ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বিশ্বজিতকে যেদিন প্রকাশ্যে কিছু রাজনৈতিক কুলাঙ্গার খুন করলো তখন সবাই বেস্ত ছিল একটা সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যকে কেমেরা বন্দী করতে! হয়ত এমন সুযোগ জীবনে পেয়েছে বলে অনেকে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারেন! সবাই সেদিন সফল হয়েছেন একটা সফল জীবন্ত দৃশ্যের চিত্রায়ন দেখে! আমাদের বড় বড় সাংবাদিক কলামিস্ট ভাইয়েরা পেয়ে গেছেন কিছুদিন চালানোর মত সুন্দর এবং আকর্ষনীয় একটা বিষয়! রাজনীতিতেও যে যার ফায়দার হিসাবটা ঠিকই মিলাতে তত্পর হয়ে উঠলো! কেউ কেউ হয়ত বলছেন একোন আজব দেশের আমরা বাস করছি যেখানে দিনে দুপুরে মানুষ খুনের ঘটনা ঘটছে! তাদের কথা শুনলে মনে হচ্ছে তারা সদ্য কোনো ভিন্নগ্রহ থেকে বাংলাদেশে মাত্র পদার্পণ করলেন! বাংলাদেশে এভাবে প্রকাশ্যে মানুষ খুনের ঘটনা দেখে দেখেই জীবনের ৩৫ বছর পার করে দিলাম তাই আমার কাছে এটা খুব একটা আজব ঘটনা মনে হয়নি! এত ভনিতা করার মানে একটাই, আমি কি পারব এই খুনের দায় এড়াতে?

আমার চোখের সামনে আমার ভাইয়েরা প্রতিনিয়ত বলি হচ্ছে কিছু রক্তচোষার বেক্তিগত সুবিধা বা ক্ষমতার বাহাদুরি জাহিরের অপচেষ্টার! সেখানে আমরা নিরবে হা করে সেগুলো দেখছি, কেউ কেউ আবার সুন্দর করে ভিডিও করে জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছি! সেখানে কি কিছু কুকুরের কামড়ানোটা আমরা সাধারণ মানুষ বিড়ালের মত লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করতে পেরেছি? যদি একটা জীবন বাচাতে কোনো ভূমিকাই রাখতে না পারি তাহলে মানুষ খুন হলে এত মায়া কান্না করে কি লাভ? বিশ্বজিতের সারাশরীর যখন রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছিল, যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল ছেলেটা, আর আমরা দাড়িয়ে দাড়িয়ে তামাশা দেখছিলাম তখন কোথায় ছিল আমাদের মানবতা? ওই রক্তচোষা জানোয়ারগুলোর সাথে একই অপরাধে কি আমরাও দোষী না? ধিক্কার জানাই আমার এই লোক দেখানো মানবতাকে!

আমাদের চেখের সামনে দিয়ে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে কত নাম না জানা বিশ্বজিত! প্রতিটা খুনের ঘটনার পরই আমাদের ঘুমন্ত মানবতা যেন আচমকা জেগে উঠে! কিছুদিন আমরা মজার বিষয়টাকে সুন্দর মশলা মাখিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে লিখি! কেউ কেউ উহ আহ শব্দ করে ভাবটা দেখান যেন তার গায়েও বেথাটা লেগেছে! এসব নিয়ে সভা সমাবেশ হচ্ছে, পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক হচ্ছে, চলছে গোল টেবিল আলোচনা! জীবনে যে ছেলেটা দর্জি দোকান ছাড়া আর কিছুই দেখলনা তাকেও রাজনৈতিক দলের কর্মী বানানোর মতো ধোকাবাজিও চলছে! কিন্তু এতকিছুর বিনিময়েও কি বিশ্বজিতকে ফিরে পাবে তার পরিবার? বিশ্বজিতের জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো আমাদের কাছে অজানাই রয়ে গেল! এভাবেই হারিয়ে যাবে হাজারো বিশ্বজিত, নুরহোসেন! তাদেরকে হতে হয় রাজনৈতিক অর্জনের গিনিপিগ! তাদের মৃত্যুতে যারা লাভবান হচ্ছেন তারা হয়ত কিছুটা কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তাদের জন্য একটা বিশেষ দিবস ঘোষণা করছেন, একটা সৌধ বানিয়ে কয়েকটা ফুল দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন! কিন্তু এইসব করলেই কি মায়ের বুকে ফিরে যাওয়া সম্ভব, যে চলে গেছে না ফেরার দেশে? আমরা কি এভাবেই হারিয়ে যেতে দেখব আমাদের হাজারো ভাই বন্ধুদের?
একটা মৃত্যু হয়ত আমাদের মতো কিছু কাপুরুষকে কিছুদিন কাদাবে! পরক্ষনেই আমরা ভুলে যাব! কিন্তু আমরা এই হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারবনা যতদিন না আমাদের নিজেদের কোমর সোজা করে মানুষের মতো দাড়াতে পারব! ভেঙ্গে দিতে দিতে পারব রক্তচোষাদের বিষ দাত! নিজের শক্তি সাহস যদি না থাকে এদেরকে রুখে দাড়ানোর, তাহলে মায়া কান্না অর্থহীন! হয়তো সময় এসেছে আমাদের ভেতরের ঘুমন্ত মানুষটাকে জাগিয়ে তোলার!