ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

হয়তো সংখ্যায় খুব বেশি নয়, তবুও যে ক’টিই দেখেছিলাম সেগুলোই আমার আপন শৈশবে ভাবনার খোরাকের অনেক অংশ পূরণ যে করেনি তা অস্বীকার করতে পারি না। কারণ সেগুলো আমার ভাবনায় অবশ্যই চতুর্মুখী পায়ে চলা পথ তৈরী করেছিলো বলেই আজও অনেক দৃশ্যপট ভুলিনি, এত বছর পরেও। লেখার শিরোনাম দেখে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ভূমিকায় শিশুতোষ চলচ্চিত্র যা আমার শৈশবে নাড়া দিয়েছিলো তার কথাই বলছি।

এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে ‘ছুটির ঘন্টা’ ও মাষ্টার সুমন কিংবা ‘পুরষ্কার’ বা ‘ডানপিটে ছেলে’ র সেই মাষ্টার শাকিলের কথা। মনে পড়ে চলচ্চিত্রে তাদের দূরন্তপনার কথা, আমার শিশুমনে সে সব শিশুতোষ চলচ্চিত্রের কাহিনী বারবার ঘুরপাক খাবার কথা, মনে পড়ে আমার প্রয়াত বাবা আমাকে ঐ সকল শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখতে নিয়ে যেতেন প্রেক্ষাগৃহে। অবাক হয়ে যাই ভেবে একটি মান সম্পন্ন চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রে শিশু মনের জন্য উপযোগী কাহিনী কিভাবে দাগ কাটে মনে।

বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের প্রেক্ষাগৃহ অভিমুখি হওয়ার বিষয়টা আমার তারুণ্যেই ক্রমে ভাটা পড়ে গিয়েছিলো। সে ভাটা জোয়ারে তেমন পরিবর্তিত এখনও হয়েছে বলে খুব একটা শুনি না। বরং প্রেক্ষাগৃহের যবনিকাপাত ঘটেছে ব্যাপক হারে। বৃহৎ পরিসরের জন্য তৈরী বাংলা সিনেমার মান, কাহিনী, ব্যবসায়িক সাফল্য, উন্নতি এসব সিনেমা বোদ্ধাদের আলোচনাতেই বেশি মানায়। আমার মত একজন সাধারণ চলচ্চিত্রপ্রেমি দর্শকের মুখে যেটুকু মানায় তা হলো – ‘আমাদের বাংলাদেশের সিনেমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে পারেনি’।

পেছনের  কারণ অনেক। সে আলোচনায় যাব না। শিশুতোষ চলচ্চিত্রের আলোচনাতেই থাকব। মূলত বৃহৎ পরিসরের চলচ্চিত্র যখন দর্শক হারাতে শুরু করেছে সেই এক সাথে শিশুতোষ চলচ্চিত্রও দর্শক হারাতে শুরু করবে সেটাই স্বাভাবিক। কারণ শিশুরা তো আর একা একা পেক্ষাগৃহে যাবে না। কিন্তু হলিউডের তৈরী কোন শিশুতোষ মুভি যেমন হালের, ‘কুংফু পান্ডা’, ‘ট্রলস’, ‘জংগল বুক’, ‘ বিউটি এন্ড দ্যা বিষ্ট’, ‘সিনডেরেলা’, ‘পিটারস ড্রাগন’, ‘হ্যারি পর্টার’ বা ‘বস বেবি’ এসব ছবি বসুন্ধরা কিংবা যমুনা ফিউচার পার্কে আধুনিক ডিজিটাল মুভি থিয়েটারে যখন দেখানো হয়, সেখানে কিন্তু শিশুসহ সকল বয়সের দর্শক ঠিকই উপচে পড়ে। আসলে সাধারণ মানুষ সুন্দর মুভি দেখতে চায়, অভিভাবকগণ শিশুদের প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে যেতে চান। আমাদের এ ক্ষেত্রে বানিজ্যের সুযোগ আছে কিন্তু বানিজ্যকরণ ব্যবস্থার অবশ্যই অভাব আছে।

সত্তর বা আশির দশকে সংখ্যায় কম হলেও ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য দেশগুলোর সাথে মানের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশে যখন কিছু মুভি তৈরী হতো তখন একই সাথে শিশুতোষ মুভি নির্মাণও শুরু হয়েছিলো যেগুলোর দুএকটার নাম লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু যেখানে পাশের দেশ ভারতের চলচ্চিত্রের মান ক্রমে বেড়ে বেড়ে হলিউডের সাথে পাল্লা দেয়ার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে সেখানে আমাদের চলচ্চিত্র অনেকটাই উন্নতির পথে থমকে ছিলো মাধ্যবর্তী একটা বড় সময়ে। এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ। শিশুতোষ চলচ্চিত্র তো আগে থেকে এমনিতেই থমকে ছিলো সাথে বড়দের চলচ্চিত্রের উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় শিশুতোষ চলচ্চিত্রের থমকে যাওয়া নিসন্দেহে আরও তরান্বিত হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারি পর্যায়ে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। শুনেছি সিদ্ধান্ত ছিলো সরকারি অনুদানে নির্মিত তিনটি ছবির মধ্যে অবশ্যই একটি শিশুতোষ হতে হবে। যদিও আদৌ তা হয়নি। সত্তর দশকের শেষের দিকে ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকীর লেখা গল্প ‘গলির ধারের ছেলেটি’ অবলম্বনে সুভষ দত্ত তৈরী করেছিলেন ‘ডুমুরের ফুল’ নামক বহুল প্রশংসিত শিশুতোষ চলচ্চিত্রটি। এরপর ১৯৮০ সালে সরকারি অনুদানে বাদল রহমান তৈরি করেন ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’। সরকারি অনুদানে এটিই বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র। ১৯৮২ সালে শিশু একাডেমির প্রযোজনায় ‘গল্প দাদুর গল্প কথা’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকি। ২০০২ সালে প্রয়াত তারেক মাসুদ নির্মাণ করেন ‘মাটির ময়না’ যা কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। যদিও এটিকে পুরোপুরি শিশুতোষ মুভি হয়তো বলবেন না অনেকেই।

আরও দীর্ঘ বছর পরে ২০০৯ সালে তৈরি করা হয় দেশের প্রথম শিশুতোষ ডিজিটাল চলচ্চিত্র ‘দূরবীন’। প্রিয় কথা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অসাধরণ উপন্যাস দূরবীণ এর আলোকে নির্মিত হয়। এই ছবিটির জন্য পরিচালক চলচ্চিত্রের জন্য পরিচালক জাফর ফিরোজ মুম্বাই ফিল্ম একাডেমি থেকে আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরীতে সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে পুরস্কারও অর্জন করেছেন। বাংলাদেশি নির্মাতাদের মধ্যে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণে পরবর্তীকালে সবচেয়ে সফলতা দেখিয়েছেন খ্যাতিমান নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম। তার নির্মিত ‘দীপু নাম্বার টু (১৯৯৬)’, ‘দূরত্ব(২০০৪)’ ও ‘আমার বন্ধু রাশেদ (২০১১)’ শিশু-কিশোরদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু একাডেমি’ এ যাবত কাল পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য মিলিয়ে মাত্র বিশটির মতো শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে।

মাঝে মধ্যে ‘দীপু নম্বর টু’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ , ‘মাটির ময়না’ , ‘দূরবীণ’ এসব কিছু শিশুতোষ মুভি নির্মাণ হয়েছে বিচ্ছিন্ন ভাবে তবে সেগুলোও ঠিক বানিজ্যিক হয়ে না ওঠায় শিশুতোষ চলচ্চিত্রও শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠেনি। একই সাথে তথ্য প্রযুক্তির অতি দ্রুত উন্নয়নে এবং বিশ্বায়নে পুরো পৃথিবী হাতের মুঠোয় চলে আসায় স্বভাবতই উন্নত বিশ্বের তৈরী হাইটেক শিশুতোষ মুভি শিশুদের এবং অভিভাবদের অতিমাত্রায় আকর্ষণ করেছে। করাটাই স্বাভাবিক। তারপর শিশুতোষ চলচ্চিত্রকে বইয়ের পাতার মত রঙিন ও চরমতম কল্পনাময় করতে গিয়ে বাস্তব চলচ্চিত্র থেকে ক্রমে ক্রমে সরে এসে এনিমেশন মুভিতে ঢুকে গেছে উন্নত বিশ্ব। এনিমেশনে রং ঢং এবং অবাস্তবতা বিস্তৃত করে শিশুদৃষ্টি আকর্ষণ আরও সহজতর হয়েছে। সংখ্যায় স্বল্প হলেও পাশের দেশ ভারতও মাঝে মধ্যে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে।

যতটুকু মনে পড়ে বাংলাদেশে এনিমেটেড শিশুতোষ কোন শো সম্ভবত নব্বই দশকের প্রথম দিকে টিভিতে প্রদর্শিত ‘মীনা’। মীনার কার্টুন নামে আমরা সবাই একে চিনি। মোটামুটি আমাদের একটা দীর্ঘ জেনারেশনের সকল শিশু কিশোরই মীনা কার্টুন দেখেছে। যদিও এটি মূলত ইউনিসেফের সহায়তায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রচারণা মূলক নাটিকাই ছিলো। কিন্তু শিশুমহলে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অনস্বীকার্য। এরপর সম্ভবত ২০০০ সালের দিকে ‘মন্টু মিয়া অভিযান’ নামে এনিমেশন একটি মুভি তৈরী করা হয় প্রচার হয় একুশে টিভিতে । এর তিনটি পর্ব নির্মান হয়েছিলো। এর বাইরে আমার কাছে বাংলাদেশের শিশুতোষ কোন সম্পূর্ণ এনিমেশন মুভি নির্মাণের তথ্য নেই।

somoy90-1450204245-bda66ee_xlarge (1)
মীনা এবং মন্টু মিয়া এমন দুটি চরিত্রও আমরা তৈরী করতে পেরেছিলাম। অবশ্যই এটা একটি লক্ষ্যণীয় বিষয়। উন্নত বিশ্বে শিশুতোষ চলচ্চিত্র এনিমেশন করার সাথে সাথে তারা ক্যারেক্টার ডেভেলাপ করার দিকেও বিশেষ নজর দেয় আজকাল। বানিজ্যিক দিক দিয়ে এটার গুরুত্ব অভাবনীয়। একটা ছোট উদাহরণ দেই। আমি নিজে খেয়াল করেছি ‘ট্রলস’ মুভিটি মুক্তির পর শিশুরা এর রঙিন ক্যারক্টোরগুলো এত পছন্দ করেছিলো যে তারা নিজেরা নিজেদের পরিমন্ডলে মুভির ক্যারেকটারগুলো নিয়ে আলাপ শুরু করে, কার কোন ক্যারেক্টার পছন্দ, কেনো পছন্দ-এসব। ঠিক সেই সময় মার্কেটে ট্রলের ক্যারেকটার আদলে গড়া পুতুলে ভরে যায়। মুভিতে যত আয় পুতুল বেচেও আয় তার কোন অংশ কম বলে মনে হয় না। পৃথিবী বদলেছে। বানিজ্যকরণ ভালো না মন্দ সে আলোচনায় এখানে যাব না। কিন্তু টিকে থাকতে হলে বানিজ্যকরণের বিকল্পও নেই।

প্রবাসে বসবাসের কারণে আরেকটি বিষয় খুব লক্ষ্য করেছি। এখানে বেড়ে ওঠা শিশুরা প্রচুর শিশুতোষ মুভি দেখে কারণ দেখার সুযোগ আছে, সময় আছে এবং তারা দেখতে চায়। বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা বর্তমান শিশুরাও দেখতে না চাওয়ার কোন কারণ নেই।। কিন্তু শিশুদের শৈশব চুরি করে গ্রন্থকীটের দল যে পরিমাণ অসুস্থ শিক্ষা প্রতিযোগীতা আর চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে যে অভিভাবকদের একটা বড় অংশ চলচ্চিত্র দেখাটা সময় নষ্ট মনে করে থাকেন। শিশুতোষ চলচ্চিত্রের বানিজ্যকরণে এটাও একটা অন্যতম সমস্যা তো বটেই। তো যা বলছিলাম এখানে অষ্ট্রেলিয়ায় প্রবাসে আমার শিশু কন্যা বা তার বাংলাদেশি ফ্রেন্ডরা যখন কোন শিশুতোষ মুভি দেখতে বসে তখন আমার মনে হয়েছে তাদেরকে যদি বাংলাদেশি কোন শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখাতে পারতাম! মাতৃভাষায় কোন মুভি যদি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারত! কিন্তু তাদের এই টেকনো যুগের ব্রেনকে আকর্ষিত করার মত কোন মুভি আমি হাতড়ে খুঁজে পাই না। এটা একটা বড় আফসোস। আমাদের তো শিশুতোষ গল্প কাহিনীর অভাব নেই, রূপকথার কোন কমতি নেই। এক সুকুমার রায়ের ছড়ায় যে পরিমাণ ক্যারেকটার রয়েছে তা থেকেই আমরা শিশুদের মন কারা কত কত চরিত্র সৃষ্টি করতে পারতাম বড় পর্দায়।

এবার একটু সুদূর শিশুতোষ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সামান্য দৃষ্টি ফেরাবো। চলচ্চিত্র নির্মানের ইতিহাসের শুরুর দিকেই সেই ১৮৯৫ সালেই লুমিয়ের ভাইরা নির্মাণ করেন ‘বেবি অ্যাট দ্য ব্রেকফাস্ট টেবিল’ নামক শিশুবিষয়ক চলচ্চত্রি। ভারতবর্ষে বাংলা ভাষাভাষি জনগোষ্ঠির জন্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণে যার নাম সর্বাগ্রে আসে তিনি হলেন সত্যজিৎ রায়। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘হীরক রাজার দেশে’র মতো নিরীক্ষাধর্মী ও শিক্ষণীয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি শিশুদের আজীবন দেখার মত কিছু নির্মাণ করে গেছেন। বাংলাদেশে ১৯৫৬ সালেই প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ নির্মিত হলেও ছোটদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নির্বাক থেকেই গিয়েছিলেন দেশিয় পরিচালক-প্রযোজকরা।
শিশু-কিশোরদেরও অবশ্যই একটি নিজস্ব জগত আছে। তার নিজস্ব ধরণ আছে। তাদের চলচ্চিত্র তাদের নিজস্বতার মাপেই হওয়া উচিত। যে কারণেই শিশুতোষ চলচ্চিত্র একটি আলাদা গুরুত্ব পাবার যোগ্য। টেকনো যুগে ডিজিটাল মিডিয়ার প্রভাব অনস্বীকার্য। আর সে কারণেই সবাক চলচ্চিত্র শিশুর মনন গঠনে সময়ের সবচেয়ে কার্যকর উপকরণ। একটা সময় কমিকস আর রূপকথার বইগুলোই মূলত ছিলো শিশুদের কল্প জগতের খোরাক। হলিউড শিশুদের প্রিয় প্রতিটি কমিকস আর রূপকথার ক্যারেকটারকে ডিজিটাল পর্দায় নিয়মিত হাজির করেই চলেছে। শিশু কিশোররা আকৃষ্ট হচ্ছেই। বানিজ্যও হচ্ছে প্রচুর। শিশুতোষ চলচ্চিত্র বানিয়ে পরিচালক-প্রযোজককে লগ্নি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না।

উন্নত বিশ্বে প্রতিটি চলচ্চিত্র থিয়েটারে চালানোর পূর্বে তার উপযোগীতার রেটিং করে ছাড়পত্র দেয়া হয়। কোনটা শিশু একা দেখতে পারবে, কোনটা দেখতে পিতা-মাতার সাহচার্যের প্রয়োজন হবে তা সে রেটিং দেখেই বোঝা যায়। অভিভাবকের জন্যও বিষয়টা সুখকর হয়। কারণ আজকাল এনিমেশন মুভি কেবলমাত্র পূর্ণ বয়স্ক উপযোগী করেও তৈরী হচ্ছে প্রচুর। কেবল কার্টুন কার্টুন বলেই সেটা শিশুতোষ আর বলা যাবে না। এসব নিয়ে অবশ্য আমাদের বাংলাদেশে অত ভাবনার সময় হয়েছে বলে মনে হয় না। আসলে শিশুতোষ চলচ্চিত্রই তো নির্মান হয়েছে ঐ হাতে গোণা কয়েকটি।

শিশুতোষ চলচ্চিত্রের এত করুন দশার মধ্যেও গড়ে উঠেছে ‘চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ২০০৬ সালের ৬ই আগষ্ট প্রতিষ্ঠিত হবার পর প্রায় পতি বছরই প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করে আসছে ‘আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। ধীর গতিতে হলেও সংস্থাটি চলচ্চিত্র বিষয়ে শিশুদের জন্য নানা মুখি কর্মকাণ্ড আয়োজন অন্তত করে চলেছে।

একজন দর্শক এবং অভিভাবকের দৃষ্টিকোণ থেকে এই খেদপূর্ণ আলোচনার যবনিকাপাত ঘটানোর কালে আফসোস করেই বলতে হয় বর্তমান প্রযুক্তিময় বিশ্বে শিল্প সাহিত্যের বিস্তারে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম চলচ্চিত্র নামক জিনিসটি আমাদের বাংলাদেশে শিশুদের বিনোদন, মানসিক গঠন ও শিক্ষাবিস্তারে তেমন একটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে এমনটি জোর গলায় বলা যাচ্ছে না; নিকট ভবিষ্যতে বলা যাবে তেমনটা স্বপ্ন দেখা যেতে পারে কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপরেখা তেমনটা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। তবে এই নেতিবাচকতার ফাঁকফোকঁড় দিয়ে হলিউড আর বলিউডের শিশুতোষ চলচ্চিত্র আমাদের শিশুদের দৃষ্টিকে ব্যবহার করে তাদের বানিজ্য যেমন করে চলবেই এবং তেমনি তাদের শিশুতোষ চলচ্চিত্রকেও আরও উন্নততর করতেই থাকবে সেটা বলা যায় কারণ প্রযুক্তি এবং মিডিয়া এখন সহজলোভ্য ও দ্রুতগতিময়।

অবশ্য হালে বৃহৎ পরসিরের জন্য নির্মিত বাংলা সিনেমার মাঝে উন্নয়নের জোয়ার অবলোকন করা যায়, সে উন্নয়ন কাহিনী, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অভিনয় সর্বত্রই দৃশ্যমান। দর্শকও বাড়ছে স্বভাবতই। এই এক মাত্র সুযোগ, এই উন্নয়নে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মানকেও যদি নিয়মিত ও বানিজ্যি করণ করার উদ্যেগ সংশ্লিষ্টগণ গ্রহণ করেন তবে হয়তো শিশুতোষ চলচ্চিত্রের একটি সুন্দর ভবিষ্যত আশা করা যেতে পারে বাংলাদেশেও।