ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

DQma67FBC3ErHpXVeeqeUagFBtt349SrGoXbcgLiPptaHDk
সত্যি বলতে সিভিল ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়ে আমার অনেক আক্ষেপ হয়, যখন চারপাশে দেখি শুধু সিএসই, ইইই, মেকানিক্যাল এর জয়গান। যেদিকে তাকাই দেখতে পাই ওমুক ফ্রেন্ড ইইই-তে পড়ে এই এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে, সিএসইর ওমুক ভাই নতুন সফট্ওয়্যার বানাচ্ছে, কোনো ভাইকে পড়া অবস্থাতেই বড় বড় কোম্পানিগুলো হায়ার করে নিয়ে গেছে। গুগল, এপল, ফেসবুক এ শুধু সিএসই ভাইদের জয়গান। অথবা চারদিকে শুধু প্রোগ্রামিং বা ডাটা ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ধরনের কাজগুলোর আলোচনায় সরগরম, কিন্তু সিভিল থেকে এরকম কিছু শুনতে পাইনা।

অন্যদিকে এরকমটাও দেখতে পাই, সিভিলে পড়ে প্রোগ্রামিং বা আইটি জগতে গিয়ে নাম করছেন, অন্যদের সাথে মিলে রোবটিক্স নিয়ে কাজ করছেন, কিন্তু সিভিলে পড়ে সিভিল নিয়েই সুনাম কুড়িয়েছেন এরকম খুব একটা দেখতে পাওয়া যায়না। ব্যাপারটা তরুণদের জন্য কিছুটা বিব্রতকরই। কেননা তার বন্ধুরা সব বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তাকে গল্প শোনায়, কিন্তু তার কাছে বলার মতো তেমন কিছু নেই। সিভিল থেকে পড়ে অন্য সেকটরে গিয়ে সফল এরকম কিছু কেইস স্টাডি দেই:

13645095_1653356361653695_3610481398845230054_n
“Jhon Smeaton” the “father of civil engineering”

রায়হান চৌধুরী: প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ গ্রাজুয়েট এবং ওনাদের ব্যাচে ফার্স্ট। উনি প্রেসিডেন্সিতেই চাকুরী করে এখন- ডেটাবেস ম্যানেজার হিসেবে। কারণ প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ডেটা ম্যানেজমেন্টের অটোমেটেড অনলাইন সিস্টেমটা ওনার হাতে তৈরী। ইদানিং ও এ ধরনের একটা সার্ভিস ডেভেলপ করে বিভিন্ন ইউনির কাছে বিক্রি করছে- ডেটা ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব ওনার সার্ভারে থাকবে। এক কথায় রায়হান সম্পর্কে বলা যায়, হি ইজ আ জিনিয়াস। ওনার সিভিলের রেজাল্টও সেটার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। উনি প্রচুর ফ্রীল্যান্সিং কাজ করেন, পুরাপুরিই আইটি লাইনে। ওনার সাইট:  http://raynux.com/ 

হাসিন হায়দার: রুয়েট থেকে পাশ করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার (HSC ৯২ ব্যাচ)। ওনাকে চেনার কারণ, উনি তৎকালীন সময়ে একমাত্র বাংলা ব্লগ সামহোয়্যারইনের বিল্ট ইন ফোনেটিক কীবোর্ডটা বানিয়েছিলেন। এই কী বোর্ড প্রজন্ম ফোরামেও বিল্ট ইন ফোনেটিক হিসেবে কাজ করছে। PHP গুরু হিসেবে সুপরিচিত হাসিন আইটি লাইনেই ক্যারিয়ার করেছেন। ওঁনার ফার্ম ফেইসবুক অ্যাপস থেকে শুরু করে অনেক কিছুই বানায়।  http://hasin.me/

জেআরসি বা প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী: বাংলাদেশে আইটি নীতিমালা বা এই ধরনের জিনিসে ওনার হাত হয়ে বেরিয়েছিলো প্রথম তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে, যখন উনি উপদেষ্টা ছিলেন। তার ক্যারিয়ারে তাকে লোকজন আইটি লোক বলেই জানতো, কিন্তু উনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর হিসেবেই রিটায়ার করেছেন বুয়েট থেকে। বর্তমানে সম্ভবত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভিসি, আগে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভিসি ছিলেন। http://en.wikipedia.org/wiki/Jamilur_Reza_Choudhury

আনিসুল হক: লেখক, সহযোগী সম্পাদক- প্রথম আলো। ওনার লেখা মা উপন্যাস সেরা ১০ উপন্যাসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিছুদিন আগের এক জরিপে। দুটি পাবলিক পরীক্ষাতেই রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় তিনি ৩য় (এসএসসি) এবং এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৮ম স্থান লাভ করেন। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন। বিসিএস দিয়ে ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করেন। অল্প কিছুদিন চাকরির পরই তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় চলে আসেন। বর্তমানে জনপ্রিয় সেরা ১০ সাংবাদিকের তালিকায় তিনি একজন।

উৎপল শুভ্র: স্পোর্টস রিপোর্টার, প্রথম আলো। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ফ্রম কুয়েট।

সাব্বির আহসান: বর্তমানে অপারেশন অ্যাডভাইজার, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বাংলাদেশ। বুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জনিয়ারিং করে আইবিএ থেকে এমবিএ এবং সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর। তার লেখা বই- দ্য পিসকিপার।

উপরোক্ত প্রথম দুজনের ক্যারিয়ার আইটিতে। এরকম আরো অনেক উদাহরণ দেখানো যায়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে চেনাতে পেরেছেন, এরকম তেমন কাউকে দেখা যায়না। সর্বশেষ ফজলুর রহমান ছিলেন সিভিল এ বাংলাদেশের গর্ব।

যাইহোক, দেখা যাচ্ছে সিভিলের ছাত্ররা অন্য সাইটে বেশ সফল। এখন কথা হল সিভিল থেকে পড়ে সিভিলেই এ নাম করেছেন, এরকম লোকজন আমরা খুব বেশি দেখিনা কেন? এর অনেকগুলো কারণ আছে। এছাড়া আরো কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা যাক।

সিভিল বনাম অন্যান্য ফেস্টঃ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায়শঃই বিভিন্ন ধরনের উৎসব আমরা দেখে থাকি। প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট নিজেদের মতো করে ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে এরকম আয়জন করে থাকে। এসব দিক দিয়ে সিএসই, ইইই বা মেকার তুলনায় সিভিলকে কমই ইনোভেটিভ ব্যাপার নিয়ে ফেস্ট করতে দেখা যায়। এর কারণ কী?

প্রথমত, সিভিল অনেক গভীর জ্ঞানের বিষয়। আপনি শুধুমাত্র একটা সাব্জেক্ট ভালো জেনেই অনেককিছু হয়ে যাবেন, এরকমটা না। যেমন একটা ছেলে প্রোগ্রামিং শিখেই কিছু সফট্ওয়্যার নিয়ে কাজ করতে পারবে। ওয়েব ডেভেলপিং শিখে ওয়েবসাইটে কাজ করতে পারে। নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে একটা এপ্লিকেশন করে ফেলতে পারে। সফটওয়ার রিলেটেড যেকোনো কিছু সহজেই করতে পারা যায়,  যে সুযোগ একজন সিএসই পড়ুয়া পাবে।

কিন্তু একজন সিভিলের ছাত্র ফার্স্ট টার্মে শুধুমাত্র মেকানিক্স ভালো পড়েই নতুন কিছু একটা করে ফেলতে পারবেনা। এরকমভাবে চার বছর হবার আগে সে কোনোভাবেই সিভিল রিলেটেড কোনো কাজ নিয়ে এগুনো কঠিন কাজ। কেননা সিভিল এর মূল কাজ হল স্ট্রাকচার ডিজাইন রিলেটেড। একটা বিল্ডিং বানাতে কি কি লাগবে, সেটা একজন শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার হবার আগে বলতে পারবেনা। কিন্তু অন্য বিভাগের শিক্ষার্থী যেমন সিএসই, সে কিন্তু চাইলে উদ্ভাবন মেলায় তার নতুন একটা এপ্লিকেশন নিয়ে যেতে পারে বা কোনো আইডিয়া ফেস্টে সফটওয়ার নিয়ে আইডিয়া দিতে পারবে। যে সুযোগ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী পাবেনা। সেজন্য সিএসই ফেস্ট করা যত সহজ, সিভিল ফেস্ট এতো সহজ না।

পেশাগত জীবনে অদৃশ্যমান সফলতাঃ

সফলতা ব্যাপারটা খুবই স্পর্শকাতর একটা ব্যাপার। একেকজন একেক রকমভাবে সফলতার সংজ্ঞা দিয়ে থাকে। কিন্তু এখানে সুনাম কুড়ানো নিয়ে আলোচনা করবো। উপরে দেয়া তালিয়াকায় দেখা যাচ্ছে এমন বেশ কয়েকজন প্রিয়মুখ, যাদেরকে প্রায় সবাই চেনে এবং তারা কেউই নিজের সাইট নিয়ে প্রসিদ্ধ নন, অন্য কাজে সফল। এছাড়া দেখা যায় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন বা তাকে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই সবাই চেনে এরকম ব্যাপার খুব কম। ফজলুর রহমান স্যারকে যেরকম সবাই চেনে, এরকম দ্বিতীয় কাউকে আর পাওয়া যায়নি। এর কারণ কী?

উত্তর খোঁজার আগে আমি এটা বলে নিই, আপনি এমন কয়জন মানুষ্কে চেনেন যে একজন বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার? কয়েকজনের নাম বলতে পারবেন?

এর উত্তরে সাধারণত খুব একটা কিছু আসবে না। কেননা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সহজে বিখ্যাত হওয়া যায়না, সেটা যে সেক্টরই হোক। এর আরেকটা কারণ আছে, যেটা হল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ করতে হয় দলীয়ভাবে। যে কারণে আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির নাম জানবেন, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারে চিনবেন না। যেমন, আপনি রোলস রয়েস, হুন্দাই, ল্যাম্বরগিনি, ফেরারি, টয়োটা, টাটা, এল জি, স্যামসাং, নকিয়া, এপল এসব কোম্পানিকে চেনেন। যখন প্রশংসা করেন, তখন কোম্পানির করেন, কিন্তু এর পেছনে যে ইঞ্জিনিয়ার কাজ করে, তার নাম কিন্তু আপনি জানেন না।

রাস্তায় চলার সময় দেখতে পান কে এটা উদ্ভোধন করেছে আর কোন কন্ট্রাক্টর কাজ করেছে। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারের নাম সেখানে লেখা থাকেনা। বুর্জ খলিফা চেনেন, কিন্তু এর ডিজাইনার বা পুরকৌশলির নাম কিন্তু আপনি জানবেন না। কিন্তু যখন বই পড়বেন, তখন লেখকে চেনেন, সিনেমা দেখেন- নায়ক/নায়িকা, প্রযোজক, পরিচালককে চেনেন, খেলা দেখেন- খেলোয়াড়কে চেনেন। এরকম্ভাবে পাবলিক সেন্সেটিভ ইস্যুগুলোতে সহজেই মানুষের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়, কিন্তু একজন ইঞ্জিনিয়ার এতো সহজে পাবলিক ফিগার হতে পারেন না। যেকারণে আপনার মনে হবে, এই ইঞ্জিনিয়ারতো তেমন কিছুই না। যেকারণে আক্ষেপ করে বলা হয়, কষ্ট করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে রাস্তা বানান একজন, আর তা উদ্ভোধন করেন আর্টস থেকে পড়া সিভিল অফিসার কিংবা কোনো নেতা। সেখানে নাম লেখা থাকে মাস্তানি করে আসা এক জন প্রতিনিধির, আর মূল কারিগর থাকে আড়ালে। কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হন ঐ কলা বিভাগের অফিসার, ইঞ্জনিয়ার থাকে তার দু-চেয়ার পরের স্থানে!

এসব বলার উদ্দেশ্য কেন ইঞ্জিনিয়ার ফেমাস হন না সেটা নিয়ে। তবে এর ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। আর তা হল যুগান্তরি কিছু করে ফেলা। যেমন মটোরলার চিফ করেছেন তার বিহীন মোবাইল তৈরি করে, স্টিভ জবস করেছে স্পর্শ নিয়ন্ত্রিত মোবাইল করে, হুইট ব্রাদার করেছেন উড়োজাহাজ, অটো করেছেন অটো ইঞ্জিন, নিকোলা টেসলা পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তারবিহীন তড়িৎ পরিবহন ব্যবস্থা আবিষ্কারের জন্য, আর আমাদের ফজলুর রহমানতো বহুতল ভবন নির্মানের পুরো আইডিয়ায় বদলে দিয়েছেন। কিন্তু এরকম কাজ কিন্তু খুব বেশি হয়নি। সেজন্য ইঞ্জনিয়ারিং খাতে সেলিব্রেটিও কম। এরপর যা হয়েছে তা শুধুই এগুলোর সংযোজন বিয়োজন পরিমার্জন।

আমি বলছিলাম সিভিল নিয়ে, মাঝখানে সব সেক্টর নিয়ে আসলাম। এখন প্রশ্ন হল একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আসলে করে কী?

একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মূল যে কাজটা করে তা হল স্ট্রাকচার ডিজাইন করা। তথা- কলাম, বীম এসবের স্ট্রাকচার বানানো। স্বাভাবিকভাবে আমরা একটা বিল্ডিং বা ব্রিজ এর যে সৌন্দর্য দেখি, সেটা আর্কিটেক্ট এর কাজ। আর্কিটেক্ট স্বপ্ন দেখে, আর সিভিল তা বাস্তবায়ন করে। আর্কির কাজ হল এই ভবন বাইরে থেকে দেখতে কেমন হবে, কয়টা দরজা, জানালা, রুম, সিড়ি, লিফট, বাইরে ও ভেতরের সৌন্দর্জ এসব ডিজাইন করা। কিন্তু এই বিল্ডিংটাকে ওভাবে দাঁড় করানোটা পুরোপুরি নির্ভর করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের উপর। বিল্ডিং কতটা শক্তিশালী হবে, কতদিন স্থায়ী হবে, কোন উপাদান ব্যবহার করতে হবে, কিভাবে বিম দিলে বেশি শক্ত হবে, এসব ক্যালকুলেশন করে বের করে প্রয়োজনীয় উপাদান নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করাটা সিভিলের কাজ। অর্থাৎ একটা বিল্ডিং বা ব্রিজের আপনি যাই দেখতে পান সেটা আর্কিটেক্ট এর করা, আর যা দেখতে পান না তার সবই সিভিলের কাজ।

বুর্জ খলিফা বা পদ্মা সেতু দেখতে যেমনই হোক, সেটা ওরকমভাবে তৈরি করার সব কৃতিত্বই যায় সিভিলের কাছে। তবে আমাদের দেশীয় অবকাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণে ইঞ্জিনিয়ারদের কতটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সেটা নিয়ে কয়েকটা লিংক নিচে দিচ্ছি।

তাহলে বোঝা গেলো কেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা খুব একটা ফেমাস নন বরং সে তুলনায় আর্কিটেক্ট একটু এগিয়ে। কিন্তু কাজের কাজী সেই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারই এবং তার নাম কমই থাকে। বরং ইঞ্জিনিয়াররা নাম ফোটানো থেকে সবসময় নিজেদেরকে বিরত রাখতেই পছন্দ করেন।

সিভিল বনাম অন্যান্যঃ

সিভিল এর সাথে অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট এর তুলনা করতে গেলে বলতে হয়, সিভিল খুবই গভীর জ্ঞানের একটা বিষয়। এখানে অনেক ভারী ভারী ব্যাপার জড়িত। খুব বেশি গণিতের কাজ এখানে। সম্পূর্ণ বিএসসি কোর্স ভালোভাবে না পড়লে আপনি কখনোই নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার এটা সম্পূর্ণ প্র্যাক্টিক্যাল নির্ভর এবং আউটডোর সার্ভিস। নদী বন্দর, মাঠ-ঘাট এসব জায়গা হল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ফার্স্ট হোম। সেকেন্ড হোম হল বাসা।

আরেকটা ব্যাপার, অন্য ডিপার্টমেন্ট, বিশেষ করে কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এ আপনি ঘরে বসেই অনেক কিছু শিখতে পারেন। কম্পিউটার সাইন্সের কোর্সগুলো ইউটিউব এর ভিডিও দেখেও অনেকাংশে আয়ত্ব করতে পারবেন, কিন্তু সিভিল এবং মেকানিক্যাল এর বিষয়গুলো কখনই সম্ভব নয়। এজন্য আপনাকে ভারী ল্যাব এর ধকল সামলাতে হবে। একজন মেকানিক্যাল এবং ইইই ছাত্র মিলে একটা রোবট বানিয়ে ফেলতে পারবে, কিন্তু একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার চাইলেই একটা ভবন বা বাধ বানিয়ে ফেলতে পারেনা। তাই এটা হল রাজকীয় ব্যাপার-স্যাপার এর ডিপার্টমেন্ট।

সিভিল ও কম্পিউটিংঃ

বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকেও প্রচুর কম্পিউটিং দরকার হয়। কারণ সিভিল স্ট্রাকচার ডিজাইন ও বিভিন্ন রকম অবকাঠামো মডেলিং-এ কম্পিউটারের শক্তির সাহায্য লাগবেই। যেহেতু একটা সরাসরি কার্যক্ষেত্রের সমস্যার সমাধান কম্পিউটারের সাহায্যে সমাধান করা হয়, কিংবা সমাধানের লক্ষ্যে কম্পিউটারকে সেভাবে ব্যবহার (প্রোগ্রামিং, মডেল ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি) করতে হয়। তাই সরাসরি রিয়েল লাইফ সমস্যা সমাধানে কিভাবে কম্পিউটার ও প্রোগ্রামিং ব্যবহার করা যায়- সেটার একটা বেসিক ট্রেনিং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ আছেই। অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনেও সিমুলেশন ব্যবহার করা হয়। এসব কারণেই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংএ numerical analysis and computer programming নামে একখানা কোর্স করাও বাধ্যতামূলক, যাতে ইকুয়েশন সলভ করার বিভিন্ন বেসিক অ্যালগরিদম আর টেকনিক শেখানো হয়। তাই সিভিল পড়লে কম্পিউটারে দক্ষতা অর্জন বাধাগ্রস্থ হয় না, বরং আরো পোক্ত হয়। অর্থাৎ বলা যায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হল অলরাউন্ডার। যার প্রমাণস্বরূপ সিভিল থেকে পড়া এত বৈচত্র্যময় ক্ষেত্রে সফল লোকদের তালিকা আমি আগেই দিয়েছি।

বিএসসি ইন সিভিল নাকি আর্কিটেকচার:

দুইটা ডিসিপ্লিনের ফোকাস ভিন্ন। একজন ভাল আর্কিটেক্টকে মেকানিক্সের বেসিক ভাল বুঝতে হয়, এজন্য তাদেরকে সিভিলের সম্ভবত ৩ টা মেকানিক্সের কোর্স করতে হয় (সিলেবাসেই আছে)। দুইটা পেশা-ই ভাল। দুই পেশাতেই বেকার লোক পাওয়া যাবে খুঁজলে। তবে আমার মনে হয় আর্কিটেকচারে স্টার্টিং স্যালারি ভাল। তবে আর্কিটেক্ট যা পারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সেটা করতে প্রশিক্ষিত নয় এবং ভাইস ভার্সা। ডেস্ক জব করতে চাইলে আর্কিটেকচার সিভিলের চেয়ে ভাল, তবে সিভিল পড়লে কাজের ক্ষেত্র অনেক বড়। আর্সেনিক মিটিগেশন, ওয়াটার সাপ্লাই, ব্যারেজ, ড্যাম, রিভার ট্রেনিং থেকে সুয়ারেজ, ইটিপি, ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে লেক, পার্ক ডেভেলপমেন্ট থেকে বিল্ডিং, এলিভেটেড হাইওয়ে, রেলওয়ে, রানওয়ে, এয়ারপোর্ট, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট- সবই আছে।

আবার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার যত কেরামতিই করুক না কেন সাধারণত বিখ্যাত স্ট্রাকচারগুলোর নামের সাথে আর্কিটেক্টের নামই সামনে আসে। কারণ ওনার কাজটা সাধারণত মৌলিক কাজ হয়। সামান্য কিছু ক্ষেত্রেই স্ট্রাকচারাল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রাপ্য ক্রেডিট পায়। সিভিল ইঞ্জিয়ারের কাজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরাসরি দেখা যায় না। অন্ততপক্ষে নন-প্রফেশনালদের পক্ষে জানাই সম্ভব না যে ভেতরে কত কেরামতি করতে হয়, কত মাথার চুল ছিড়তে হয়, আর্কিটেক্টের সাথে ওনার বানানো আজগুবি ভারসাম্য নিয়ে কত মারামারি করতে হয়। সেই আজগুবি জিনিসকে টিকিয়ে রাখার জন্য কত রকম আউট-অব-দ্যা টেক্সটবুক চিন্তা এবং অ্যানালাইসিস করতে হয় … …।

আজগুবি আকারের বিভিন্ন ভাস্কর্য না ভেঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকে সিভিল ইঞ্জিয়ারের দক্ষতায় কিন্তু, আর নন-প্রফেশনাল পাবলিক শুধু স্ট্রাকচারটার আবয়ব দেখে। কাজেই ক্রেডিট গোজ টু দ্যা আর্কিটেক্ট। পাবলিক ডিজাইন বলতে বাইরের আবয়বের আকারটা বুঝে, কিন্তু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংএ ডিজাইন হল, আর্কিটেক্টের বেঁধে দেয়া সীমার মধ্যে কাঠামোটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভেতরের স্কেলিটনটাকে সবচেয়ে নিরাপত্তা অব্যহত রেখে কম খরচে টেকসই বানানো। অতএব, বোঝোনাই ব্যাপারটা?

কেন চারপাশে সিভিলিয়ানদের ভাব নেয়া দৌরাত্ব নেই? কেন সিভিল ফেস্টে আইডিয়াবাজ কম? কেন ছোটোখাটো ব্যাপার নিয়ে অন্যদের মতো আমাদের এতো মাতামাতি নেই? কারণ, আমরা বড় মাপের লোক। আমাদের চিন্তাগুলোও বড় বড়। ছোট কাজগুলো নাহয় অন্য ডিপার্ট্মেন্ট করবে, তার আগে আমরা বিল্ডিং দাঁড় করিয়ে দিই। যদিও মানুষ শুধু ডিজাইনটা দেখবে।

এখন সিদ্ধান্ত তোমার। জগত গড়ার ক্রেডিটহীন কাজের অপরিসিম সুযোগ তোমার জন্য। চাইলে হতে পারো অলরাউন্ডার। গড়তে পারো নতুন সভ্যতা। অথবা হতে পারো ওসামা বিন লাদেন। উনিও কিন্তু একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার!!!

তথ্যঃ

রকমারি ডটকম
উইকিপিডিয়া
কুএরা ডটকম
আই ই বি
বুয়েট সিভিল
প্রজন্ম ফোরাম ঃ শামীম ভাই এর লেখা
Institution of Civil Engineers
The American Society of Civil Engineers: ASCE

My website: