ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আমি ইদানিং বাংলাভিশনে একটা নাটক দেখছি, নাম “লংমার্চ”। নাটকটি লংমার্চ নামক একটা প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রকে ঘিরে রচিত। এখানে দেখা গেল এক সৃজনশীল পরিচালক কঠোর পরিশ্রম দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভা সংগ্রহ করছেন। এর পর তাদেরকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। এখানে তার আনন্দ ছিল একমাত্র তার প্রতিভাদের সাফল্য। কিন্তু হুট করে মূর্খ ডোনার এই পরিচালক কে হটিয়ে এক তেলবাজকে পরিচালক বানাল। কিন্তু অল্প দিনের ভেতরই সে তার জাত চেনাতে সক্ষম হল! স্বাভাবিক ভাবেই সবাই ছিল ক্ষুদ্ধ, সুতরাং সঙ্গত কারনেই এল পরিবর্তন। এভাবে দেখা গেল পরিবর্তনের পর পরিবর্তন হয়েই চলেছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের আসল যে লক্ষ্য সেটার দিকে কারোই ভ্রূক্ষেপ নেই! সুতরাং পরিচালক আসছে, পরিচালক যাচ্ছে। সবাই নিজস্ব ধ্যান ধারণা থেকে কাজ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু কেউই সেই প্রথম পরিচালক যার নিজস্ব চিন্তা চেতনায় গড়ে উঠেছিল প্রতিষ্ঠানটি, তার মত করে নিজেদের কার্যকলাপের দ্বারা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কোনই ভূমিকা রাখতে পারছেনা। শুধু নতুন কিছু আইন হচ্ছে কিছু প্রতিবাদি কণ্ঠকে দমনের উদ্দেশ্যে! সুতরাং প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্রটি পরিণত হল কিছু চিড়িয়াদের আখড়ায়! এখানে দায়ী কে মূর্খ ক্ষমতাধর ডোনার নাকি দুর্বল প্রতিভাবানেরা?

এখন আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে! কিছু সৎ ত্যাগী নেতাদের কঠোর পরিশ্রমের ফল ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ নামক প্রতিষ্ঠানটির! যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের কিছু মহান নেতারা এনে দিয়েছিল বাংলার স্বাধীনতা, আমাদের বাঙ্গালি জাতিকে একটা আলাদা জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বিশ্বের দরবারে, আজ আমরা সেই লক্ষের কতোটা কাছাকাছি আছি? আমরা কাছা কাছি যেতে পারছিনা কারণ আমাদের সেই পরিচালক আর নেই যার উদ্দেশ্য ছিল একটা সুন্দর সৃজনশীল জাতি গড়ে তোলা! যুগে যুগে সুবিধাবাদীরা আসছে যাচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশ নামক প্রতিষ্ঠানের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। তারা নতুন নতুন নিয়ম করছে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নে আর তাদের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাদের তেল দেয়াতে। তাদের কর্মকাণ্ড তাই বাংলাদেশ নামক প্রতিষ্ঠানের কোন কাজেই লাগছে না! তাই আমরা বাংলাদেশের সৃষ্টির লক্ষ্য থেকে আজ অনেক দূরে। বাংলার জনগণকে যদি মূর্খ সেই ক্ষমতাধর ডোনারের সাথে তুলনা করি তাহলে হয়ত অনেকেই আমাকে একটা জাতিকে হেয় করে কথা বলছি বলে গালমন্দ করবেন! কিন্তু আমরা জেনে শুনে বার বার একই ভুল করছি, প্রতিবারেই ধরে এনে বসাচ্ছি কিছু অযোগ্য, সুবিধাবাদী তেলবাজদের! যদিও আমরা জানি এইসব বসন্তের পাখিরা দেশ পরিচালনার ন্যূনতম যোগ্যতা রাখেনা! তারা শুধু জানে নিজস্ব ধ্যানধারণাকে জনগণের উপর চাপিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটতে। দেশ রসাতলে গেল কিনা সেগুলো নিয়ে তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই! এতসব দেখে, জেনে বুঝেও একই গোত্রের লোকদেরকেই আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েই যাচ্ছি! এদেরকে একই শ্রেণিভুক্ত বলছি এই কারনে যে ওদের বাইরের রূপটাই কেবল বদলায়, কিন্তু ভেতরের সত্তাটা একই! জেনে বুঝে এইসব সুবিধাবাদীদের হাতে দেশ পরিচালনার ভার দেয়া আর নিজের পায়ে কুড়াল মারার ভেতর মৌলিক পার্থক্য নেই! আর মূর্খ না হলে কেউ এই কাজটি করবেনা! আদর্শ দেশ গড়তে হলে আমাদের অনেক বেশি সচেতন হাওয়াটা জরুরী! অযোগ্য, সুবিধাবাদীদের হাতে দেশ পরিচালনার ভার না দিয়ে খুঁজে বের করতে হবে সঠিক এবং যোগ্য কাণ্ডারি, যার নেতৃত্ব দেশকে পৌঁছে দিতে পাড়বে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে! তা না হলে আমাদের ভরাডুবি কেউই ঠেকাতে পারবেনা!