ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

দোয়েল‘- দেশের ল্যাপটপ। খুব স্বভাবতই দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নামটি একটি অভাবনীয় বিষয়। বেশ আলোচিত ও প্রতীক্ষারও ছিল এই ল্যাপটপ। অবশেষে আজ ১১ই অক্টেবর সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন প্রথম বাংলাদেশী ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ-দোয়েল।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বদৌলতে অবলোকন করলাম ষ্টেজের পেছনের ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে দেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ শব্দটি। যা বাংলানিউজ২৪.কম এর খবরেও পাই-

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর দেশে উৎপাদিত ‘দোয়েল’ ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যেখানে লিফল্যাটে ইংরেজীতে ব্যবহার করা হয়েছে – অ্যাসেম্ব্লিং -শব্দটি। যার শাব্দিক অর্থ উৎপাদন কি বলা যায়? যাওয়ার কথা না। উৎপাদন শব্দটির যথার্থ ইংরেজী প্রতিশব্দ হওয়া উচিৎ – প্রোডাকশন। ফসল উৎপাদিত হয়, খাদ্যবস্তু উৎপাদিত হয়। ল্যাপটপ প্রস্তুত , ম্যানুফ্যাকচার, অ্যাসেম্বলড, প্রতিস্থাপন, সংযোজন , তৈরী এসব হয় বলেই মনে হয়। বিডিনিউজ২৪.কম অবশ্য তাদের তাৎক্ষণিক নিউজে তৈরী শব্দটিই ব্যবহার করেছে –

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো দেশে তৈরি সাশ্রয়ী ল্যাপটপ ‘দোয়েল’র। তুলনামূলক কম দামের নেটবুক ধরনের এ ল্যাপটপ তৈরি করেছে বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থা- টেশিস। চার ধরনের ল্যাপটপের দাম ধরা হয়েছে ১০ থেকে ২৬ হাজার টাকা।

সে যা হোক। মোট চার ধরনের নেটবুক/ল্যাপটপ অবশেষে দোয়েল ব্রান্ড নামে উদ্বোধন হলো। এখণ জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পর বোঝা যাবে মূলত সর্বসাধারণের কাছে এর কদর এবং প্রযুক্তিরও সফলতা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শ ও সহযোগিতায় মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘থিম ফিল্ম ট্রান্সমিশন’ (টিএফটি), টু এম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং কয়েকজন বিদেশি বিশেষজ্ঞের সহযোগিতায় যৌথ উদ্যগে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে টেলিফোন শিল্প সংস্থা

প্রাথমিকভাবে চার শ্রেণীর ল্যাপটপ উৎপাদন করা হচ্ছে। যা অনুষ্ঠান প্রাঙ্গনে একটি টেশিস এর একটি স্টলে প্রদর্শন করাও হয়। চারটি ধরন হলো- দোয়েল প্রাইমারি নেটবুক যার মডেল নম্বর ২১০২ , দোয়েল বেসিক নেটবুক যা মডেল ০৭০৩, দোয়েল স্ট্যান্ডার্ড নেটবুক যা মডেল নম্বর ২৬০৩ ও দোয়েল অ্যাডভান্স নেট বুক যা মডেল নম্বর ১৬১২ । উৎপাদিত এসব ল্যাপটপের মূল্য ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার, সাড়ে ১৩ হাজার, সাড়ে ২০ হাজার ও সাড়ে ২৬ হাজার।

প্রাইমারি মডেল -২১০২ : ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের দিন ২১/০২ কে স্মরণ করে এই মডেলটির নামকরণ করা হয়েছে।

ডিসপ্লে- ১০.০” এলসিডি (১০২৪*৬০০)
প্রোসেসর- ভায়া ৮৬৫০ ৮০০ মেগাহার্জ
রেম- ৫১২ মেবা
১৬জিবি ন্যান্ড ফ্লাশ স্টোরেজ
বিল্ট ইন স্টোরিও স্পিকার
০.৩ মেপি ওয়েব ক্যামেরা
ইথারনেট ল্যান আর জে ৪৫
৮০২.১১ বি/জি ওয়াইফাই
টু ইউএসবি ২.০
এসডি কার্ড স্লট
মাইক ইন , হেডফোন আউট
৮২ কিস স্ট্যান্টার্ড কিবোর্ড;প্রিন্টেড ইন টু ল্যাঙ্গুয়েজ
বিল্ট ইন টাচ প্যাড, সাপোর্ট ইউএসবি মাউস
লিথিয়াম পলিমার -১৮০০মিএমপিয়ার আওয়ার ব্যাটারী
৪ টি রঙ এর ডিজাইন
উইন্ডোজ সিই ৬.০/গুগল এন্ড্রয়েট কম্পিটেবল

বেসিক মডেল -০৭০৩:
১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চকে স্মরণ করে এই মডেলটির নামকরণ করা হয়েছে।
ডিসপ্লে- ১০.১” ডাব্লিউএক্সজিএ এলইডি ব্যাকলাইট (১০২৪*৬০০)
প্রোসেসর- ইন্টেল এটম এমটিএম প্রসেসর এন ৪৫৫ ১.৬৬ গেগাহার্টজ
রেম- ১ জিবি ডিডিআর৩
ইন্টেল জিএমএ ৩১৫০ ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিকস
সাটা ২৫০ জিবি হার্ড ডিক্স
এইচডি অডিও
২ডাব্লিউ স্টোরিও স্পিকার
১.৩ মেপি ওয়েব ক্যামেরা
১০/১০০এম ইথারনেট ল্যান
৮০২.১১ বি/জি/এন ওয়াইফাই
ব্লু টুথ
টু ইউএসবি ২.০
৪ ইন ১ কার্ড স্লট
ভিজিএ পোর্ট
মাইক ইন , হেডফোন আউট
৮৪ কিস স্ট্যান্টার্ড কিবোর্ড;প্রিন্টেড ইন টু ল্যাঙ্গুয়েজ
হাই সেন্সেটিভ স্ক্রল স্কোপ টাচ প্যাড
৩ সেল লিথিয়াম আয়ন -২২০০মিএমপিয়ার আওয়ার ব্যাটারী
৪ টি রঙ এর ডিজাইন
লিনাক্স ও উইন্ডোজ কম্পিটেবল

ষ্ট্যান্ডার্ড মডেল -২৬০৩:
১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চকে স্মরণ করে এই মডেলটির নামকরণ করা হয়েছে।
ডিসপ্লে- ১২.১” ডাব্লিউএক্সজিএ এলইডি ব্যাকলাইট (১৩৬৬*৭৬৮)
প্রোসেসর- ইন্টেল এটম এমটিএম প্রসেসর এন ৪৭৫ ১.৮ গেগাহার্টজ
ইন্টেল এনম১০ চিপসেট
রেম- ২ জিবি ডিডিআর৩
ইন্টেল জিএমএ ৩১৫০ ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিকস
সাটা ৩২০ জিবি হার্ড ডিক্স
এইচডি অডিও
৩ডাব্লিউ স্টোরিও স্পিকার
১.৩ মেপি ওয়েব ক্যামেরা
১০/১০০এম ইথারনেট ল্যান
৮০২.১১ বি/জি/এন ওয়াইফাই
ব্লু টুথ
টু ইউএসবি ২.০
৪ ইন ১ কার্ড স্লট
ভিজিএ পোর্ট
মাইক ইন , হেডফোন আউট
৮৪ কিস স্ট্যান্টার্ড কিবোর্ড;প্রিন্টেড ইন টু ল্যাঙ্গুয়েজ
হাই সেন্সেটিভ স্ক্রল স্কোপ টাচ প্যাড
৩ সেল লিথিয়াম আয়ন -৪২০০মিএমপিয়ার আওয়ার ব্যাটারী
৪ টি রঙ এর ডিজাইন
লিনাক্স ও উইন্ডোজ কম্পিটেবল

এডভান্সড মডেল -১৬১২:
১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে স্মরণ করে এই মডেলটির নামকরণ করা হয়েছে।
ডিসপ্লে- ১৪” ডাব্লিউএক্সজিএ এলইডি ব্যাকলাইট (১৩৬৬*৭৬৮)
প্রোসেসর- ইন্টেল পেন্টিয়াম প্রসেসর পি৬২০০ ২.১৩ গেগাহার্টজ
ইন্টেল এইচএম৫৫ চিপসেট
রেম- ২ জিবি ডিডিআর৩
ইন্টেল জিএমএ এইচ ডি
সাটা ৩২০ জিবি হার্ড ডিক্স
এইচডি অডিও
৩ডাব্লিউ স্টোরিও স্পিকার
১.৩ মেপি ওয়েব ক্যামেরা
১০/১০০এম ইথারনেট ল্যান
৮০২.১১ বি/জি/এন ওয়াইফাই
ব্লু টুথ
থ্রি ইউএসবি ২.০
৪ ইন ১ কার্ড স্লট
ভিজিএ পোর্ট
মাইক ইন , হেডফোন আউট
৮৪ কিস স্ট্যান্টার্ড কিবোর্ড;প্রিন্টেড ইন টু ল্যাঙ্গুয়েজ
হাই সেন্সেটিভ স্ক্রল স্কোপ টাচ প্যাড
৬ সেল লিথিয়াম আয়ন -৪৪০০মিএমপিয়ার আওয়ার ব্যাটারী
৪ টি রঙ এর ডিজাইন
লিনাক্স ও উইন্ডোজ কম্পিটেবল

উল্লেখ্য যে নেটবুক/ল্যাপটপ গুলোতে উইন্ডোজ দেয়া হয়নি। কারন জানলাম, উইন্ডোজের অরিজিন কপি মাইক্রোসফট এর কাছ থেকে কয় করে ইনষ্টল করে দিতে গেলে বেশ বড় আকারের খরচ হত। যাতে লদাম এত কম করা যেত না। এ বিষয়ে মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের সহযোগীতা চেয়ে সম্ভবত আবেদনও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিজস্ব ব্র্যান্ড তো হলো এখন অপেক্ষার পালা কবে জনগণের হাতে পৌঁছাবে এবং কতটুকু সন্তুষ্ট হতে পারব ব্যবহার করে আমরা ম্যাঙ্গপিপল।

***
ফিচার ছবি: ফেসবুক ফ্যান পাতা ল্যাপটপ : দোয়েল [মেড ইন বাংলদেশ] থেকে সংগৃহিত