ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্ষীয়ান রাজনীতিক আব্দুর রাজ্জাক চলে গেলেন। পেছনে ফেলে গেছেন তার দীর্ঘ বর্নাঢ্য রাজনৈতিক কেরিয়ার। যা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরনীয় ও অনুস্বরণীয় হয়ে থাকবে। কিন্তু শেষ জীবনে যেভাবে তিনি অবহেলিত হয়েছেন তা দেখে কি আগামী প্রজন্ম রাজনীতিতে আসবে ? রাজনীতিতে প্রতিদিনই নতুন কর্মী আসছে। কিন্তু মেধাবী সত্যিকার দেশ প্রেমিক কর্মী কয়জন আসছে ? দেশের উন্নয়ণের জন্য আব্দুর রাজ্জাকদের মত কর্মী দরকার। ছাত্রলীগ এখন কি তা দিতে পারছে ? গতকাল রাতে কয়েকটি চ্যানেলে আব্দুর রাজ্জাকের স্বরণে আলোচনা শুনছিলাম। একটি চ্যানেলে কলামিস্ট আবুল মকসুদ ও বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রেস সচিব বাদশাহ ভাই ৬৪ ৬৫ সালে আব্দুর রাজ্জাকের সাথে রাজনীতি করার স্মৃতিচারণ করছিলেন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আব্দুর রাজ্জাকের যে অবদান তা স্বরণ করছিলেন। পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর স্বাধীনতার প্রতিটি আন্দোলনে এবং স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখন পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। এরকম গৌরবময় রাজনৈতিক জীবন কজন রাজনীতিবিদের আছে ?

বাদশাহ ভাই বললেন, ৭৮ ৭৯ সালে সিরাজুল আলম খান, নুরে আলম জিকুসহ তারা একসাথে পুরান ঢাকা একটি হোটেলে একসাথে হয়ে চাদা তুলে কাগজ মাটিতে বিছিয়ে ভাত খেয়েছেন। তখন আব্দুর রাজ্জাক বলতেন মা মাটির জন্য রাজনীতি করতেই তাদের এজীবন বেছে নিতে হয়েছে। যা বর্তমান ছাত্র রাজনীতিবিদদের মাঝে নেই। জনগণের জন্য রাজনীতি করেছেন সারা জীবন। কিন্তু দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রী হয়ে আরো নিবিরভাবে জনগণের সেবা করার সুযোগ তিনি পাননি। অথচ অদক্ষ অযোগ্য মন্ত্রীদের জন্য প্রতিনিয়তই সরকার বদনামের পাল্লা ভাড়ি করছে। আর জাতি বঞ্চিত হযেছে একজন দক্ষ দেশপ্রেমিক রাজনীতিকের সেব থেকে। বাদশাহ ভাই টকশোতে বলছিলেন, লন্ডনে যখন তিনি আব্দুর রাজ্জাকের সাথে দেখা করেন তখন তিনি দু:খ করে বলছিনেন, ১/১১ এর পর তিনি যে ভুমিকা রেখেছিলেন তা দেশ ও দলের মঙ্গলের জন্যই। সংস্কারবাদীর অপবাদ দিয়ে তাদের সরকার থেকে দুরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ যারা সংস্কারবাদী তারাই ক্ষমতাই আছে। এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন না কেন বাদশাহ ভাই জানতে চাইলে তিনি দীর্ঘশ্বস ছেড়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে চলি এই দল ছেড়ে কোথায় যাব। যদি সুস্থ হই তাহলে দেশে ফিরে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু সুস্থ হযে দেশে ফেরা হলো না। অতৃপ্ততা নিয়ে চির বিদায় নিলেন।

মাজহারুল হক
মগবাজার, ঢাকা