে যোগদান করেন। ইতোপূর্বে অন্তত ১০ দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওতে কাজ করেছেন তিনি। এ হত্যাকান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩ অক্টোবর২০১৫ শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার কচুআলুটারি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন জাপানী নাগরিক হোসে কোনিও। জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর মুন্সিপাড়ার ব্যবসায়ী জাকারিয়া বালা এক সময় জাপানে থাকতেন। বর্তমানেও তার অপর তিন ভাই জাপানে রয়েছেন। জাপানে বসবাসের সুবাদেই সেখানে নিহত হোসে কোনিওর সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। সেই সুবাদেই হোসে কোনিও রংপুরে আসেন। তিনি জাকারিয়া বালার দ্বিতল ভবনের একটি কক্ষে থাকতেন। সেখানে থেকে রংপুর মহানগর সংলগ্ন কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামের শাহ আলমের কাছ থেকে ২ একর জমি লিজ নিয়ে ‘কোয়েল’ নামীয় এক জাতের ঘাস আবাদ করে বিক্রি করার পাশাপাশি ওই ঘাস নিয়ে গবেষণা চালাতেন। ঘাসটি গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিডিনিউজ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) রংপুরে জাপানী নাগরিক হোসে কোনিওকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইএসের এক টুইটে ওই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে রাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। এর আগে গত সোমবার ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা খুন হওয়ার পরও আইএস ওই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বার্তা দেয় বলে জঙ্গী হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ জানায়। তবে ওই হত্যাকান্ডে আইএসের সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ ‘পাওয়া যায়নি’ জানিয়ে তাদের দাবি নাকচ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কিন্তু অপরাধ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে এ ধরনের দায় স্বীকার।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলতে দেশী ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বীজ বপন হয়েছে বহু আগেই। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে না পারা, বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে লবিস্ট নিয়োগ করেও সুফল না আসার প্রেক্ষাপটে ষড়যন্ত্রের ডালপালায় কৌশল বদলেছে বলে প্রতীয়মাণ। বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। সেখানে পলাতক জীবনে থাকা তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মিলিত হয়ে নতুন কি কূটচাল চালাচ্ছেন তা নিয়েও নতুন জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, নাশকতার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল ঘোষণার দিনই ঘটনাটি ঘটে। সরকারকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখতে তৃতীয় কোন পক্ষ অস্ট্রেলিয়ার আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণিত করতেই এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। এরসঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুর যোগসূত্র থাকা বিচিত্র নয়। হত্যাকারী হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৩ জনের উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন,‘বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্রমাগতভাবে যখন উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হওয়ার পথে ঠিক তখনই দেশে অবস্থানরত বিদেশীদের টার্গেট করা হয়েছে। যে সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীর বন্ধন অটুট রয়েছে সে সব দেশের নাগরিকদের টার্গেট করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাব এর নেপথ্যে বিদেশী ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক নুরুল হুদা জনকণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিকের সোথে আলাপকালে বলেন, “ক্ষমতাসীন সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশে এমন কোন খারাপ পরিস্থিতিও নেই। এমন একটি সময়ে নাশকতার আশঙ্কা করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করা এবং পর পর দুই বিদেশী হত্যা বিশেষ ইঙ্গিত বহন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলতে গেলে বর্তমান সময়ের চেয়ে খানিকটা দুর্বল পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট হয়েছে। কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড হয়নি। যদিও ওই সময়ও নাশকতার আশঙ্কার ধোঁয়া তোলা হয়েছিল কোন কোন দেশের পক্ষ থেকে। যদিও সে সব অনুমান মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কি কারণে এ ধরনের হত্যাকান্ড হয়েছে তা নিশ্চিত হতে আরও সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে ক্ষমতাসীন সরকারকে খানিকটা বেকায়দায় রাখতে ষড়যন্ত্র হিসেবে বিদেশী হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটা বিচিত্র নয়।”
দুই বিদশী নাগরিক হত্যার পর দেশের প্রধান প্রধান শহরে বিদেশী নাগরিকদের অবস্থান, কর্মক্ষেত্র ও চলাচলের উপর সরকার কড়া নজরদারি আরোপ করেছে। নজরদারি আরোপের ঘটনা ও বাংলাদেশে আইএস-এর উত্থান সম্পর্কে মানুষের মনে উদ্বেগ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে । সরকার প্রধান শেখ হাসিনা, বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে এ সফরের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দেশের অর্জনগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,“বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেস্টের (আইএস) কোন তৎপরতা নেই।… এখনও পর্যন্ত বলতে পারি আমাদের এখানে আইএস বা তেমন কোন সংগঠনের তৎপরতা গড়ে উঠতে পারেনি। এ ধরনের সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান বাংলাদেশে হোক, তা আমরা চাই না, তা হতেও দেব না।
আমরা দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ শান্তিতে থাকতে চাই। একই সাথে চাই দেশের অগগতি ও উন্নতিও। তাই দেশের মানুষ আশা করবে সব অশুভ শক্তিকে কঠোর হাতে মোকাবেলা করে শেখ হাসিনা দেশকে অগ্রগতির অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। আর আমরা এ ও জানি অশুভ শক্তি শয়তানের দোসর। কাজে অশভ শক্তি ও শয়তানের দোসরদের ষড়যন্ত্র কোন দিন সফল হবে না।