ক্যাটেগরিঃ সুরের ভুবন

 

গান হৃদয়ের কথা বলে। প্রকৃতি, দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলে। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের আধুনিক, ব্যান্ড ও রক গানের কথাগুলো একটু ভালভাবে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন যে আমরা একটা জায়গায় এসে আটকে গেছি । আমরা যেন নর-নারীর প্রেম ছাড়া বেশি কিছু ভাবতেই পারছি না। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা গানের কথার সাথে উপযুক্ত দৃশ্যায়নের কথা ভুলে গেছি। বেশিরভাগ মিউজিক ভিডিওগুলো অনুকরণ প্রথায় চলছে। হঠাৎ একটি গান হিট করলো, পরবর্তীতে অনেকেই যে কোন ধরনের গানের সাথে সেরকম দৃশ্য জুড়ে দেন। যেমন কোন একটি সময়ে একটা সুপারহিট গানে মডেল ক্যামেরা নিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে দেখি। গানের মানের জন্য দর্শক ভিডিওটিকেও অনেক পছন্দ করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে মডেলদের হাতে অকারণে ক্যামারা নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। সত্যি বলতে সৃষ্টিশীল কাজ খুব কম হচ্ছে ।

সুর থেকে বাজনাতে গুরুত্ব বেশি দেয়া হচ্ছে । যা একটা সুরেলা গানকেও খারাপ করে দিচ্ছে । আবার একদম বেসুরো কোন গানে দুমদাম ড্রামস বাজছে। সিনিয়র অনেক শিল্পীরা এখনও ভাল গেয়ে থাকেন। আমি অবাক হই যখন দেখি তাদের সুন্দর গানে অসুন্দর বাজনা বাজে। ক’দিন আগে এক জনপ্রিয় শিল্পীর ধীর গতির কোন গানে উচ্চগতির ড্রামস বাজতে দেখে কষ্ট পাই। কথা, সুর, কন্ঠ ও যন্ত্রের সম্মিলনেই একটা গান পরিপূর্ণতা পেতে পারে।

ওস্তাদবিহীন অনেক শিল্পী শিল্পের কদর করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। একাই সব করছেন। নিজে নিজেই ওস্তাদি করছেন সবকিছু। স্বীকার করতে হবে যে প্রতিভাবান অনেকেই নিজেদেরকে শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নতুনরা যখন তাদেরকে অনুকরণ করে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় তখন তা সত্যিই হাস্যকর। গানের মান কমলেও গান তৈরি হওয়া কিন্তু কমছে না। আমরা জানি যে এ সময়ে সংগীতের বাজার ভাল যাচ্ছে না । কপিরাইটের ঝুট-ঝামেলা এবং ইন্টারনেটের সহজ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ডাউনলোড রীতির জন্য শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ জন্য ব্যক্তিগত এলবাম করতে সাহস পাচ্ছেন না গুণী-শিল্পীগণ। তাই কেউ কেউ মোবাইল সিম কোম্পানি ও ইউটিউবের দ্বারস্থ হচ্ছেন। যা শিল্পের উন্নয়নের সীমাবদ্ধতাকেই ইঙ্গিত করে।

স্বাধীনতার পর থেকে নব্বই দশকের শেষ পর্যন্ত আমাদের খুব ভাল একটা সময় গেছে । ২০০০ সালের পর সংগীতে বিশেষ করে ব্যান্ড সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এটা ছিল দ্বিতীয় এক জোয়ার। হাবিব, বাপ্পা মজুমদার, বালাম, ন্যান্সি, হৃদয়খান, আরেফিন রুমি ও অন্যান্য প্রতিভাবানদের পাই আমরা। দুঃখের বিষয় একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসে আমরা ধীরে ধীরে সংগীতের সেই স্বাদ হারাতে থাকি। খুব বেশি বা চোখে পড়ার মতো ভাল কাজ হচ্ছে না। তবু আমরা আশা রাখি। হয়তো আরেকটি পরিবর্তন আসবে সংগীতের জগতে। নতুন করে হয়তো আবার কেউ কেউ হাল ধরতে থাকবে। বাংলা গানে সুদিন আসুক এটা আমাদের সবার প্রতাশ্যা।