ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১১ শনিবার সকাল ১১টা ২৫ মিটিন ১৩ সেকেন্ডে বাংলা নিউজ ২৪ .কম এ প্রকাশিত ‍‍‌ ‘র্জানালস্টিদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি নন রুবাইয়াত’- শিরোণামের খবরের ভিত্তিতে জানলাম মেহের জান সিনেমার পরিচালক মহতরমা রুবাইয়াত নিম্ন উক্তিটি করেছেন:

“মেহেরজান ছবি নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে ছবিটির পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ ছবির বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। তাই আমি দক্ষিণ এশিয়ায় ইতিহাস নিয়ে যারা কাজ করেন, বীরঙ্গনাদের জীবনী নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে ছবির সিডি পাঠিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, যারা এই ছবির বিরুদ্ধে কিছু না বুঝেই বিতর্ক করছেন তারা লজ্জা পাবেন ইতিহাসবিদদের কাছ থেকে জবাব আসার পর।’
তিনি প্রশ্ন তুলেন, ‘এই ছবি নিয়েতো মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কিছু বলেনি, মফিদুল হক কি কিছু বলেছেন, আলী যাকের কিছু বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের কোনো শিক্ষক কি এর প্রতিবাদ করেছেন, মুনতাসীর মামুন কি কোনো আপত্তি উত্থাপন করেছেন। তারা কিছু বলেননি। বলছে কিছু ছেলেরা, যারা ব্লগে ‘আজাইরা’ লেখালেখি করে সময় কাটান। তাদের এই কর্মকাণ্ড পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।’”

মেহেরজান সিনেমা নিয়ে সমালোচনা, কথা, যুক্তি তর্ক-বিতর্ক তো অনেক হচ্ছে হবে। খুব সংক্ষেপে ঐ রমনীর ব্লগ এর প্রতি নিদারুন তিক্ত ওমন বাক্য চয়ন ই বুঝিয়ে দেয় যে কত নির্ভাবনায় এবং রাগ ও জিদের প্রতি সহজে অনুরিক্ত হয়ে সে কোন কথা বলে ফেলে। তার পক্ষে আগ পিছ যথার্থতা না ভেবে মেহের জানের মত একটা অদ্ভুদ বিসদৃশ অথচ ঐতিহাসিক ব্যানারের স্ক্রিপ্ট হঠাৎ মনে ভাবা আর তা সিনেমায় রূপান্তর করাই স্বাভাবিক। গল্প যেকোন রকম ডাইমেনশন হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস সে রকম পারে না। মেহের জান দেখে লাস্টে বুঝতেই পারলাম না , মুসলীম লীগ সমর্থক মেহেরজানের নানা জানরে পাকি আর্মিরা মারল না সমাজবাদী মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের কেউ। থ্রিলরার গল্পে এমন সব টুইস্ট, কল্পনা আর ধ্রুমজাল খুবই কাম্য। কিন্তু স্পষ্ট ইতিহাস যে মুক্তিযুদ্ধের টিকে আছে মানব মনেপ্রাণে, সেখানে এমন সব ধ্রুমজাল দিলে সেটা আর ঐতিহাসিক থাকে নাকি? রুবাইয়াত হোসেন যে খুবই গভীর আবেগ ধারন করেন তা বোঝা যাচ্ছে তার রাগ অভিমানের প্রকাশ থেকে, কিন্তু ইতিহাস চয়নে আবেগের চেয়ে প্রকৃত প্রেক্ষাপট বেশী অগ্রাধীকার পাওযার যোগ্যতা রাখে। আমাদের দেশে যেখানে নানান কারনে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রকৃত চলচ্চিত্রের সংখ্যা এমনেতেই ভীষণ অপ্রতুল সেখানে এমন কল্পনার আর আবেগে ভর করে মুক্তিযুদ্ধ চিত্রায়িত করতে গেলে প্রকৃত ইতিহাসের চোখে কান্নার জল আসবে না?

সে যা হোক। ব্লগার হিসেবে রুবাইয়াতের এই কটু, দূর্বল চিন্তা প্রসূত, বিকৃত এবং অজ্ঞ উক্তি পড়ে হাসি ছাড়া আরেকটি ভাব মনে উদয় হলো। তার প্রতি করুনা। কারন তার চিন্তা ভাবনা খুবই একপেশে এবং সংকীর্ণ। হয়তো বিশেষ কোন দেমাগে তার মাটিতে পা পড়ছেনা। ব্যক্তি বিশেষ ব্লগার এর লেখা বা জ্ঞান দূর্বল বা আজইরা হতেই পারে। যেমন ব্যক্তি বিশেষ পরিচালকের সিনেমার আযাইরা হয় , হয়েছে। তাই বলে সকল পরিচালক কিংবা সিনেমা আযাইররা হয়ে যায়না। তাই তার এই ব্লগের লেখালেখিকে আযাইরা বলা এবং ব্লগারদের প্রতি বিষোদাগরন করা খুবই হিংসাত্মক নিচু মন ও অজ্ঞতারই স্পষ্ট পরিচায়ক।

আশা করি ভবিষ্যতে সে একজন প্রকৃত মুক্ত চিন্তার রমনী হয়ে আজইরা শব্দের যথাযথ প্রয়োগে সঠিকভাবে যত্নবান হয়ে উঠবেন।