ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা


গত শনিবার , আমার ছুটির দিন, দুপুরের পর শাহবাগ হয়ে বইমেলায় যাবার আগে সকালে দুটো ম্যাচ দেখে বেশ আনন্দ উপভোগ করলাম। ক্রিকেট ম্যাচ…অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিরপুর ইনডোর ষ্টেডিয়ামে। টুর্ণামেন্টের নাম ক্লেমোন ইনডোর ইউনি ক্রিকেট। সরকারী আর বেসরকারী মিলে মোট ৩২ টি ইউনিভার্সিটি অংশ নিয়েছে। আয়োজন বেশ, প্রযুক্তির ব্যবহারও খারাপ না। সাথে নিয়ম কানুনের মাঝে দর্শক মনে বাড়তি আনন্দ জাগানোর জন্য যে সকল পরিবর্তন আনা হয়েছে তাও বেশ লাগলো। এই যেমন ওয়াইড আর নো বলে রান হয় দুটি করে, ইনডোরের ছাদে লাগলে ছয়, ছাদে লেগে ক্যাচ হলে সেটা আউট হবে না, ৫০ রান করলে ব্যাটস ম্যান রিটায়ার্ড হার্ট….গ্যালারীতে বল পাঠালেই ছয় আবরা গ্যালারীতে কোন দর্শরক ক্যাচ ধরতে পারলে তার জন্য ৫০০ টাকা উপহার..ইত্যাদি ইত্যাদি।

নিয়ম কানুন আর মাঠের গন্ডির স্বল্পতায় রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে প্রায় প্রতিটি টিম, মাত্র আট ওভারের খেলায় ১৭০/১৭৫ করে ফেলছে অনেক দলই।

গতকাল তথাকথিত হরতালের দিন সকালে একটু দেরীতে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হবার কারণে একটা ম্যাচ দেখে ফেললাম। খেলাটি ছিল ঢাকা ইউভার্সিটি বনাম ডেফোডিলস ইউনিভার্সিটি। প্রথমে ব্যাট করছিলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি। ব্যাটস ম্যানের নাম দেখেই কেমন খুব পরিচিত পরিচিত লাগলো-জহরুল ইসলাম অমি। তারপর আমার সংশয় দূর করে দিলো ধারা ভাষ্যকর নিজেই , জানান দিলো জাতীয় দলের অন্যতম খেলোয়াড়, বিপিএলর তুখর ব্যাটসম্যান জহরুলই এইজন।
কিন্ত ওদিকে বড় ষ্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের ফাইনাল চলছে রাত-দিনে তাও নতুন গোলাপী বলে । একই খেলোয়াড় একই দিনে দুই জায়গায়! একটু অবাক হয়েছিলাম। তথাপি এই ছোট ভার্সনের ক্রিকেটে জহুরুলের নান্দনিক ব্যাটীং শৈলী মুগ্ধও করলো। ৪৯ করে আউট হয়েছিল ঐ ম্যাচে জহরুল । ঢাকা সম্ভবত ৯৩ রানে বিশাল জয় নিয়েছিল ঐ খেলায়। যদিও সুজন নামে আরেকটি ছেলেক দেখলাম অসাধরণ অলরাউন্ড নৈপুন্য প্রদশর্ন করতে, জহরুলের ৪৯ হারিয়ে গেলো তার ৫৪র কাছে । ..

আজকের দৈনিক ডেইলি ষ্টারে জহুরুলের এই দ্বৈত ভূমিকার বিস্তারিত জানলাম Jahurul’s double act শীর্ষক এক নিউজে। জানলাম আসলে তার মত একজন জাতীয় খেলোয়াড় বিনা অনুমতিতে নাকি এই কাজটি করেছে। ছেলেটা ভাল খেলে, তার এ হেন ছেলেমি আচরণে ব্যথিত হলাম বলেই এই দু’কলম লিখছি কেবল। ….
নিউজটির শেষে লিখেছে–

Jahurul is one of the cricketers under the central contract system of the BCB, contracted in Grade C, and thereby subject to the code of conduct of the game’s governing body.

” বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতাধীন গ্রেড সি চুক্তিবদ্ধ একজন ক্রিকেটার হলেন জহরুল, এবং সঙ্গত কারণে সে খেলার গভর্ণিং বডির কোড অব কন্টাক্টের আততাধীন”

তার মানে অনুমতি না নিয়ে জহরুল কোড অব কন্টাক্ট ভঙ্গ করেছে। ২৮ তারিখে তার আবার শ্রীলংকা সফর আছে।
তার তেমন কোনো শাস্তি হোক চাই না আবার দৃষ্টান্তও স্থাপন করা উচিৎ শাস্তি দিয়ে।

তবে অনুরোধ এইসব জাতীয় খেলোয়াড়দের এই সব জরুরী নিয়ম কানুন সম্পর্কে ক্রিকেট বোর্ডের সম্যক ধারণা দেয়া উচিৎ। হয়তো দেয়া হয়। দিলেতো অব্যশই সাধু বাদ।

আরও একটি কথা ইনডোর ষ্টেডিয়ামে জাতীয় দলের দু একজন সাবেক ক্রিকেটারকেও দেখলাম বসে আছেন, তারা কি জহরুল কে একটা উপদেশ শুনাতে পারলো না।