ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

শেয়ার বাজার নিয়ে এখন পর্যন্ত অনেক লিখা, আলোচনা, বিশ্লেষণ, বিশেষজ্ঞের মতামত আমরা দেখেছি। তাই এব্যাপারে কোন গভীর পর্যালোচনায় যেতে চাইছি না। আর আমি অর্থনীতিবিদও না, তাই এ বিষয়ে আমার আলোচনাটা খুব একটা জমবে না। তবে আমাদের অর্থমন্ত্রীর অর্থহীন মন্তব্য বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পরেনা! উনি শেয়ার বাজারের রমরমা অবস্থায় বলেছিলেন আপনারা বিনিয়োগ করুন। এক রকম ডেকে এনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারীদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করালেন। এখন যখন উনাদের পীর দরবেশেরা বাজার থেকে টাকা পয়সা তুলে নিয়ে শটকে পড়েছেন তখন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়ার কাজটা করতে মোটেও ভুল করছেন না আমাদের অর্থমন্ত্রী (মিঃ রাবিশ)! একবার বলেছেন বিনিয়োগকারীরা ফাটকাবাজ, এর পর বললেন এই শেয়ারবাজার দুষ্টু শেয়ারবাজার, শেয়ার বাজার ধংশ হয়ে গেলেও দেশের কোন ক্ষতি এ হবে না! এখন আপনি ডেকে এনে আমাকে বললেন বিনিয়োগ করতে, আমি আপনার কথায় ভরসা রেখে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিলাম, আর আজ যখন আপনাদের আশীর্বাদ পুষ্ট কিছু পীর দরবেশ মার্কেটের সব টাকা নিয়ে লাপাত্তা, তখন আপনি আমাকেই গালমন্দ করছেন!

আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখানে ফটকাবাজিটা কে করল মাননীয় মিঃ রাবিশ! ধরে নিলাম আপনি কিছুই জানেন না এই ব্যাপারে, কিন্তু আপনি যে পদে আসীন সেখানে থেকে না জানাটা অপরাধের পর্যায়ে পরে! একজন অর্থনীতিবিদ হিসাবে, শেয়ার বাজারকে এতটা উপেক্ষা যিনি করতে পারেন তার জ্ঞানের গভীরতা কতোটা সেটা সহজেই অনুমেয়! আমি উনার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে মোটেও সন্দিহান না, কিন্তু বয়সের ভারে উনার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছিনা! এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে কি আর কোন অর্থনীতিবিদ নেই যিনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। নাকি এমন একজনকেই আমাদের মেনে নিতে হবে যিনি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় বসে সেই জনগণকেই রাবিশ বলেন! উনি কি জানেন জনপ্রতিনিধি শব্দের মানে কি? জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে জনগণকে অসম্মান করে কথা বলাটা অপরাধের পর্যায়ে পরে! উনার জানা উচিত একটা দেশের অর্থনীতি ভাল যাচ্ছে নাকি খারাপ যাচ্ছে সেটা সেই দেশের শেয়ার বাজার দেখে অনুমান করা যায়! নিজের দক্ষতা দিয়ে দেশের কোন উপকারে আসতে পাড়ছেন না, সেটা মেনে নিলেও দেশের কোন ক্ষতি হয় এমন কোন বক্তব্য দিবেন সেটা কিন্তু সাধারন মানুষ মেনে নিবে না। এছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে উনার কর্মকাণ্ড দেশকে কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে সহজেই অনুমেয়! কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের যে বিরাট বাজার রয়েছে আজ সেটাই হুমকির মুখে! এখানে যদিও মার্কিনিরা ভিন্ন কারণ দেখিয়েছে, কিন্তু এখানে যে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ইউনুস একটা বড় কারণ সেটা বুঝার মত বুদ্ধি সাধারন জনগণের আছে! একজন অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা কি এবং সে কতোটা সফল সেটা বুঝা যায় দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা দেখেই। আমাদের দেশের দুটি প্রধান খাত আজ যখন হুমকির মুখে, সেখানে একই ব্যক্তিকে ধরে রাখাটা কতোটা যুক্তিযুক্ত সেটা আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভাল বলতে পারবেন। আসলে অর্থমন্ত্রী করতে হবে সুস্থ স্বাভাবিক দক্ষ কাউকে! এমন রগচটা, দূরদৃষ্টির অভাব কাউকে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখাটা অর্থহীন! আর যদি এমন অসুস্থ কাউকে দিয়েই আমাদের অর্থমন্ত্রণালয় চালাতে হয় তাহলে আমাদের অর্থনীতির রুগ্নদশা কাটার সম্ভবনা ক্ষীণ!