ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

June_1272000942_1-marbale_boat

বেইজিং এর সামার প্যালেস দেখে ফেরার পথে ক্যাব এর জন্য দাঁড়িয়ে আছি। দু’একটা প্রাইভেট কার আমাদের অনেক অনুরোধ করার পর শেষ পর্যন্ত আমরা একটাতে উঠলাম । লোকটা অনেক গল্প করছিল বিভিন্ন স্হান চেনাচ্ছিল। আমরা খুশি! যাক, একটা শোফার কাম গাইড পাওয়া তো সোজা নয়। সে বারবার বলছিল যানজট বেশি তাই ভাড়া বেশি উঠছে মিটারে। কিন্ত দেখলাম যাবার সময়ের চেয়ে কমই। হোটেলের কাছে এসে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে বলল, আর যাওয়া যাবে না এটা ওয়ান ওয়ে। ভাড়া উঠেছে ৬৪ ইউয়ান। আমাদের কাছে আছে ৫২ ইউয়ান খুচরা। তাই একটা ১০০ ইউয়ানের নোট দিলাম। লোকটা মিনিটের মধ্যেই টাকাটা ফেরত দিয়ে বলল, ‘আমার কাছে ভাংতি নেই। তোমাদের কাছে যে ভাংতি টাকা আছে সেটাই দাও। তাড়াতাড়ি কর পুলিশ আসবে ‘।

আমারা খুবই অবাক হোলাম তার এই ভদ্রতায়। একবার ব্যাংকক এয়ারপোর্টে ১০ বাথ কম পরায় আমাদের ৫০০ বাথ ভাংতি করতে যে কী পেরেশান হতে হয়েছিল! ড্রাইভার কিছুতেই ১০ বাথ কম নেবেনা। বারবার সে আমাদের মিটার দেখাচ্ছিল, পরে ১ বাঙালি ভাই আমাদের সে বার উদ্ধার করে। পরে ভিতরে ঢুকে ডিউটি ফ্রি শপ থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে তার ১০ বাথ শোধ হলো।

যাক! রাতে হোটেলের বিল মেটাতে গিয়ে দেখা গেল ১০০ ইউয়ান জাল। কোথা থেকে আসলো ভেবেই আকুল। রাত তখন ১১টা। পরদিন সকাল নয়টায় প্লেন ৭টায় রওনা দেব। ট্যাক্সির ভাড়াও এডভান্স দেয়া। রাতে পিকিং ডাক খেতে গিয়েছিলাম সেখানেও টাকা পয়সার কোনো আদানপ্রদান হয়নি। যা বিল হয়েছিল তাই দিয়েছি। ব্যংক সবসময় ১০০ ইঊয়ানের নোটই দিত। ব্যাংক অব চায়না তো আর জাল নোট দেবে না। হোটেলে প্রথমদিনই ১০০ইউয়ান এডভান্স রেখেছিল, ওটাও কেটে রাখবে না যাবার সময় ফেরত দেবে। হাতে আছে ৭৫ ইউয়ান আর ডলার, ক্র্রেডিট কার্ড। হোটেল আমার সাহেবের পাসপোর্টটা জমা রেখে আমাদেরটা ফেরত দিল। এটা তার জন্য খুবই ইজ্জতের প্রশ্ন ! এখন ডলার ভাঙালে বাকী টাকা এই রাতে কোথায় খরচ করবো? 

আর স্বামী-স্ত্রী দু’জনই ভাবছিলাম এ টাকার সোর্স কী? অনেকক্ষণ পরে মনে হলো সেই ট্যাক্সি ড্রাইভারটাই খুবই দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে আমাদের টাকাটা বদলে দিয়েছিল!!