ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

বিসিএসের বিজ্ঞাপন যারা দেখেছেন, শেষে একটা বাক্য লক্ষ্য করার কথা_ ‘পড়াশোনা এবং জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন’। ৩৩তম বিসিএসের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৭ এপ্রিল। পিএসএসি (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) ইতিমধ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে ১ জুন। কিন্তু তারিখ যত এগিয়ে আসছে বিসিএস প্রার্থীদের পড়াশোনার টেবিলের পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে মাঠে-ময়দানে, আন্দোলন-মানববন্ধনে। কারণটা অজানা নয়; কারিগরি ত্রুটির কারণে সাড়ে এগারো হাজার প্রার্থী পরীক্ষা দিতে পারছেন না। টেলিটকের অসামর্থ্য আর পিএসসির অনৈতিক সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে এই সাড়ে এগারো হাজার প্রার্থীকে।

পিএসসি এবারই প্রথম অনলাইনে বিসিএসের আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অনলাইনে আবেদন আর আবেদন ফি মোবাইলে নেওয়ার জন্য সরকারি টেলিকম সংস্থা টেলিটক সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ৮ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। পিএসসির তথ্যমতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ জন প্রার্থী আবেদন যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেন; কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে তাদের টাকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় টেলিটক।

কারণ তারা প্রার্থীদের শেষ দিনের অপেক্ষায় না থেকে আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বারবার সতর্ক করেছিল। পিএসসি বারবার তাগাদা দিয়েছে বটে, তবে সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থীর আবেদন সম্পন্ন না হওয়ার ন্যায্যতা কখনোই তা নয় বা পিএসসি এ কথা বলে কখনও তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। যেহেতু পিএসসি ৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সময় দিয়েছে, ফলে কোনো শিক্ষার্থী এই সময়ের ১০ মিনিট আগেও যদি তার আবেদন করেন কিংবা টাকা পাঠান আইনত তার দায় পিএসসির। এখানে পিএসসির ওয়েবসাইট কিংবা তাকে সহায়তাকারী টেলিটকের যে কোনো সমস্যার জন্য দায় পিএসসির এবং কোনো প্রার্থী এদের সমস্যার কারণে আবেদনে অসমর্থ হলে তার ব্যবস্থাও পিএসসি নেবে।

সমস্যাটা টেলিটকের, এটা খুবই স্পষ্ট। যেটা দেখা গেল, অনেকের অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলেও টেলিটক টাকা নিতে পারেনি। এটা কেবল শেষ দিনই নয়; শেষ সপ্তাহ থেকেই টেলিটকে টাকা পাঠাতে প্রার্থীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর শেষ দু’দিন তো এই সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর টাকা নিতেই পারেনি। বিসিএসে আহামরি সংখ্যায় কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করেননি। গত ৩১তম বিসিএসে এক লাখ ৬৪ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এবার ৩৩তম বিসিএসে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ আর বাকি সাড়ে এগারো হাজার যোগ করলে মোট সংখ্যা দুই লাখও ছাড়ায়নি। এই দুই লাখ সংখ্যাকেই সামলাতে ব্যর্থ হলো টেলিটক, অথচ টেলিটকের নিজেরই গ্রাহক সংখ্যা ১২ লাখ। যদিও বিসিএসের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়ায় টেলিটককে সংযুক্ত করা নিয়েই অনেকের অভিযোগ রয়েছে, যেহেতু এর অবকাঠামো ভালো নয় তার ওপর সারাদেশে নেই এর নেটওয়ার্ক। যদিও টেলিটক নাকি পিএসসিকে টাকা জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, এমনকি যারা মেসেজ পাঠিয়েছে কিন্তু টাকা নিতে পারেনি তাদের জন্যও অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল টেলিটক কিন্তু পিএসসি সময় বাড়াতে রাজি হয়নি। অথচ পিএসসি চাইলেই কয়েক দিন সময় বাড়াতে পারত।

প্রতিটি প্রার্থীর কাছে বিসিএস একটা স্বপ্ন। যে সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর বিষয়ে পিএসসি বলছে_ ‘আমাদের কিছুই করার নেই’ তাদের এক বছর নষ্ট করার অধিকার পিএসসির নেই। তাদের মধ্যে হয়তো এমন অনেকে আছে যার বয়স এবারই শেষ। অবশ্য এর চেয়ে বড় বিষয় হলো তাদের নিজেদের কোনো দোষ নেই বরং কর্তৃপক্ষের কারণেই সঠিকভাবে আবেদন করতে পারেননি। বলা যেতে পারে, দীর্ঘ এক মাস সময় থাকলেও শেষের দিকে আবেদন করার কী আছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর আর সার্টিফিকেটের সাল, পরীক্ষার নম্বর চাওয়া হয়েছিল_ এসব সংগ্রহ করতেও দেরি হতে পারে কিংবা অনেকের ইন্টারনেট সংযোগই নেই বা টেলিটক সিম নেই, সে ক্ষেত্রেও দেরি হতে পারে।

আর এটা পিএসসির ৭ তারিখের পরপর বা এর আগেই বোঝা উচিত ছিল। সাড়ে এগারো হাজার প্রার্থী কম কোনো সংখ্যা নয়। এত শিক্ষার্থী কোথায় যাবেন? ফলে প্রতিদিনই তারা আন্দোলন করছেন; সংবাদ সম্মেলন করছেন, মানববন্ধন করছেন, বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে। ুপিএসসি আর টেলিটকের কারিগরি সমস্যা আর অগ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের দায় শিক্ষার্থীরা নিতে পারেন না। পিএসসিকে অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত, এবারই যেহেতু প্রথম অনলাইন আবেদন হচ্ছে পিএসসি অন্তত এবারের জন্য ছাড় দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সবাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করেছেন। এখনও হয়তো পিএসসি চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই বঞ্চিত প্রার্থীদের একটা ব্যবস্থা করতে পারে_ যেহেতু তারা আবেদন করেছেন এবং আবেদনপত্র পিএসসি-টেলিটকের সার্ভারে আছে।