ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সজল চোখে দিয়েছি বিদায়, ভাই-বন্ধু তোমাদের

ঘৃণার নরকে ঠাঁই যেন হয়, পাপীষ্ঠ পশুদের!

ভাইয়ের রক্ত পান করে যারা, সন্তান নয় আদমের

ওরা সন্তান পাপীষ্ঠ নিকৃষ্ঠ, ইবলিশ নমরুদের।

লেখাটা শুরু করতে যেয়ে প্রথমেই কলমের ডগায় এসে গেল এই ক’টি পঙক্তি; তাই শিরোনামের পরেই জুড়ে দিলাম। বাংলাদেশে ৪৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম এখানে রক্তক্ষয়ি জঙ্গি আক্রমন ও জিম্মি সংকটের শিকার হলো। এতদিন আমরা আত্মঘাতি হামলা, জিম্মি নাটকের খবরখবর ও সচিত্র প্রতিবেদন পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন ও টিভি চ্যানেলে দেখে আসলেও আমাদের দেশে সর্বপ্রথম এমন একটা নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ড দেখে সারাদেশের মানুষ আজ স্তম্ভিত ও শোকে মুহ্যমান। ১ জুলাই বনানী আর্মি স্টেডেয়ামে  রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় রবিবার থেকে বিভিন্ন অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনির্মিত রাখাসহ দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ। জঙ্গী হামলায় নিহতদের স্মরণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে শ্রদ্ধা নিবেদন, নিহতদের কফিনে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সর্বস্তরের মানুষের জন্য শ্রদ্ধানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ উন্মুক্ত রাখার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠান বিটিভির সৌজন্যে বাংলাদেশে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করেছে। টিভিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় প্রধানমন্ত্রী, সরকারেরমন্ত্রী, এমপি, বিশিষ্টজন কুটনীতিক ও প্রিয়জন হারানো স্বজনদের চেহারায় যে বিষাদের ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছে তা দেখে আবেগপ্রবণ বাংলাদেশের মানুষ সজলচোখে এই নিষ্ঠুর নৃশংস জঙ্গি হামলায় নিহত সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় জানিয়েছে একই সাথে ওই জঙ্গি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি চরম ঘৃণা ও লানৎ বর্ষণ করেছে এবং তাদের বিনাশ চেয়েছে।

আজ সারাদেশের মানুষের একটাই প্রশ্ন কারা কেন বাংলাদেশের এতবড় একটি সর্বনাশের সূচনা করলো? এ নিয়ে আজ কয়েকদিন ধরেই পত্র-পত্রিকায় নানা আলোচনা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, টিভি চ্যানেলে টকশো’ চলছে। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বিশ্লেষন করছেন; কারা, কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে? ওইসব আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের সারমর্ম দাঁড় করালে যা বেরিয়ে আসে তা হলো-এ জঙ্গি হামলার সাথে আইএস-ফাইএস জড়িত নয় এর সাথে জড়িত পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং দেশি-বিদেশী যড়যন্ত্রকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের দল।

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে পরিবেশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, নারকীয় হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সম্পৃক্ততার যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। হামলাকারীদের শেকড়ের সন্ধান খুঁজতে বেরিয়ে গোয়েন্দাদের তদন্তের মোড় সেদিকেই টার্ন নিচ্ছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, গুলশানে রেস্তরাঁয় হামলার পেছনে কোন আন্তর্জাতিক মৌলবাদী সংগঠন জড়িত নয়। গুলশানের ঘটনায় যারা জড়িত, তারা সবাই বাংলাদেশের একটি জঙ্গী সংগঠনের সদস্য। তবে তাদের পেছনে সমর্থনের হাত রয়েছে আইএসআইয়ের। ৫ জুলাই ২০১৬ গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়  আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল সেই দিকে ইঙ্গিত করে এবং নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘এ আইএস নয়, দেশের ভেতরের কিছু জঙ্গিসংগঠনই এ হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে।… দেশের ভেতরে দেশকে যারা অস্থিতিশীল করে এর অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে নানামুখি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারতীয় এনডি টিভির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, এই হামলায় প্রধান ভূমিকা নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদিনের (জেএমবি)। এর সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই ও জামায়াতের সম্পৃক্ততা সবারই জানা। কারণ তারাই বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। আর জিম্মিদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা জামায়াত ও স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ করে থাকে।

গোয়েন্দারাও ভাবছেন একই কথা, তাদের মতে-গুলশানের রেস্তরাঁয় নাশকতার জন্য জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গীদের কাজে লাগানো হয়ে থাকতেই পারে। এ হামলার সঙ্গে সাম্প্রতিক প্যারিস হামলার নক্সার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কারণ ঢাকার ঘটনায় টার্গেট করা হয়েছে বিদেশী নাগরিকদের। তবে স্থানীয় কিছু বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। সেটা স্পষ্ট হচ্ছে জঙ্গীদের দেয়া শর্তগুলো থেকে। জঙ্গীরা জেএমবি নেতা খালেদ সাইফুল্লার মুক্তি দাবি করেছিল। পাশাপাশি গুলশানের হামলাকে তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হওয়া অভিযান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি তুলেছিল। মূলত জঙ্গীদের দেয়া এই শর্তগুলোই নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বের নানা দেশে সমস্ত জেহাদী গতিবিধির ওপর নজর রাখছে মার্কিন একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের সাইটে বলা হয়েছে, আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ঠিকই, কিন্তু তারা যদি হামলা চালায়, তাহলে জেএমবি নেতার মুক্তি দাবি প্রধান হয়ে উঠবে কেন? বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাস বাড়াতেই আইএসের নাম ব্যবহার করেছে জেএমবি।

কিন্তু এই জঙ্গীরা কাদের হাতে পরিচালিত হচ্ছে? এক্ষেত্রে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে জেএমবির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের আর এ সম্পর্কের যোগসাজশেই এ হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সম্প্রতি আইএসআইয়ের সঙ্গে জেএমবির নতুন করে আঁতাত হয়েছে বলেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনার রাতে পরিকল্পিতভাবেই হামলাকারী পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করে জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ থেকে প্রকাশিত পাঁচ ব্যক্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, এরাই গুলশানে রেস্তরাঁয় হামলা করেছে। যে পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তারা সবাই বিদেশী নাগরিক বলেও দাবি করা হয়। তবে ছবি প্রকাশ করা হলেও তাদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। এসব বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, আইএস নয়, জেএমবি-ই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আর এর পেছনে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত রয়েছে ।

সেই প্রেক্ষিতেই ইতিহাসের ভয়াবহ জঙ্গী হামলার প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে পাকিস্তান হাইকমিশনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগার গ্রান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ। একই সঙ্গে তিনি জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি তুলে বলেছেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে বিলম্ব করলে সরকারের জন্য তা বুমেরাং হবে। জঙ্গীবাদবিরোধী লক্ষাধিক আলেমের ফতোয়া জারির অন্যতম এ উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ রবিবার আলেম সমাজের সঙ্গে রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদী কর্মকান্ডের পেছনে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, অবিলম্বে পাকিস্তান হাইকমিশনের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। ধর্মের নামে যে জঘন্য অপরাধ করা হয়েছে তার নিন্দা করার মতো ভাষা আমাদের নেই। আমরা এক লাখ উলামায়ে কেরাম জঙ্গীবাদী এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।

এইতো গেল কারা এ মানবতাবিরোধী নৃশংস হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে এর এক দিক। কিন্তু কেন এমন সময় এ ঘটনাটি ঘটালো এ বিষয়টিও বেরিয়ে এসেছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টকশো’ ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের লেখা নিবন্ধ থেকে। আর কেন বাংলাদেশকে নিয়ে এমন ষড়যন্ত্র ও জঘন্য খেলায় মেতে ওঠেছে তার উত্তর পেতে হলে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়েনা একটু চোখকান খোলা রাখলেই বোঝা যাবে। কেননা ওই ত্রয়ী শক্তি চায় না বাংলাদেশ নিন্মমধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্যআয়ের দেশে উন্নীত হোক। তাই শেখ হাসিনা সরকারকে যে কোন মূল্যে উৎখাত করে দেশের ভাবমূর্তিই নষ্ট করে, দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতেই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। কেননা এ জঙ্গি হামলায় নিহত ২০ জনের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশী নাগরিক। এবং এমন এমন দেশের নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে যারা বাংলাদেশকে ভালোবেসে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।  তাদের টার্গেট করা হয়েছে মূলত দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ করে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিদেশ নির্ভর। রেমিটেন্স ও রফতানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে টেনে উপরে তুলছে। আবার বিদেশী বিনিয়োগও দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে সৃষ্টি করছে কর্মসংস্থান। তাই কোনভাবে বিদেশীদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভীতি তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশকে পঙ্গু করা যাবে। আর সেই উদ্দেশ্য থেকেই গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বেছে বেছে বিদেশীদের হত্যা করা হয়েছে।

এদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালনকারী জাপানের নাগরিক। তাদের মধ্যে ৬ জন দেশে চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষক। ভারতের ১ জন ছাড়া বাকি নয় জন ইতালির নাগরিক। এদের মধ্যে ৬ জনই হচ্ছেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের ক্রেতা, যারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করেন। শুধু বিদেশীদের টার্গেট করা থেকে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলাও ছিল এই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে বর্তমানে যে মেগা ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে তার একটি হলো মেট্রোরেল। এই রেল ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। ফলে পূর্ণ গতিতে শুরু হবে এ রেল ব্যবস্থার নির্মাণ কাজ। এ লক্ষ্যেই জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার পক্ষে এই বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসেছেন এই প্রকল্পের কাজ তদারকি করতে। তারা হচ্ছেন, কাটাহিরা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারন্যাশনালের পরিবেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কিউ ওগাসারা (৫৬), যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মাকোতো ওকামোরা (৩২), এলমেক কর্পোরেশনের প্রকৌশলী ইউকো সাকাই (৪২), একই সংস্থার প্রকৌশলী রিও সিমোদারিয়া (২৭), জাইকার নির্মাণ বিশেষজ্ঞ হিরেসি তানাকা (৮০), জাইকার কর্মকর্তা নবহিরো কুরসাকি (৪৮), জাইকার কর্মকর্তা হিদেকি হাসিমুতো (৬৫)। আর বেছে বেছে তাদেরই জিম্মি করে হত্যা করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত তৈরি  পোশাক খাত । বাংলাদেশের রপ্তানী আয়ের ৮০ ভাগ অর্জিত হয় এই তৈরি পোষাক খাত থেকে। আর এ রফতানি আয়ের পেছনে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে যারা কাজ করছেন তারা হলেন বিদেশী ক্রেতা। তারা এদেশ থেকে তৈরি পোশাক কিনে বিশ্বের বড় বড় সুপার স্টোরগুলোতে সরবরাহ করে থাকেন। অনেক বিদেশী ক্রেতা এদেশে তাদের বাইং হাউস স্থাপন করে এদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে থাকেন। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় যে নয় ইতালীয় নাগরিককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে জঙ্গীরা তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্রেতা। ইতালির নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন- বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী মার্কো টোনডাট, ভিনসেনজো ডেলাসত্রো (৪৬), গার্মেন্টস ক্রেতা মারিয়া রিভোলি (৩৩), গার্মেন্টস বাইং হাউসের এমডি নাদিয়া বেনিডিট (৫২), বস্ত্র খাতের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার এডেলি পুগ্লেসি (৫০), গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ক্লডিও কাপ্পেল্লি (৪৫), গার্মেন্টস বাইং হাউসের ম্যানেজার ক্রিষ্টিয়ান রোসি (৪৭), ফিডো ট্রেলিং লিমিটেডের এমডি ক্লডিয়া মারিয়া দান্তোনা (৫৬), টেক্সটাইল ফার্মের কর্মকর্তা সিমোনা মন্টি (৩৩)। এভাবে বেছে বেছে বিদেশির হত্যা করা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, এজঙ্গীদের মূল টার্গেট ছিল বিদেশীরা।

শেষ করতে চাই এই বলেই যে, এই আলোচনা থেকেই স্পষ্ট যে, কারা কোন উদ্দেশ্যে এমন র্নশংস ও জঘন্য জঙ্গি হামলার কুশিলব। তারা চেয়েছিল এ ধরনের হামলার চালিয়ে বিদেশী মিডিয়ায় ঝড় তোলে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কেননা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আর দ্রুত উন্নয়নের নিয়ামক হলো বিদেশি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোই যখন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে, তখন সে অগ্রগতির চাকাকে থামিয়ে দিতেই  এ হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু দেশের প্রতিটি মানুষ করে যে, কাপুরুষেরা এমন ধরনের মানবতাবিরোধী হামলা ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের প্রগতির চাকাকে যতই থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুকনা কেন, তা কোনদিন পারবে না। কেননা বাঙালি বীরের জাতি; এ জাতি বহুবার প্রমাণ করেছে তারা স্বভাবে নরম কাদামাটিরে মতো হলেও প্রয়োজনে কঠিন শিলায়ও রূপ নিতে জানে। আর পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা নিজেদের নাক কেটে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছে, এতেতো সফল হচ্ছেই না, বরং নিজেদের দেশকেই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করেছে।