ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

রাষ্ট্রীয়ভাবে এতো এতো অর্থের অপচয় কি ভাবে রোধ করা হবে? গতকাল একটি দৈনিক পত্রিকায় দেখলাম ২০ আর ২৫ তলা ভবন তৈরি করার লক্ষ্যে জ্ঞান আহরনের জন্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা শিক্ষা সফরের নামে ইউরোপে মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছেন এবং এজন্য তাদের ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ লক্ষ টাকা আর মজার বিষয় হলো রাষ্ট্রের সরবোচ্ছ প্রশাসনিক পরযায় (অর্থাৎ মন্ত্রণালয়) থেকে এই অপচয়কে জায়েজ করার জন্য সেখানকার কয়েকজন কর্মকর্তাও এই মধুচন্দ্রিমায় শরিক হয়েছেন। এরকম মধুচন্দ্রিমার সুযোগ তো বারবার আসে না। তাই এরকম অপচয়ের ব্যবস্থা বলেই মনে হচ্ছে।যদিও ইতিমধ্যেই নাকি চট্টগ্রামে ৩০ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে, যা ২০-২৫ তলার থেকে উচু, কিন্ত এই কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি জানেন কিনা আল্লাহই ভাল জানেন।

বাংলাদেশের দুর্নীতি এবং দুর্নীতির টাকার পরিমান তুলনা করলে এই ৭৭ লক্ষ টাকা খুব বেশি নয় বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। আসলেও তাই। হাজার হাজার কোটি টাকার দর্নীতির খবর কম-বেশি আমরা সকলেই জানি। সে তুলনায় এই ৭৭ লক্ষ টাকার অপচয়কে আমরা দুর্নীতি বলতে পারি কিনা সেটাও হাজার টাকার প্রশ্ন। কিন্তু টাকার পরিমান কম বলে এই অপচয় কি জায়েজ হয়ে যায়? আমি বলবো জায়েজ হওয়া উচিত নয়।

এক ঢাকা বিমান বন্দরের নাম পাল্টাতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্যে, কোন মহৎ উদ্দেশ্যে নয়। আমাদের মতো গরীব দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকি এরকম রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার সুযোগ থাকা উচিত? বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। এই দেড় হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসলো? সেটা আমরা না জানলেও বুঝতে পারি। কিন্তু এই দেড় হাজার কোটি টাকা যদি কোন উৎপাদনশীলখাতে ব্যয় করা হতো, তাহলে আজ আমরা সেখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা না পেলেও কিছু অসহায় মানুষতো কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতো। কিংবা যদি একটি হাসপাতাল করা হতো, তাহলে অসংখ্য অসহায় মানুষ সেখানে চিকিৎসার সুবিধা পেতো। অথবা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্তাপন করলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী উন্নত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতো। কিন্তু তা না করে এই দেড় হাজার কোটি টাকা একটি রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য ব্যয় করা হলো, আমার প্রশ্ন এতে আমরা কিভাবে উপকৃত হলাম? যারা এই অসৎ উদ্দেশ্যটি বাস্তবায়ন করলেন, তারা কি দয়া করে আমাদেরকে জানাবেন-এই একটি উদ্দেশ্যহীন কাজ না করলে আমাদের কি ক্ষতি হতো আর করার ফলে আমরা কিভাবে উপকৃত হয়েছি?

কোটি কোটি সহায়/অসহায়-উন্নত/অনুন্নত মানুষের ঘাম ঝরানো শ্রমের টাকা সরকারী কোষাগারে কর হিসেবে জমা হয়, কিন্তু বেদনার কথা হলো, দেশের মানুষ এই অর্থের সুবিধা খুব কমই পান। রাজনীতির নামে কিছূ অসৎ লোক এই টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে আমরা শুধু তাকিয়ে দেখছি-আরো পরিতাপের বিষয় হলো বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই এ ব্যবস্থা বিদ্যমান। শিক্ষার হার বেড়েছে হাজার গুন কিন্তু সে তুলনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে সেবার পরিমান মোটেই বাড়েনি। মানুষের সচেতনতা বেড়েছ কিন্তু কিছু দায়িত্বশীল লোকদের অসৎ লেজুড়বৃত্তি আর বিবেক বরজিত সিদ্ধান্তের কারণে মানুষরা আজ চরম দুর্দশায় নিপতিত। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও আমরা আমাদের জনগনের সরকার পাইনি। কখনো পেয়েছি আওয়ামীলীগ এর সরকার, কখনো বিএনপি এর সরকার আবার কখনো জাতীয় পার্টির সরকার, যার কারণে দেশের কাংখিত অগ্রগতি আজো সাধিত হয় নি। এখন শুধু প্রাথর্নাই করছি-যেন একবার দেশের সবার সরকার ক্ষমতায় আসে।