ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজ তারেকের জন্মদিন! তিনি ১৯৬৭ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন! মমতাময়ী মা হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া প্রবাসে অবস্থানকারী সন্তানের জন্মদিন পালন করছেন মহাসমারোহে! ছেলের প্রতি মায়ের এই ভালোবাসাটাই কাম্য! কিন্তু উনার গতকালের প্রতিজ্ঞার সাথে কথিত দুর্নীতিবাজ পুত্রের পক্ষে সাফাই গাওয়া এবং ভবিষ্যত নেতৃত্ব তারেকের মত দুর্নীতিবাজ, কুচক্রীর হাতে তুলে দিতে চেয়ে কি উনি স্ববিরোধী বক্তব্যই দিলেন না? উনি বলেছেন আর একটা সুযোগ দিতে উনি দেশের চেহারা পাল্টে দিবেন! এখন প্রশ্ন হচ্ছে উনি দেশের চেহারা পাল্টে দেশকে কোন অবস্থানে নিতে চান, সেটাই আমরা জানতে চাই! উনার অতীতের কোন কোন পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় উনি দেশকে বদলে দিবেন সেটা জানার খুব ইচ্ছা জাগে! উনি তো একবার একবার করে মোট দুইবার কিন্তু একদিনের সংসদকে হিসাবে ধরলে তিন তিন বার সুযোগ পেলেন, সেই সুযোগে উনি দেশের জন্য কতটা করেছেন সেটাই উনার আগে পর্যালোচনা করা উচিত! উনার বক্তব্যের সাথে লাঞ্চ অন গল্পের লেখকের ভক্তের কথাটা মনে পড়ে গেল, যে কিনা একবারে একটার বেশি আইটেম খান না! লেখক ভেবেছিলেন তাহলে তো লাঞ্চ করাতে তার খুব বেশি খরচ হবে না, কিন্তু উনিযে কতটা খান সেটা লেখক টের পেলেন যখন উনাকে বিল মিটাতে গিয়ে নিজের হাত ঘড়িটাও দিয়ে আসতে হয়েছিল! বেগম খালেদা জিয়া কি লেখকের সেই ভক্তের মতই একটার পর একটা সুযোগ খুজছেন, যার দায় মিটাতে গিয়ে আমাদেরকে সর্বশান্ত হতে হবে নাকি আমাদেরকে উনি সত্তিই দিন বদলের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন! একজন তো দিন বদলের স্বপ্ন দেখিয়ে আমাদেরকে দেখালেন তিন বছরে শেয়ার বাজার কিভাবে কোটি মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিতে পারে, কিভাবে পদ্মা সেতুর নামে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে, কিভাবে সম্মানী মানুষের সম্মান হরণের নোংরামির রাজনীতি হয়, আমরা এও দেখলাম কিভাবে কালোবিড়ালের থলে থেকে কোটি টাকা বের হয়! ভালো যে কিছুই হয়নি সেটা বলবনা কিন্তু এইসব বহুল আলোচিত নিন্দনীয় কাজ শুধুমাত্র আন্তরিকতার অভাবেই সংঘটিত হয়েছে! সেখানে জনগনের মতামতকে থোরাই কেয়ার করা হয়েছে! তাই নিন্দিত কাজ গুলো নন্দিত অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে!

বেগম জিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের সরকার বিরোধী কোন পদক্ষেপটা এইসব সমস্যা সমাধানের জন্য ছিল? শেয়ার বাজারের ধ্বস নেমে যখন কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে এলো, অনশন করলো, উনি তখন কোথায় ছিলেন? পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার যখন বিশ্ব বাঙ্কের দেয়া শর্ত পালন করতে খামখেয়ালিপনা করছিল তখন উনার জ্বালাময়ী বক্তৃতা কোথায় ছিল! যখন প্রফেসর ইউনুসকে নিয়ে সরকারের কিছু কর্তা বেক্তি নিজেরদের খেয়াল খুশি মত কাজ করে যাচ্ছিলেন, তখন উনারা কি ঘুমাচ্ছিলেন? উনি যে আন্দোলন করেননি সেটা বললে উনার প্রতি অবিচার করা হয়ে যাবে! উনি আন্দোলন করেছেন যখন উনাকে উনার সাধের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দেয়া হলো, যখন ইলিয়াস আলীকে গুম করা হলো উনিও ৮-১০ জন নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মারলেন, সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাঙ্গার নির্দেশ দিলেন! তাহলে দেখার বিষয় উনার কোন পদক্ষেপটা জনগনের পক্ষে ছিল? উনার মহাসচিব বললেন জনগনের পক্ষে কথা বললে নাকি সারা পাওয়া যায়না! তাই উনারা জনগনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করেননি! জনগনকে উনারা গাধা পেয়েছেন তাই যা বুঝবেন জনগণ তাই বুঝবে! উনার সব পদক্ষেপ ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে আর নিজের এবং নিজ দলীয় নেতাদের রক্ষা করতে! তাহলে এইসব পদক্ষেপ যার সাথে জনগনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই তাকে কি জনবিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই বলা যায়! এখন প্রশ্ন হচ্ছে যার চিন্তাতে নিজের এবং নিজ দলীয় লোকজনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তার পক্ষে কি দেশ সেবা করা আদৌ সম্ভব? বর্তমান সরকারের কার্যকলাপে দেশে আবার একটা পরিবর্তন জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে! কিন্তু এই পরিবর্তনের জন্যে তারেকের মত দুর্নীতিবাজের হাতে দেশের ক্ষমতা দেয়া আর শেয়ালের কাছে মুরগি বাগী দেয়া এক কথা নয় কি? আমি সুধু ভাবি হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করলে আসলে দেশের তত বড় ক্ষতি হত না যদি সেই টাকায় দেশের ভেতরেই কিছু কলকারখানা হত, তাতে অন্তত দেশের কয়েক লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হত, সুতরাং মালিকানা যারই থাকুক অন্তত ওই দুর্নীতি দেশের মানুষের ক্ষতি করতে পারত না! কিন্তু চুরির টাকা রক্ষা করতে গিয়ে যখন টাকা গুলো দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায় তখন দেশ সুধু তলাবিহীন ঝুড়িতেই পরিনত হতে থাকে! আর যারা এই কাজে সিদ্ধহস্ত তাদের হাতে দেশকে তুলে দেয়া আর নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা একই কথা! পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা কোনদিন শেষ হবেনা যতদিন পর্যন্ত না এইসব দুর্নীতিবাজ চিরতরে দেশ থেকে বিদায় নিবে! এখন শুধু স্বপ্নের ফেরিওলাদেরকে একটাই পরামর্শ দেয়ার আছে দেশকে পরিবর্তনের চেষ্টা করার আগের নিজেদেরকে পরিবর্তনের চেষ্টা করুন, তাতে লাভ আপনাদেরই বেশি! মায়ের ভালবাসায় অন্ধ না হয়ে বেগম জিয়া যদি আজ সন্তানকে সুদ্ধ করতে সৎ কোনো পরামর্শ দিতেন তাহলে অন্তত পরিবর্তনের আভাসটা পাওয়া যেত!