ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অনেকদিন আগের একটা ছোট গল্প দিয়ে শুরু করছি। আমি গাজিপুরে আমার মামা বাড়িতে বেড়াতে যাব তাই, নানুর জন্য গুলিস্তান থেকে আঙুর কিনতে গেলাম। দোকানীকে জিজ্ঞাস করলাম আঙুর মিষ্টি হবে কিনা। সে বলল এখানে এর চেয়ে মিষ্টি আঙুর আরে নেই। তাই আঙুরের গুনাগুন যাচাই না করেই কিনে ফেললাম ১ কেজি আঙুর। কিন্তু কেনার পর কি মনে করে যেন একটা আঙুর মুখে দিয়ে দেখলাম খুবই টক। প্রতারিত হয়েছি ভেবে দোকানীকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি বলেছিলেন মিষ্টি হবে কিন্তু এখন দেখছি আঙুর গুলো খুবই টক। তখন সে পাশের তিনটা দোকান থেকে আঙুর এনে বলল আমার আঙুর টক হলে এগুলো কি? সেগুলো মুখে নিয়ে দেখলাম অখাদ্য, মুখে তুলতেই ফেলে দিতে হল! কারণ পাশের দোকানের আঙুর আরও বেশি টক! অন্যদের তুলনায় মিষ্টি (??) আঙুর নিতে পেড়েছি বলেই নিজেকে সফল মনে করে মনকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা!

আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি হচ্ছে আমার সেই মিষ্টি আঙুর খোঁজার মতই! কারণ আমাদের চারপাশে যেসব দোকানি মিষ্টি আঙুরের পসরা খুলে বসে আছেন সবাই অন্যদের তুলনায় মিষ্টি খাওয়াতে ব্যস্ত! তাদের নিজের পণ্য গুনাগুণের বিচারে কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা নিয়ে তাদের কারোই ভাবনা নেই! কারণ তারা জানে ক্রেতা যতই টক বলে আঙ্গুরকে অবহেলা করুকনা কেন তাদের কাছে আর কোন বিকল্প নেই! তাই আপনাকে কিনতেই হচ্ছে, যদিও আপনি জানছেন মানের দিক দিয়ে সব গুলই খুবই নিম্নমানের! তবে আমার কথা হচ্ছে আপনারা যারা রাজনীতি করছেন তারা স্বপ্নের ফেরিওয়ালাদের মত মানুষের ভেতর সুন্দর দিনের স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াচ্ছেন! মানুষ আপনাদের মিষ্টি কথায় ভুলে নির্বাচিত করে কাছে টেনে নিচ্ছে, আর তখনই ঘটে যত বিপত্তি, কারণ তখন মরীচিকা হয়ে ধড়া দেয় স্বপ্ন গুলো! তবে একটা বিষয় আমার কিছুতেই বোধগম্য নয়, কারণ ক্রেতাদেরকে প্রতিনিয়ত প্রতারণার ফাঁদে ফেললে একসময় কি মানুষ বিকল্প বাজারের সন্ধানে নামতে পারে তখন কি তাদের আয়ের উৎস হারানোর ভয় করেন না? নাকি সেই ভয় থেকেই আজকে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন যাতে ভবিষ্যতের ভয় না করতে হয়?

ইদানিং একটা বিষয় খুবই লক্ষণীয়, দেশের সরকারি কিংবা বিরোধী দলের ছোট খাটো নেতা থেকে শুরু করে, দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই যতসব বস্তা পচা অরুচিকর কথা দিয়ে মানুষকে বিরক্তির শেষ সীমায় পৌঁছে দিচ্ছেন! একজন আরেকজনের ছিদ্র অন্বেষণের চেষ্টায় ব্যস্ত! গ্রাম দেশে একটা প্রবাদ প্রচলিত ঝাঁঝর বলে সুঁইকে তোর পেছনে ছিদ্র! আমার মতে, অন্নের ছিদ্র খোঁজার আগে নিজের ছিদ্র গুলো বন্ধ করার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ! আমরা সবাই যেহেতু মানুষ আমাদের ভেতর কিছুনা না কিছু মানবিক গুণাবলি থাকার কথা! তাই সবাই ঢালাও ভাবে যে সব কাজই খারাপ করছেন তা যেমন না তেমনি খারাপ কাজের সমালোচনা না করলে improvement হবে কি করে? তবে সে সব সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক, যেখানে দিকনির্দেশনাই বেশী থাকবে! তবে জাতীয় সম্পদ ব্যাবহার করে নিজেদের খেয়াল খুশি মত চলাটা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়! আর দেশের সম্মানিত বেক্তিদের সম্মান হানীকর কাজ করে উনারা যেমন নিজদেরকে ছোট করছেন তেমনি করছেন দেশকেও! এইসব জায়গায় বিরোধী দলের ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলেও তারা এইসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন! বিরোধীদলকেও জানতে হবে বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে সরকারের ভুলভ্রান্তি গুলো ধরিয়ে দেয়া, জনগণের চাহিদা সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করা, নিজেরা নিজেরা যুদ্ধ করে পরবর্তী ক্ষমতা নিশ্চিত করা নয়! একটা জিনিস আমি ভেবে অবাক হই আমাদের নেতা নেত্রীরা কি পত্রপত্রিকা আদৌ পড়েন! উনারা যদি পত্রিকা পড়তে নাও জানেন কিংবা সময় স্বল্পতার জন্য পড়ার সুযোগ নাও পেয়ে থাকেন এর পড়ওতো তাদের একান্ত সচিব, উপদেষ্টা মণ্ডলীরা আছেন যারা কিনা তাদেরকে, দেশের বর্তমান অবস্থা, দেশের মানুষের মনোভাব, পত্রিকায় পাঠক পাঠিকার মন্তব্য সম্পর্কে উনাদেরকে অবহিত করতে পাড়েন! উনারা কি ভেবেছেন যে পাড়া মহল্লায় দাড়িয়ে গলাবাজি করা আর দেশের সর্বচ্চ পর্যায়ে দাড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা একই কথা! জনগন আপনাদেরকে তাদের নেতার আসনে বসিয়ে যে প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে তা দিয়েছে তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্যে, যোগ্য কাণ্ডারির মত হাল ধরে দেশকে পৌঁছে দিতে শান্তির, সমৃদ্ধির বন্দরে, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বসে বাবা বড়ও না স্বামী বড়ও এইসব বিতর্ক করার জন্য নয়! জনগণের টাকা নষ্ট করে নিজেদের নাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়! পাথরে খোদাই করে যতই নাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করুন না কেন, জনগণের হৃদয়ে স্থান করতে না পারলে একদিন দেখবেন সময়ের স্রোতে এইসব নাম সব হারিয়ে যাবে! আমরা জনগন হয়ে গেছি আপনাদের কাছে একটা ফুটবলের মত! আপনারা যে দল যখন আমাদেরকে কাছে পাচ্ছেন গোল দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু লাথি গুলো সব সময় বলের গায়েই লাগে, পক্ষান্তরে গোল দেয়ার আনন্দ শুধু মাত্র আপনাদের! দয়া করে মানুষের ভাগ্য নিয়ে এই নিষ্ঠুর খেলা একটু বন্ধ করুন! যদি ক্রেতাদেরকে মিষ্টি আঙুর খাওয়াতে না পাড়েন তাহলে আঙুরের ব্যবসা না করে অন্য কোন আয়ের উৎস খুঁজে নিন, কিন্তু জনগণকে আর প্রতারিত করবেন না! আপনাদের মত আঙুর ব্যবসায়ীরা আসবে, একসময় সময়ের স্রোতে হারিয়েও যাবে কিন্তু আমাদের মিষ্টি আঙুরের সন্ধান চলবে নিরন্তর! কিন্তু আর কতদিন???