ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

শিরোনাম রগরগা হয়ে যাচ্ছে। আমি কখনো এই ধরনের লেখা লিখি না। শিরোনাম পড়ার পর আমার তিন ধরনের সমস্যা হতে পারে। হতে পারে কি! অবশ্যই সমস্যা হবে, হতে বাধ্য। প্রথমত. আমার অতি ধার্মিক বন্ধুরা আমায় এক হাত দেখে নিতে চাইবে। দ্বিতীয়ত. আমার পরিবার আমায় চড়-থাপ্পর দিতে পারে। এমনকি আমার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার হুমকি – ধামকি দিতে পারে। তৃতীয়ত. আমার পরিচিত মহল শুভা কাঙ্খিরা ছি. ছি.’র ঝড়ে আমায় ভাসিয়ে দিবেন। সবার এত সব সমস্যার পরেও আমি এই শিরোনামে লেখা করতে চাই। বা লেখা শেষ করতে বদ্ধ পরিকর।

কয়েক দিন আগে ফেসবুক জুড়ে ছিলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর অসামাজিক ভিডিও। এই ভিডিও প্রকাশের পর ভেবেছি কিছু একটা লিখবো কিন্তু লজ্জায় লিখতে পারিনি। আমার আবার লজ্জা বেশি। কোন মেয়ে ভুল করে ‘তোমায় ভালবাসি’ বলতে হয় না।যদি বলে তোমায় পছন্দ করি তাতেই আমি লজ্জায় বার বার খুন হই। সেই লজ্জার কারনে আরো অনেক ইস্যু নিয়ে লিখতে পারিনি। যেমন- প্রভা-রাজিব বা হ্যাপি-রুবেলদের নিয়েও কিছু লিখতে পারিনি। অনেক কষ্টে উপরে উল্লেক্ষিত শিরোনামে লিখছি।

লেখালেখির আগে যে ক’জন বিখ্যাত ব্যাক্তির সম্বন্ধে আগ্রহ জন্মেছে তাদের মধ্যে তাসলিমা নাসরিন অন্যতম। এই মহান ব্যাক্তির সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন সম্পর্ক্য্য নেই। কখনো দেখা হয়নি। কখনো দেখা হবে কিনা সন্দেহের মাঝে আছি। অনেক বার খুব প্লান প্রোগ্রাম করেছি এই মহান ব্যাক্তির সাথে দেখা করবো কিন্তু অজানা কারনে কলকাতায় খুব কম সময় থাকা হয়েছে। তাই তার সাথে দেখা করতে পারিনি। জানা বা বোঝার জন্য এই মহানে এর কিছু লেখা আমি পড়েছি। সময় শুযোগ আসলেই অনবরত পড়ার চেষ্টা করি।তবে তার লেখার বেশি অংশই আমার মাথায় ঢুকেনি। অথবা আমি অথর্ব্য্য বলে মাথায় ঢুকাতে সক্ষম হয়নি।

তবে গত কয়েক মাস আগে দেশের প্রথম সারির এক দৈনিকে মহান লেখক ও সমাজ পরিবর্তন কর্মী তাসলিমা নাসরিনের একটা কলাম চোখে পড়লো। সেই যেদিন থেকে কলাম দেখেছি সে দিনি থেকে কলামের শিরোনাম মগজের মধ্যে পোকা হয়ে কিলবিল কিলবিল করছে। সেই লেখার কোন এক স্থানে তিনি লিখেছেন “সময় এখন ওপেন সেক্স করার, সেখানে চুমু খাবার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে।” তাসলিমা নাসরিন সঠিক কথাই বলেছেন। দেশ এখন অনেক অগ্রসর। বিশ্ব এখন সভ্যতার সবৃৎকৃষ্ট স্থানে অবস্থান করছে। তাই আমাদের আরো আধুনিক হওয়া উচিৎ।

আমি পঞ্চাৎপদ ব্যাক্তি। ফেজবুক, টুইটার, লিংকইন-এ আমার উল্লেখ করার মত অবস্থান নেই। নিজেকে সোস্যাল মাধ্যমে উপস্থাপন করতে সকল সময় ব্যার্থ হয়েছি। বন্ধুদের সোস্যাল মিডিয়ার স্টাটাসে যেখানে অজস্র লাইক কমেন্টস হয়। সেই একই স্টাটাস আমি যখন পোস্ট করি তখন এত কম লাইক কমেন্টস হয় যে, মার্ক জুকারবার্গ মহাসয় যদি দেখতেন নির্ঘাত স্টক করতেন।

সোস্যাল মিডিয়ায় আমি অথর্ব্য্য হয়েও হাতে গোনা কিছু একাউন্ট প্রায় প্রতিনিয়তই চোখ বুলাই। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি অথবা ব্যাবসা বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ, অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষন অথবা অন্য কিছু পাবার জন্য। আবার নিজের জন্য-জীবনের জন্য অষ্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশের একটা গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাক্তির একাউন্টে (পেইজে) চোখ বুলাই। রিচার্স করি। মুখস্ত করি।

আমার এই চোখ বুলানো একাউন্ট সমূহের মধ্যে একজন খ্যাতনামা লেখলের নামও আছে। সেই লেখক মসাই একটি পত্রিকার লিংক আপলোড করেছেন। পত্রিকার ঐ নিউজের মূল বিষয় হলো, এক ডাক্তার এবং রাজনৈতিক নেতার অসামাজিক আচরনের সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। লেখক সেই পোষ্টের ক্যাপশনে লিখেছেন, “দু’জন পূর্ন বয়স্ক ব্যাক্তি নিজেদের ইচ্ছায় (যৌন) মেলামেশা করতেই পারেন। সেখানে পুলিশের বাড়াবাড়ি করার কোন মানে হয় না।” যে সাংবাদিক এই নিউজ করেছেন সেই সাংবাদিকের কাজের মান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

গত কয়েক মাস আগে অন্য একটি পেইজে দেখলাম একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি —- থেকে কয়েক ডজন প্রেমিক-প্রেমিকাকে অশালিন অবস্থায় আটক করা হয়েছে। এবং আটকের পরে প্রত্যেকের অভিভাবকের হাতে আটকদের সমার্পন করা হয়েছে। পোষ্টের নিচে এক ভবিষ্যত শিক্ষার কান্ডারী মন্তেব্যে করেছেন, “দেশটা যাচ্ছে কোথায়, স্বাধীন ভাবে কিছুই করা যাচ্ছেনা”

পহেলা বৈশাখ দুই জন আধুনিক মানুষ ঘোষনা দিয়েছিলেন তাহারা প্রকাশ্য চুমু খাবে। বিভিন্ন কারনে সেই চুমা-চুমি আর হয়ে উঠেনি। এই অনুষ্ঠান ব্যার্থ হবার কারনে সাংবাদিকরা একটি নিউজ হারালেন। আধুনিক মানুষরা হারানের আর একধাপ আধুনিক হবার সুযগ। ইতিহাস হারালো একটি রংচটা মুহূর্ত।

তাই আমাদের তাসলিমা নাসরিন এর সাথে গলা মিলিয়ে বলা উচিৎ, সময় এখন ওপেন সেক্স করার, সেখানে চুমু খাবার জন্য কেন আন্দোলন করতে হচ্ছে!