ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

aaaaaa1

চিঠি বোধহয় মানুষের ভাব গুছিয়ে প্রকাশের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। মোবাইল, ইন্টারনেট, ই-মেইলের যুগেও চিঠির কদর কমেনি। এগুলোর প্রভাবে চিঠি লেখার পরিমাণ, প্রয়োজনীয়তা আর প্রবণতা কমে গেছে হয়তো, কিন্তু আবেদন ঠিকই আছে। চিঠির স্থায়িত্ব কেবল তার কাগজ কিংবা কালির জন্য নয়, এতে যে আবেগ-অনুভূতি থাকে তাও প্রাপকের হৃদয়ে স্থায়ী হয় অনন্তকাল। তাই তো চিঠি নিয়ে সাহিত্য রচনা হয়েছে; কবিরা লিখেছেন কবিতা, গল্পকাররা গল্প লিখেছেন; চিঠির সংকলন নিয়ে বই হয়েছে। একাত্তরের চিঠির কথা আমরা জানি, জানি রবীন্দ্রনাথ, আব্রাহাম লিংকন, আইনস্টাইন কিংবা বিখ্যাতদের চিঠির কথাও। উড়ো চিঠি, খোলা চিঠি_ নানা নামে মানুষ চিঠি লিখে। প্রাপক চিঠিটা পাবে কি-না এ অনিশ্চয়তা নিয়েও তো চিঠি লেখেন অনেকে। চিরদিনের জন্য প্রিয় কাউকে হারিয়ে তার উদ্দেশ্যেও চিঠি লেখা হয়। কিছু চিঠি সবাই পড়েন, কিছু আবার গোপন চিঠি; কেবল প্রাপক পড়েন। কিছু চিঠি হারিয়ে যায় চিরকালের জন্য, কোনোটা আবার বিখ্যাত হয়ে ওঠে। জনের চিঠিটা তেমনি একটি। কাঁচা হাতের কী দরদ মাখানো চিঠি! অনুভূতিকে নাড়া না দিয়ে পারবে না।

‘জ্যাক, তুমি আমার প্রিয় বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খেলাধুলা করেছি। আমি তোমাকে মিস করব। প্রার্থনায় তোমার সঙ্গে কথা বলব। তোমাকে ভালোবাসি জ্যাক জন।“

ছয় বছরের শিশু জনের হৃদয়ছোঁয়া চিঠিটা বুধবার প্রকাশ করেছে টেলিগ্রাফ। যেটি আসলে সোমবার জ্যাক পিন্টুর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছিল তার স্কুলের সহপাঠি জন। জন তার প্রাণপ্রিয় বন্ধুকে ভুলতে পারছে না। ইতিমধ্যে সে জেনে গেছে আর কখনোই ফিরবে না জ্যাক। যে কি-না ১৪ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট ট্র্যাজেডির অন্যতম শিকার। যেখানে একটি স্কুলের নিষ্পাপ ২০টি শিশুসহ মোট ২৮ জন খুন হয়েছে।

সে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ঘটেছে নিউ টাউনে, কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে ধনী লোকদের বাস যেখানে এবং সাতাশ হাজার অধিবাসীর ৯৫ শতাংশেরও বেশি শ্বেতাঙ্গ। নিহত হওয়া শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। এত নিষ্পাপ শিশুর খুন হওয়ার ঘটনার পর থেকেই তাবৎ দুনিয়ার সংবাদমাধ্যমের সরবতা লক্ষণীয়। বিষয়টা নীরব ট্র্যাজেডি ছাড়া আর কীভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। হন্তারক অ্যাডাম ল্যানজা কেবল শিশুদেরই গুলি করে হত্যা করেনি, নিজের মাকেও হত্যা করেছে এবং শেষে নিজে আত্মহত্যা করেছে। তার মানসিক সমস্যাসহ নানা বিষয়ে কথা উঠলেও এটা যে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ সবাই তা স্বীকার করেছেন। সপ্তাহ পার হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোকের ছায়া এখনও স্পষ্ট। অনেক শিশুর শেষকৃত্য এখনও হচ্ছে। যদিও এ রকম বন্দুকধারীর হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কম নয়। কানেকটিকাট ট্র্যাজেডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন নতুন করে সামনে এসেছে। ঘটনার পরদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ অস্ত্র আইন কঠোর করার জন্য আন্দোলন করছে। বন্দুকধারীদের এ রকম হামলার পরই এর আগেও কয়েকবার আন্দোলন হয়েছে। জনের অবশ্য এত কিছু বোঝার বয়স হয়নি। তার খেলার বয়স। সময় তার আনন্দ করার। এ বয়সেই হারিয়েছে তার খেলার সাথীকে। সেটা তার জন্য বেদনার বৈকি! যা সে প্রকাশ করেছে চিঠির মাধ্যমে। এক হৃদয়স্পর্শী চিঠি। মার্কিন সাংবাদিকরা যেটি শেয়ার দিচ্ছেন, টুইট করছেন। জনের জন্য শুভ কামনা, তার চিঠিটা নিশ্চয়ই আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে অনেকদিন।