ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

প্রফেসর ইউনুসকে বলা যায় স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র, কারণ তার কল্যাণেই স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কারটি এসেছে। তাই তাকে নিয়ে যেমন আমরা গর্বিত তেমনি ভাবে আমাদেরকে এই সম্মানের অংশীদার করার জন্য আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ! স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলে বঙ্গবন্ধু আর স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশকে দিয়েছিলেন ইউনুস! বাংলাদেশের এইসব শ্রেষ্ঠ সন্তানকে নিয়ে আমরা অবশ্যই গর্বিত।

২০০৬ সালে প্রফেসর ইউনুসের যখন নোবেল জিতলেন তখন সবাই সেই গর্বে গর্বিত হয়েছিলেন কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে যখন ১\১১ পরবর্তী সরকারের সময়ে ইউনুস সাহেব দল গঠনের ঘোষণা দিলেন! তখন আমাদের রাজনীতিকরা সবাই জোটবদ্ধ ভাবে বলতে লাগলেন যে রাজনীতিতে এসে উনার মতো মানুষের বিতর্কিত হওয়াটা ঠিক হবে না! পরোক্ষভাবে রাজনীতিকরা স্বীকার করে নিলেন যে উনাদের কার্যকলাপ সব সময়ই বিতর্কিত! কারণ উনারা কেউই চাননি যে তাদের সাজানো বাগানে আর কেউ ঢুকে পড়ুক! উনাদের ঐ মন্তব্যের জালে জর্জরিত হয়ে ইউনুস কিছুটা হোঁচট খেলেন কিনা জানিনা, উনি সরে দাঁড়ালেন উনার অবস্থান থেকে! কিন্তু তার ঐ ইচ্ছাটাই কাল হল বাংলাদেশের জন্য! কারণ তিনি ঐ ইচ্ছাটা না করলে আজকে গ্রামীণ ব্যাংক মহাজনদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হতো না, ইউনুসও একজন মহাজনে পরিণত হতেন না! কারণ এমন অসংখ্য মহাজনি সংস্থা বাংলাদেশে আছে কিন্তু কারো ব্যাপারেই সরকার বা সাধারণ মানুষের মাথা ব্যথা নেই, সব ব্যথা গ্রামীণ ব্যাংক কে নিয়ে! আমি ব্যক্তিগতভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যকলাপ বা এনজিও গুলোর কার্যকলাপ পছন্দ করিনা, কারণ ওদের দেয়া ঋণের ফাঁদে পা দিলে আর কারোই বেরিয়ে আসার উপায় নেই! এ যেন একমুখী রাস্তা! যাই হোক রাজনীতিতে নামার উচ্চাকাঙ্ক্ষার মূল্য প্রতি পদে পদে দিতে হয়েছে ইউনুসকে! যদিও সরকার এতটা প্রতিহিংসা পরায়ন না হলেও পারতো! কারণ ইউনুস কারো ব্যক্তিগত শত্রু ছিলেন না! আর সরকার যে কারণ দেখিয়ে উনাকে সরালেন সেটা খুবই অনৈতিক কারণ বিশ্বের সব দেশ যেখানে প্রতিভাবানদের ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করে সেখানে আমাদের সরকার শুধু তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে উনাকে সরিয়ে দিলেন! আর এক গ্রামীণ ব্যাংকের সাথেই জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ! সুতরাং ইউনুসকে সরাতে গিয়ে কোটি মানুষের ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ফেলে দিলেন কিনা সেটা ভাবাও সরকারের দায়িত্বের ভেতর পরে! সরকারের ভেতরই এমন অনেকেই আছেন যাদের বয়স সক্ষমতার সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই! এখানে অবশ্য সরকারের দূরদৃষ্টির অভাবটাই দায়ী! উনারা কেউ কেউ প্রতিহিংসা পরায়ন হিসাবে অনেকদিন ধরেই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন! আমরা অনেকদিন সরকারের কার্যকলাপ দেখেছি গ্রামীণ ব্যাংক এবং ইউনুসকে নিয়ে, এখন মনে হচ্ছে ইউনুস সাহেবও নিজের পায়ে বল পেয়েছেন! জানিনা পদ্মার ঋণ চুক্তি বাতিলের পেছনে ইউনুসের লেজে পা দেয়াটা কতোটা ভূমিকা রেখেছে, কিন্তু আজ যখন দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পণ্য যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা আসছে তখন হয়তো কিছুটা হলেও অনুমান করা যায় যে সাপের লেজ দিয়ে কান চুলকানোর ফল যে কতোটা ভয়ংকর হতে পারে তা মনে হয় আমাদের অপরিণামদর্শী নেতৃবৃন্দ বুঝতে পারেনি! তবে আমার প্রশ্ন একটা ভিন্ন প্রসঙ্গে সেটা হচ্ছে ধরে নিলাম কিছু মূর্খ অপরিণামদর্শী নেতানেত্রীর জিঘাংসার শিকার হলেন ডঃ ইউনুস, আর ডঃ ইউনুসের ক্ষমতার দৌড় দেখাতে একের পর এক চাপ আসছে আমাদের অর্থনীতির উপর ; উভয় ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কারা ইউনুস, বর্তমান সরকারের নেতানেত্রীরা নাকি বাংলাদেশ?

ধরে নিলাম আমাদের নেতাদের কোন নীতি নেই, তারা যে থালায় খায় সেটাই নষ্ট করে কিন্তু ইউনুস তো একজন বিজ্ঞ মানুষ; দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান; উনি কি পারতেন না একটু মহৎ হতে? কামড় খেয়ে ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমতার দাপট ঠিকই দেখানো যায়, কিন্তু কামড়ের বিষ কাকে ভোগাচ্ছে সেটা ভাবে কে? যারা মাঠে খেলতে নামে তাদের জন্য গোল দেয়াটাই বড় ব্যাপার, কিন্তু লাথি গুলো কিন্তু সব বলের গায়েই লাগে আর মাঠের বুক ঝাঁজরা হয় খেলোয়াড়ের বুটের আঘাতে! কিন্তু এই বল আর মাঠ ছাড়া খেলাটা অসম্ভব! বাংলাদেশ আর বাংলার মানুষ যেন তাদের কাছে মাঠ আর বলে পরিণত হয়েছে! গোল দেয়ার আনন্দ শুধুই তাদের আর খেলা শেষ হলেই আনন্দিত হবে বল আর মাঠ কারণ তখন আর লাথি দেয়ারও কেউ থাকবেনা বুকের উপর দিয়ে বুট পরে কেউ দৌড়াবেও না। যারাই দেশের ভাগ্য নিয়ে এই নিষ্ঠুর খেলায় মেতেছেন তাদেরকে বলব দয়া করে আমাদেরকে একটু মুক্তি দিন, আমাদের বাঁচতে দিন, আমার সোনার বাংলা আপনাদের প্রতিহিংসার বানে বিদ্ধ।