ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আশার কথা, এই জোট সরকারের আমলে দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে আগামী ২৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া।

শুরুতে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও বর্তমানে মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। এতে করে দেশের সাহিত্যিক-শিল্পীরা নতুন করে আশার আলো দেখত পাচ্ছেন। আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যেখানে শিল্পী-সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা রক্তাক্ত অবস্থায় রাজপথে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। হলেও এই দেশেই আবার সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারও শুরু হয়।এতটুকু আশা আছে বলেই এখন শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করা সম্ভব।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে লেখক-অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ আততায়ীর আঘাতে নির্মভাবে জখম হন। কয়েক মাসের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ২০০৪ সালের অগাস্টে বৃত্তি নিয়ে জার্মানি যান এই লেখক। ১২ অগাস্ট মিউনিখে তার ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০০৩ সালের ২৩ নভেম্বর পাক সার জমিন সাদ বাদ বইটির জন্য তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত নেতা সাঈদী। এই বইয়ে তিনি জামাতীনেতাদের মুখোশ উন্মোচন করেন । ধর্মীয় রাজনীতির করালতাকে খুলে খুলে দেখান। এটা সাঈদী নিজামীরা সহ্য করতে পারেননি। ৭১এর ১৪ই দিসেম্বর বুদ্ধিজীবিদের ধরে নিয়ে যেরকম নৃশংস ভাবে হত্যা করে ছিলেন সেরকম হত্যার পরিকল্পনা করেন।হত্যার উদ্দেশ্যে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বক জখম করে। সাঈদী-নিজামীদের দুঃখ তিনি মারা যাননি তাই বলে তারা ছাড়বার পাত্র নয়। জামাতীরা একটি বৃত্তি দিয়ে তাকে জার্মানীতে নিয়ে যান এবং সেখানেই হত্যা করেন।

অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ অসুস্থ অবস্থায় তাঁর হামলার পিছনে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট ভাবে ইঙ্গিত দিয়ে যান। এই জামাতীদের, সাঈদী-নীজামী-মুজাহিদদেরকে আমাদের দেখতে হয়েছে তারা দেশের পতাকাকে কলঙ্কিত ক্রে তাদের গাড়িতে ঝুলিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে।তাদেরকে এই সুযোগ করে দিয়েছিলেন বর্তমান বিরোধী দল বিএনপি। তারা এবারো এই জামাতীদের সাথে নিয়ে জনগনকে ধোকা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে যায়।যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে তারা কখনই এটা হতে দেবেনা। জনগনকেও সতর্ক থাকতে হবে তারা যেন বিএনপি জামাতীদের ধোকায় না পড়ে। তা না হলে আরো হুমায়ূন আজাদদেরকে আমাদের হারাতে হবে। আমরা আর কোন হুমায়ূন আজাদদেরকে আমরা হারাতে চাই না।