ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আজকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একটা খবর দেখে রীতিমত আঁতকে উঠলাম। উনি বলছেন নোবেল কি করে আসে তা আমরা সবাই জানি! আমার কথা হচ্ছে নোবেল জয় করাটা যদি এতই সহজ একটা ব্যাপার হয়ে থাকে তাহলে মন্ত্রি মহোদয় কি চেষ্টা করে পারেন না দেশের জন্য আবারো নোবেল জয়ের সম্মান নিয়ে আসতে? আপনারা কাঁদা ছোড়াছুড়ি করে যতই মজা পাননা কেন, আমরা বাংলাদেশি হিসেবে কিন্তু নোবেল জয়টাকে গর্বের চোখেই দেখব, আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবেই দেখব নোবেল বিজয়ীকে! কারণ আমাদের অর্জন খুব একটা বেশি না, সুতরাং এত বড় অর্জন যেই বয়ে নিয়ে আনুক না কেন আমরা কিন্তু সে সম্মানকে পুরো জাতির জন্য সম্মানের ধরে নেব। একটা কথা মনে হয় আপনাদের কারোই ভুলে যাওয়া ঠিক না যে আপনারা সবার আগে বাংলাদেশী। আর যে বা যারা বাংলাদেশের অর্জনকে হেয় করে কথা বলে তারা আর যাই হোক দেশের কোন কল্যাণ তাদের দ্বারা সম্ভব নয়! আপনারা রাজনীতি বিষয়ে এক একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত হলেও কিন্তু বাংলাদেশের সব মানুষকে মূর্খ অথবা অন্ধ ভেবে underestimate না করলেই মনে হয় ভাল হবে। যেদিন থেকে প্রফেসর ইউনুস ঘোষণা দিয়েছিলেন যে উনি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখতে চান তখন হুট করেই আমাদের রাজনিতিকদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরল। তখন যে যেই দলেরই হোন না কেন সবাই এক সুরে বলতে লাগলেন রাজনীতিতে এসে ইউনুস সাহেবের বিতর্কিত না হওয়াই ভাল! এখানে নিজের অজান্তেই আপনারা একটা কথা স্বীকার করলেন যে রাজনীতিকরা সব সময়ই বিতর্কিত কাজে জড়িয়ে থাকেন! তবে আমার কাছে মনে হয়, আপনারা কেউই চাইছিলেন না যে আপনাদের সাজানো বাগানে আর কেউ ঢুকে পড়ুক! আপনারা তো কেউ মন্দ নেই, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ভাবছেন, আর বাকি পাঁচ বছর রাজপথে জনগণের নাম ভাঙ্গিয়ে জনস্বার্থ বলি দিয়ে করে যাচ্ছেন যত সব নৈরাজ্য! খুবই বহাল তবিয়তেই যাচ্ছে আপনাদের দিনকাল! আমি আপনাদের একটা পরামর্শ দেব দয়া করে রাতে ঘুমানোর আগে আয়নায় একবারের জন্য হলেও নিজের মুখটা দেখবেন, নিজের সারাদিনের কার্যক্রম গুলোকে পর্যবেক্ষণ করে নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন, আমি কি আসলেই মানুষ হিসাবে আমার যা করার কথা সেগুলো করতে পাড়ছি? যে জনগন আমাকে তাদের দেশ পরিচালনার মহান দায়িত্ব দিয়েছে তার কতভাগ আমি পূরণ করতে পেড়েছি? মানুষ হিসাবে আমার অর্জন কতটুকু? আর আমাদের জাতীয় সংসদ থেকে আমাদের সব সংসদ সদস্যদের আচরণ বিধি এবং তারা কি বলতে পারবে এবং কি বলতে পারবেনা তার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি! তা না হলে দেশ যখন বিশাল সমুদ্র সীমা অর্জন করল তখন বলবে এটা আমাদের জন্য অর্জন না বরং ক্ষতিকর, নোবেল জয়টাকেও ছোট করে দেখা শুরু করার মত কিছু ঘৃণ্য কাজ করতে কুণ্ঠা বোধ করবে না! যারা দেশের অর্জন নিয়ে ভাবে না যারা জাতীয় অর্জনকেও সমালোচনা করে তারা কি আসলেই দেশের কল্যাণ চায়? যারা এইসব কথা বলেন তাদেরকে বলব পারলে আপনার কথিত পন্থা অবলম্বন করে একটা নোবেল জয় করে দেখান!

আমরা আপনাদের ব্যক্তিগত জীবন কে মূল্যায়ন করতে চাইছি না, কিন্তু ভুলে যাবেন না যে আপনারা যখন আমাদের জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন আছেন, সে পদের অপমান করার অধিকার আপনাকে কেউই দেয়নি! যদি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে কিছু বলতে হয় তাহলে, আগে তাদের মত কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন আপনাদের থাকতে হবে! দেশ ও মায়ের জন্য আপনাদের কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু শুধু খালি খালি ঢোল বাজিয়ে নিজেদের প্রতিহিংসাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করবেন না! ইউনুস যদি সত্তর বছর বয়সে বুড়িয়ে গিয়ে থাকেন তাহলে আমাদের বর্তমান সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আসীন আছেন যাদের বয়স সত্তর ঊর্ধ্ব তাদেরকে নিয়ে আপনাদের ভাবনাটা কি? নাকি ইউনুস সাহেবকেই শুধু বয়সের চেয়ে বেশি বুড়ো লাগে? কারো যদি যোগ্যতা থাকে তাহলে সব দেশ যেখানে প্রতিভাবানদের ধরে রাখতে চায় সেখানে আপনারা পাঁচ বছরের ক্ষমতায় এতটাই অন্ধ হয়ে গেলেন যে উনাকে সরানোতেই যেন আপনাদের সব সফলতা এসে গেল! বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার সময় হানাদার বাহিনী আমাদের দেশের সব মেধা গুলোকে এমন ভাবেই শেষ করে দিয়ে গেছে যে এখন পর্যন্ত আমরা মাথ সোজা করে দাঁড়াতে পারছিনা। স্বাধীন উত্তর বাংলাদেশেকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু আর দুই হাজার সালে এসে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করিয়েছেন ইউনুস। সুতরাং একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে হেয় করার চেষ্টা করে নিজেদেরকে আর হাসির পাত্র করে তোলবেন না। আমাদের জাতীয় গর্ব, আমাদের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে সঠিকভাবে সম্মানিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আশাকরি যারা ইউনুসকে নিয়ে নিজেদের ভয়ে আছেন, যারা তাকে তাদের রাজনৈতিক জীবনের জন্য হুমকির বলে মনে করেন, তারা দেশের স্বার্থে তার পথকে আর কণ্টকময় করে তোলার মত ঘৃণ্য চেষ্টা করবেন না।।