ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

Turag-river

মিরপুরের বাসিন্দাদের অন্যতম বিনোদনের স্থান মিরপুর মাজার রোড হতে দিয়াবাড়ী, চটবাড়ী, বিরুলিয়া হয়ে ধউর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মিরপুর বেড়িবাধ নামক একমাত্র রাস্তাটি। বিনোদনের কারন কিন্তু রাস্তাটি নয় বরং এর পাশে বিস্তৃত তুরাগ নদীটি। বর্ষা মৌসুমে তুরাগ নদী ও এর আশেপাশের অঞ্চল দেখে যে কারও মনে হতে পারে যে তিনি পদ্মা অথবা যমুনা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

গত প্রায় দুই বছর যাবত ব্যাপক হারে এই নদীটি দখলের উৎসব চলছে। সরকার কমলা রঙের পিলার দিয়ে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে দায়িত্ব্য শেষ করেছে অনেক আগে কিন্তু এর ফলে হিতে-বিপরীত ই হয়েছে। যখন সীমানা ছিলনা তখন নদী অনেক প্রশস্থ ছিল এবং কিছু যায়গায় এর শাখাও ছিল এতে করে কয়েকজন প্রভাবশালী ছাড়া কেউ নদী ভরাটের চেষ্টা করত না কিন্তু এখন পিলার বসিয়ে নদীকে আরও সরু করে দেওয়া হয়েছে এবং নদীর শাখা গুলো সীমানার বাইরে চলে গেছে। এতে করে সরু নদীকে রেখে আশেপাশের বিশাল অংশ ভরাটের মহোৎসব চালাচ্ছে বালু ও আবাসন ব্যবসায়ীরা। নদীর শাখা গুলোও রেহাই পাচ্ছেনা তাঁদের থাবা থেকে।

মিরপুর বেড়িবাধ অঞ্চল বর্ষা মৌসুমে বিশাল পরিমান পানি ধারন করে ঢাকাকে বন্যা হতে রক্ষা করে। এই অঞ্চলটি ভরাট হয়ে গেলে ঢাকা শহর শুধু প্রকৃতির এই অপূর্ব সৌন্দর্যকেই হারাবেনা সাথে সাথে বন্যা ঝুঁকিতেও অন্তর্ভূক্ত হবে।

আছেন কোন জনদরদী নেতা যিনি আমাদের এই তুরাগ নদীকে বাঁচাতে পারবেন?

—-
লেখক – যন্ত্র প্রকৌশলী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক