ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন গতকাল কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবারো বলেছেন, গোলাম আযমকে গ্রেফতারের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। নভেম্বরে দুই একজন মন্ত্রী বলেছিলেন গোলাম আযমের গ্রেফতার হবে বিজয় দিবসের উপহার। কিন্তু ডিসেম্বর চলে যাচ্ছে সে উপহার জাতি পেল না। কিন্তু তাদের বক্তব্যের জবাবে গোলাম আযম নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য মিডিয়াতে চমৎকার বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি ঠান্ডা মাথায় ভারি কন্ঠে কোন প্রকার জড়তা ছাড়াই ৭১ এ তার ভুমিকার কথা বলছেন। কিন্তু যারা তার ইন্টাভিউ নিতে গেছেন তারা কিন্তু গোলাম আযমের বক্তব্যের কোন পাল্টা প্রশ্ন করতে পারে নি। তাতে অনেকের কাছেই গোলাম আযমের বক্তব্যই সত্য মনে হচ্ছে। গোলাম আযম ৭১ এ যে ভুমিকা রেখেছিলেন তার অনেক প্রমাণ তখনকার মিডিয়াতে আছে। সেসব মিডিয়া কোড করে অনেক প্রশ্ন করা যেত। সে সময় মিডিয়াতে তিনি পাকিস্তানি শাসক শ্রেণীর সাথে বৈঠক করে কি কি বিষয়ে আলোচনা করেছেন তার বিবরণ আছে। এছাড়া বহি:বির্শ্বে পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন ২৫ মার্চের পর তিনি টিক্কা খানের সাথে বৈঠক করে বর্বর হামলা বন্ধের জন্য অনুরোধ করেছেন এবং সব সময় চেষ্টা করেছেন নিরিহ বাংলাদেশীদের রক্ষা করতে। গোলাম আযমের হঠাৎ মিডিয়াতে আর্বিভাব ঘটে সরকারের মন্ত্রীদের উল্টা পাল্টা বক্তব্যের জন্য। যখন জামায়াত বুঝতে পারলো যে গোলাম আযম সম্ভবত গ্রেফতারই হচ্ছেন। তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল যে গ্রেফতারের আগে তিনি নিজের কথাগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়ে যাবেন। আর এই সুযোগে মিডিয়াগুলো তার বক্তব্য প্রচার করতে যথেষ্ট সহযোগীতা করেছে।

এখন যেহেতু গোলম আযম তার নিজস্ব বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তার বক্তব্যে জানা গেছে তিনি কোন প্রকার অপরাধ করেন নি । তাহলে কেন তাকে গ্রেফতার করা হবে ? যদি গ্রেফতার করতে হয় তাহলে কি তার কি কি অপরাধ রয়েছে তা জনসম্মুখে প্রচার করা উচিত ছিল না ? আর প্রচারের দায়িত্ব টুকুতো ঐসব মন্ত্রীদের ওপরেই আসে যাদের কথার জন্য গোলাম আযম মিডিয়াতে নির্দোষ প্রমাণ করে বক্তব্য দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট নয়। তিনি বলেছেন তার গ্রেফতারের জন্য আদালতে আবেদন করা হযেছে, নির্দেশ পেলেই গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু অন্য যেসব যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদরে গ্রেফতারের বিষয়ে কি আদালতে আবেদন করা হয়েছিল ? তাদেরতো তদন্ত করার অনেক আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর গোলাম আযমের বেলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার পর আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর গ্রেফতার করা হবে। তাহলে কি অন্যদের গ্রেফতার অবৈধ। সেকারণে তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে ? যদিও তাদের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে এটি কোন আদালত নয় । রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাদের গ্রেফতার করে বিচার করা হচ্ছে।

আমরা মনে করি গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হবে নতুন করে এসব বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা না লুটে বরং জনগণকে তার দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়া দরকার। যারা গোলাম আযমের বক্তব্য শুনে বুঝেছেন যে তিনি নির্দোষ স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রীর উচিত গোলাম আযমের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি দিয়ে তাদের চোখ খুলে দেয়া। তাদের বক্তব্যে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হবে এ কথা জাতি আর শুনতে চায় না। জাতি আগ্রহের সাথে শুনতে চাইছে তারা বলবেন গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মাজহারুল হক
মগবাজার ঢাকা