ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

৭ই মার্চের ভাষণকে সে সময়ের বাঙ্গালীরা স্বাধীনতার ঘোষণা বলে ধরে নিয়েছিলো। ৭ই মার্চের নায়ক কিন্তু তার ওই ভাষণে পাকিস্তানের সামরিক শাসকের সাথে আলোচনার কথাও বলেছিলেন। পাকিস্তানের শাসকেরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বুঝেছিলেন পূর্ব পাকিস্তান বাস্তবে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতার জন্য বাকি ছিলো কয়েকটি পদক্ষেপ ।

প্রথমতঃ পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র (বাংলাদেশ) হিসেবে শেখ মুজিবের স্পষ্ট ঘোষণা।
দ্বিতীয়তঃ যতদিন পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিচ্ছে ততদিন পাকিস্তানের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক স্থগিত রাখা। ইয়াহিয়া খান সহ পাকিস্তানের কোন নাগরিককে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়া।

তৃতীয়তঃ পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত (তখন পর্যন্ত ক্ষুদ্র ) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে আত্মসমর্পন ও অস্ত্র সমর্পনের জন্য নির্দেশ দেওয়া এবং তার বিনিময়ে তাদের নিরাপত্তা এবং তাদের নিরাপদে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।

এক মূহুর্ত নষ্ট না করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যদি এই তিনটি পদক্ষেপ নিতেন তাহলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দ্বারা ২৫শে মার্চের গণহত্যা সম্ভব হতো না, ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনহানি হত না,ভারতের সামরিক বাহিনীর বাংলাদেশে আসবার প্রয়োজন হতো না এবং বাঙ্গালী জাতি তার স্বাধীনতার পূর্ণ কৃতিত্বের অধিকারী হতো। কিন্তু ওই পদক্ষেপসমুহ না নিয়ে শেখ মুজিবর রহমান ইয়াহিয়া খানের সাথে আলোচনা চালিয়ে গেলেন যার সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের বিশাল বাহিনী ও সমরাস্ত্র বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছিলো। পাকিস্তান পরবর্তী নয় মাস বাংলাদেশকে দখলে রাখতে পেরেছিলো এবং শেখ মুজিবকে আটক করে পাকিস্তানে নিয়ে যেতে পেরেছিলো। এসবই এখন ইতিহাস।

মাহফুজ ভুইয়া
৭ই মার্চের জনসভায় উপস্থিত একজন রাজনৈতিক কর্মী