ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ইদানিং পত্রিকা খুললেই একটা ঘটনা যেন প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে, সেটা হলো ধর্ষণ নতুবা এসিড নিক্ষেপ! আজ বাংলাদেশে তো কাল ভারতে! এর সাথে চলন্ত বাসে ধর্ষণটা যেন ধর্ষনকে একটা শৈল্পিক রূপ দিয়েছে! তাই বেড়েই চলছে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা! আমাদের পত্রপত্রিকা এই ঘটনা গুলো বন্ধে কতটা সামাজিক সচেতনতা তৈরী করতে পারছে জানিনা, তবে কিছু কিছু পত্রিকা এইসব ঘটনাকে এমন রসিয়ে রসিয়ে প্রকাশ করছে তাতে মনে হয় অনেকেই রোমাঞ্চিত হয়েই এমন কিছু করতে অধিক উত্সাহিত হয়ে উঠে! আমার কিছু প্রশ্ন ওই যৌন নির্যাতনকারীর, নির্যাতন প্রচারকারীর (আমি আমাদের কিছু জনপ্রিয় দৈনিকের কথা বলছি যারা নিজেদের পত্রিকার কাটতির জন্য এইসব খবরকে শিরোনাম করে), আর নির্যাতকদের রক্ষাকারীদের (আমাদের প্রশাসন যারা সামান্য কিছু টাকার লোভের এহেন ঘৃণ্য কাজ নেই যা করতে না পারে) প্রতি!

১) ধর্ষণের আগে কি একবার তোমার মনে পড়ে নিজের মায়ের কথা, নিজের বোনের কথা?
২) ধর্ষণের ঘটনা লিখার আগে কি আমাদের পত্রিকা গুলোর এটুকু মনে পরে যে তারা একটি অসহায় নারীর জীবনকে আরো বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিনা? তাদের কি মনে পরে যে ওই মেয়েটার সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা কে করবে? তারা কি আদৌ পেড়েছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে?
৩) যে দেশ গত ২৩ বছর ধরে নারী নেতৃত্ব কায়েম আছে সেখানে একজন নারীর শ্লীলতাহানী কি আদৌ দুই নেত্রীকে বিচলিত অথবা বিব্রত করে?
৪) প্রশাসনের যারা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে আছেন তারা যখন সামান্য কিছু টাকার লোভে ঐসব নির্যাতকদের সাহায্য সহযোগিতা করছেন তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন যে তাদের ঘরের মা, বোনেরা ঐসব হায়নার লালসা থেকে কতটা নিরাপদ?
৫) যেসব আইনজীবিরা এইসব পশুদের পক্ষে সাফাই গাইতে কোর্টে গিয়ে দাঁড়ান তাদের কি কখনো মনে হয় যে তারা পতিতা বৃত্তির চেয়ে খুব ভালো কিছু করছেন কি-না? যেখানে টাকা আর খদ্দেরের মনোরঞ্জনই আসল কথা!

এইসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই! কারণ হচ্ছে এর বেশিরভাগ প্রশ্নেরই কোনো উত্তর নেই! তবে আমাদেরকে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবেনা! সমাধানের কিছু পথ বের করতে হবে! আমার ক্ষুদ্র মাথায় কিছু সমাধান এসেছে সেগুলো লিখছি, পারলে আপনার সমাধানটাও সংযোজন করুন!

১) ধর্ষকের লিঙ্গ কর্তন! সব নারীর নিজের সাথে একটা করে ধারালো ব্লেড রাখা জরুরি, যাতে সেটা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন! লিঙ্গ কর্তনের আরেকটা সুবিধা হলো ওই নরপশু তার বাকি জীবন নুপংশুক হয়ে কাটিয়ে দিবে আর নিজের কৃতকর্মের জন্য সর্বক্ষণ নিজের মরণ কামনা করবে!
২) ধর্ষনকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা এবং দ্রুত বিচারের অধীনে এর সমাধান করা!
৩) সাধারণ মানুষ যদি ধর্ষনকারীকে ধরতে পারে তাহলে যেন আগে তার লিঙ্গ কর্তন করে পরে পুলিশের কাছে দেয়!
৪) যেসব আইনজীবী ধর্ষনকারীদের আইনি সাহায্য দেয় সামাজিক ভাবে তাদেরকে বর্জন করা!
৫) জনগনের যান মালের নিরাপত্তার দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রের হয় তাহলে এর বের্থতার দায়িত্বও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে!
৬) তবে আমি ধর্ষনকারীর সাজা মৃত্যুদন্ড মানতে নারাজ! কারণ তারা যদি মরে যায় তাহলেতো সে বেচে গেল, কিন্তু লাঞ্চনার দায় ওই মেয়েটাকে একাই বহন করতে হবে সেটা হতে পারে না! ধর্ষকের শাস্তি হতে হবে এমন যাতে সে বেচে থাকে এক অসার জীবন নিয়ে, প্রতিমুহুর্তে যেন সে স্মরণ করে তার কাম তাকে কতটা পশু বানিয়েছিল!
৭) ধর্ষনকারীর পরিবারকেও সামাজিকভাবে বর্জন করা!
৮) যেসব পত্রিকা নিজেদের ব্যবসায়িক দিক দেখে এইসব খবর সংবাদ শিরোনাম করছে আর রসালো ভাবে উপস্থাপন করে সেগুলোকে বর্জন করা!
মাথায় আর কিছুই আসছেনা! তবে ধর্ষণের মত কোনো ঘটনা দেখলে, বা এসিড ছোরা দেখলে মনে হয় এখনি দেশে যাই নেমে পরি কিছু নরপশু বধের রাস্তায়!