ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সুলতান মির্জা লিখাটা যথেষ্ঠ তাত্পর্য পূর্ণ! উনার লিখার সাথে ব্লগারদের মন্তব্যগুলোও পরলাম! এখানে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে খেয়াল করলাম দেশের মানুষ সব কথার ভেতরই একটা দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভেবে তর্কে জড়িয়ে পরেন! তার মানে এখানের সবাই কোনো না কোনো দলের সমর্থক! কিন্তু কিছু সত্যি কথাতে সবারই সমর্থন থাকা উচিত নয়কি?

আমি স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের আলোবাতাসেই আমার বেড়ে উঠা! আমি দেখেছি স্বৈরাচারের শাসন! আমি দেখেছি স্বৈরাচার মুক্ত করার পর পরের সরকার গুলোর ভুমিকা! এখানে অনেক লেখকই কোন সরকারের আমলে কি কি ঘটেছে সেগুলো তুলে ধরেছেন! আমার জানা মতে এর কোনটাই মিথ্যা না! মিগ দুর্নীতি যেমন মিথ্যা না তেমনি মি খাম্বার হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিও মিথ্যা নয়! ধর্ষণের সেঞ্চুরি যেমন সত্যি দেশের ৫০০ স্থানে একসাথে বোমা হামলাও সত্যি! (এখানে একটু যোগ করতে চাই এই দিনটাকে বিশেষ করে, কারণ ১৭ই আগষ্ঠ আমি সুইডেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য মাত্র বোর্ডিং পাস নিলাম, বাইরে আমার বাবা মা দাড়িয়ে আমি ভেতর থেকে প্রচন্ড বোমা বিস্ফোরণের আওয়াজ পেলাম! সাথে সাথে আতঙ্কিত হল এই ভেবে যে আমার বাবা মা সুস্থ আছে তো? কিন্তু ফোন করে জানলাম উনারা সুস্থ আছেন! সে কথা শুনে আমি খুশি হলাম যে আমার মা বাবার কিছু হয়নি! তাই এই দিনটাকে আমি ভুলে যাব না)! রমনায় বোমা , ২১ শে আগষ্ঠের বোমা হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র, আহসানুল্লাহ মাস্টার, কিবরিয়া হত্যা যেমনি সত্যি, তেমনি ২১ খুনের মামলার আসামিকে ক্ষমা করে দেয়াও সত্যি! এখন শুধু আপনারা বলুন আপনারা এর কোনটাকে সমর্থন করেন? এর একটাও কি সমর্থন যোগ্য? ভাই আমরা ফরমালিন দেয়া তাজা জিনিস খুঁজে বেড়ায় বলেই আমাদের দেশে সব কিছুতে এখন ফরমালিন ব্যবহৃত হচ্ছে! তাই এইসব ফরমালিন যুক্ত রাজনীতিবিদেরাই কেবল টিকে থাকছে যুগযুগান্তরে! এদের হাত থেকে আমাদের কোনো মুক্তি নেই! এখানে হয়ত অনেকেই আমাকে ড: কামালের সমর্থক বলতে পারেন কারণ দুদিন আগেই উনি এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন! কিন্তু ভাই আমি সম্পূর্ণ নিজের চিন্তা থেকে কথা গুলো বলছি! আর আমার মনে হচ্ছে আমরা এদের কাছ থেকে মুক্তি চাইছি ও না! তা না হলে আমরা কি করে এইসব দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পরি!

আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর হতে চলল এরপরও আমরা এটা নির্ধারণ করতে পারিনি কে জাতির জনক, কে স্বাধীনতার ঘোষক আর কে রাজাকার! আমার মনে হয় রাজাকার প্রশ্নে আমাদের সবারই ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত যদি আমরা বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করি! আমি জামায়াতের রাজনীতির বিপক্ষে বলছি না, সেখানে শুধু বলছি জামায়াত যদি ১ কোটি মানুষের সমর্থিত দল হয় তাহলে জামায়াতে এইসব রাজাকারদের রাখার কি দরকার? তারা যদি সত্যি মানুষকে ধর্মের পথে ডেকে থাকে তাহলে এই দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষই তাদেরকে সমর্থন করবে! কিন্তু ধর্মকে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার বানাতে চাইলে তাদেরকে ছুড়ে ফেলে দিতেও মানুষ পিছপা হবেনা! আমার প্রশ্নটাও সুলতান মির্জার সাথে সহমতেরই, কিভাবে খালেদা জিয়া বলতে পারেন যে সাঈদী যদি যুদ্ধাপরাধী হয়, তাহলে আমরাও যুদ্ধাপরাধী! এটা বলে উনি একই সাথে যেমন নিজেকে হেয় করলেন তেমনি ভাবে হেয় করলেন জিয়া উর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদানকে! জিয়া নিঃসন্দেহে একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন! কিন্তু খালেদা উনার অজ্ঞতার কারণে কোনো অবস্থাতেই জিয়ার অবদানকে ছোট করতে পারেন না! কারণ আমাদের কাছে রাজাকাররা যেমন যুদ্ধ অপরাধী, তেমনি পাকিস্তানিদের কাছে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধ অপরাধী! তাই একমাত্র পাকিস্তানি দালাল চক্র ছাড়া আর কেউই আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ অপরাধী বলবেনা! ভাই আমাদের উচিত নতুন করে ভাবা, কাটা দিয়ে কাটা তোলা নয়! কোনো বের্থদের দিয়ে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা নয়! আমাদের স্বপ্ন হবে সুন্দরের,সবুজের, নতুনের! চলুন সবাই মিলে দালাল রাজাকারদেরকে না বলি; গত ২১ বছর ধরে ব্যর্থদের না বলি; স্বৈরাচারদেরকে না বলি, পরিবার তন্ত্রকে না বলি! কিন্তু কাকে হে বলব সেটাই প্রশ্ন! তবে মনে একটাই বল, পথ পথিককে তৈরী করেনা, পথিকই পথ তৈরী করে! আমরা যদি সত্যি পরিবর্থন চাই তাহলে দুদিন আগে আর পরে পরিবর্তন আসবেই!