ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭টা। বাসা থেকে বের হলাম। গন্তব্য হাসপাতাল। ডাক্তারের পরামর্শে বাবার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। সাধারণত ভোরে বের হলে প্রতিদিনকার যে দৃশ্যটি দেখা যায় সেটি সেদিন ছিলোনা। সকাল থেকে দেখেছি প্রতি মোড়ে যানবাহনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও ভোগান্তি। একদিকে ছিল এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা, অপরদিকে ছিল সাধারণ মানুষের আতঙ্ক। কারণটা সবার জানা। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় বলে কথা।

পৃথিবীর প্রতিটা দেশে অপরাধ যেমন আছে, অপরাধীর শাস্তির জন্য সে দেশের প্রচলিত আইনও আছে। আইন অনুযায়ী বিচার হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার রায় এ রায়কে ঘিরে সারা দেশে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকে শুরু হয়েছে ধরপাকড় ও তল্লাশি। যে ধরপাকড়ে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষও, যাদের সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশব্যাপী যে ধরপাকড়-তল্লাশি চালিয়েছে তাতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার খবর অনুযায়ী, রায়ের আগের দিন পর্যন্ত তিন হাজার নেতা-কমীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিরা যদি অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে আগেই আটক করা হলোনা কেন?

বেগম খালেদা জিয়ার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে সরকারের ব্যপক প্রস্তুতি ছিল। সরকারের দায়িত্ব স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশের পুলিশ সুপারদের কাছে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, বৃহস্পতিবার ভোর চারটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় ছুরি, চাকু, ছড়ি ও লাঠি হাতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। যাইহোক, বিরোধী রাজনৈতিক দলের সহিংস পরিস্থিতি ঠেকাতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, লাঠি নিয়ে অবস্থানের উপর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা কি শুধু বিএনপি কর্মীদের জন্য?


সরকার চেয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের পর দেশ স্বাভাবিক আছে সেটা দেখাতে। কিন্তু রাস্তায় রাস্তায় লাঠি নিয়ে সরকারদলীয় বিভিন্ন সংগঠনের মহড়া কি স্বাভাবিক অবস্থার লক্ষণ? আমাদের দেশের সংবিধান অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তাই যদি হয়ে থাকে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুলিশের পাহাড়ায় সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠন লাঠি নিয়ে মহড়ার সুযোগ পেলেন কিভাবে? ‘ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাসীন দলের সংগঠনের উপর আইন প্রয়োগের দরকার পড়ে না’ এ নজির সৃষ্টি হচ্ছে না তো?