ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমরা সবাই জানি যে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কোঅপারেশন বাংলাদেশের প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সিজার তাভেলা। ৩ অক্টোবর২০১৫ শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার কচুআলুটারি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন জাপানী নাগরিক হোসে কোনিও। সম্প্রতি এই দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ড যে একইসূত্রে গাঁথা তা “বিদেশী দুই নাগরিককে হত্যা সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত” আমার এই শিরোনামের একটি নিবন্ধ বিভিন্ন ব্লগ ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ওই নিবন্ধে হত্যাকান্ডে আইএসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি ও আমার স্পেকুলেশন সম্পর্কে ধারণায় বলেছিলাম মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং “ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে বাংলাদেশে যে আইএস-এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত এবং সে কারণে এদেশে বিদেশিদের অবস্থান নিরাপদ নয় তা প্রমাণের জন্য এ ধরনের দায় স্বীকার হয়ে থাকতে পারে।” সাথে এ সংক্রান্ত দায় স্বীকারের বিডিনিউজ সংবাদও উদ্ধৃত করেছিলাম যে সংবাদটি ছিল নিন্মরূপ“মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) রংপুরে জাপানী নাগরিক হোসে কোনিওকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আইএসের এক টুইটে ওই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে রাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। এর আগে গত সোমবার ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা খুন হওয়ার পরও আইএস ওই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বার্তা দেয় বলে জঙ্গী হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ জানায়।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও গোয়েন্দাসূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে ঢাকা ও রংপুরে দুজন বিদেশীকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে হত্যার পর আইএসের পক্ষে দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়া সংস্থাটি শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতেই একের পর এক ব্লগার এবং দুই বিদেশী হত্যা এবং সোমবার পাবনায় চার্চের এক ফাদারকে হত্যাচেষ্টা করা হতে পারে। আর এসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদা বা আইএসের জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রচার করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টিই অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে দেশী-বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

“দুই বিদেশী হত্যার দায় স্বীকারের বিবৃতিদাতা শনাক্ত” শিরোনামে আজ ৬ অক্টোবর দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টিটিজ যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। সংস্থাটির পরিচালক বহুল আলোচিত মহিলা রিটা কাৎজেকেও শনাক্ত হয়েছে। রিটা কাৎজে সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংস্থাটি একটি বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিশ্বের একটি প্রভাবশালী বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছে। ইতালীয় ও জাপানী খুনের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আইএস (ইসলামিক স্টেট) এর তরফ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিটি এসআইটিই (সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টিটিজ) নামের একটি ওয়েব সাইট থেকে প্রকাশিত হয়। ওয়েবসাইটটি জঙ্গীগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি করে থাকে বলে প্রকাশ পায়। এমন ঘটনায় স্বাভাবিক কারণেই বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তরফ থেকে কথা ওঠে। যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তরফ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আইএসের কোন তৎপরতা নেই। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দুই বিদেশী খুনের ঘটনায় আইএসআইএস-কে জড়িয়ে বাংলাদেশে প্রথম সংবাদ প্রচারকারী হিসেবে রিটা কাৎজকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি এসআইটিই (সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টিটিজ) নামের একটি বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই আইএসের হয়ে বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার দায় স্বীকার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহর থেকে ওয়েবসাইটটি পরিচালিত হচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয় “রিটা কাৎজে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাবেক পরিচালক জোসেফ ডেভনের সঙ্গে কাজ করেছেন। অনর্গল আরবী ভাষায় কথা বলতে পারেন রিটা কাৎজে। তিনি ছদ্মবেশে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রের আন্দোলনে থেকেছেন। সেখানে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর হয়ে কাজ করেছেন।” রিটার কর্মকান্ড নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। রিটা কোন বেসরকারী সংস্থায় কাজ করেন নাকি কোন গোয়েন্দা সংস্থার বেসরকারী মুখপাত্র হিসেবে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। অনেকে আবার রিটাকে আইএসের মুখপাত্র হিসেবে মনে করছেন।

উপরোক্ত তথ্যসূত্রের আলোকে এই বলেই শেষ করবো, দুই বিদেশি হত্যাকান্ড ও আইএস-এর দায় স্বীকার এই পুরো ঘটনাটির সাথেই জড়িত রয়েছে সরকার তথা দেশবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। ওই শক্তি রাজনৈতিকভাবে সরকারকে মোকাবেলা করতে না পেরে এখন দেশবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে। এই শক্তিই বিদেশে শত শত কোটি টাকায় বিদেশে লবিষ্ট নিয়োগ করে সরকার তথা দেশ বিরোধী প্রচারনা চালাচ্ছে। এদের অপপ্রচারের কারণেই এক টাকাও বরাদ্ধ না করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে গেছে বিশ্বব্যাংক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতেও দেশ-বিদেশের হলুদ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী সাংবাদিকদের দিয়ে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছে এবং এখনো চালাচ্ছে। কাজেই এদের বিরুদ্ধে দেশপ্রিয় জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।