ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা


আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে নিদ্রা এক বড় নেয়ামত। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আন নাবা তে এরশাদ করেছেন- “তোমাদের নিদ্রাকে করে দিয়েছি বিশ্রাম স্বরূপ বা ক্লান্তি দূরকারী।” যে নিদ্রাহীনতার কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ঘুম না আসলে ঘুম আসার জন্য ঔষধ সেবন করতে হয়। অথচ মানুষের সেই স্বাভাবিক নিদ্রায় মাইকের আওয়াজ দিয়ে আমরা ব্যাঘাত ঘটাচ্ছি।

সম্প্রতি মানুষের ঘুমের ক্ষতি করে মাইক দিয়ে উচ্চস্বরে বিয়ের অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিল উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা ১০/১৫টা মাইক দিয়ে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করেন তাদের কাছে প্রশ্ন, আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আমাদের অনেকের বৃদ্ধ মা-মাবা আছেন, যারা বিভিন্ন শারিরীক সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছেন, যারা একেবারেই মাইকের আওয়াজগুলো সহ্য করতে পারেননা। তাছাড়া আমাদের অনেক বোনেরা আছেন, যারা সারাদিন গৃহস্থলি কাজসহ সন্তানদের লালন-পালনের কাজ করে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার জন্য ঘুমাতে যান, মাইকের এই আওয়াজগুলো তাদের বিরক্তির কারণ হয়? স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই শব্দ দূষণের ভিকটিম হয়।

স্বীকার করছি মানুষের হেদায়াতের জন্য মাহফিলের প্রয়োজনীয়তা আছে। কিন্তু সেটা দীর্ঘ রাতব্যপী কেন? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যতটুকু জানি, রাসুল (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় কখনো রাতব্যপী শব্দ দূষণ করে ওয়াজ করেননি। রাসূল (সা.) নামাজের পর সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে মসজিদে নববী শরীফে বসে পড়তেন। তারপর তাঁদেরকে দ্বীনি তালিম দিতেন। এক বিজ্ঞ আলেমের কাছে শুনেছি, কোন আল্লাহর মকবুল অলীও রাতব্যপী মানুষকে কষ্ট দিয়ে ওয়াজ করেননি। তাছাড়া হাদিস শরিফে এশার নামাজের পরে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর কথা এসেছে। কেননা নিয়ত করে ঘুমানো সেটাও একটা এবাদত।

মুসলমানের সংজ্ঞায় পবিত্র হাদিস শরীফে আছে- “মুসলিম সে, যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে।” (সহীহ বুখারী।)

যে ব্যক্তি আল্লাহর হক আদায়ের সাথে সাথে বান্দার হক আদায় করে সে-ই প্রকৃত মুসলিম। প্রশ্ন হচ্ছে- যারা রাতব্যপী ওয়াজ মাহফিলের নামে/ বিয়ের অনুষ্ঠানের নামে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেমে মানুষকে কষ্ট দেই, আমরা আদৌ কি মুসলমান হতে পেরেছি? আপনাদের কাছে অনুরোধ, সারারাত মানুষকে কষ্ট না দিয়ে, পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে এমনভাবে মাহফিলের ব্যবস্থা করুন, যাতে মাইকের আওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত অডিয়েন্সের বাইরে না যায়।