ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

কোরবানীর গরু কিনতে এমন বিড়ম্বনার শিকার বিগত কোন কালেই হতে হয়নি। বিষয়টা বিশেষভাবে আলোড়িত এবং ভাবানগ্রস্থ করেছে সে কারনেই।

ধূপখোলা মাঠ গরুর হাট

বাংলানিউজ২৪.কম থেকে সংগৃহিত উপরের ছবিটি আজ ৬ই নভেম্বর দুপুরের ধূপখোলা মাঠের গরুর হাটের চিত্র। নিঃসঙ্গ বাঁশগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ক্রেতা সাধারনকে উচ্চমূল্য জনিত বাঁশ দেয়ার এক বিমূর্ত ভাস্কর্য যেন। অথচ গতকাল (৫ই নভেম্বর) রাত ১২/১ পযর্ন্তও এই হাটে আমি ছিলাম। সাথে এক মামার পাল্লায় পড়ে দুর্ভাগ্যবশত গরু কেনা হয়নি। আজ সকালের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। ঈদের আগের দিন সকালে হাটে গরুর কমতি কখনও কোন অভিজ্ঞতায় মনে পড়ে না। অপেক্ষাটি তাই দোষনীয় হবেই বা কেনো? হাজার হাজার মানুষও এমনই অপেক্ষায় ছিল।

কিন্তু প্রভাতের সুর্য ওঠার পর একে একে ক্রমে ক্রমে বেশীরভাগ গরু না কেনা মানুষ যখন হাটে যেতে শুরু করল , অবাক হওয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা। গরু যেন সব উধাও হয়ে গেছে। বিক্রেতারাও পেয়ে বসতে শুরু করেছে। দাম চড়াই কেবল নয় অবিশ্বাস্য হারেও তারা হাকাতে শুরু করে দিয়েছে।

বিডিনিউজ২৪.কম এর এক রিপোর্টে নিম্নের উক্তি তুলে ধরলেই একটা ওয়েবিয় প্রমান পাই—

গাবতলী হাটের ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ বলেন, “হাটে গরু কম। ক্রেতাদের ভিড় থাকায় দামও বেশি। ৫০ হাজারের গরু বিক্রি হচ্ছে এক লাখ টাকায়।”

আবার সেই মামার পাল্লায় সকাল থেকে শনির আখড়া, কমলাপুর , গাবতলী এবং নয়াবাজার এর মত চারটি বড়সড় হাট ঘুরেও গরু কেনা সম্ভব হলোনা। কিন্তু জানা হলো অনেক কিছু। গাবতলীতে গরুর দালালদের দৌড়াত্ব দেখে বিস্মতি হলাম। গাড়ী মাঝে মাঝে দুএকটা মহাসড়কের যানজট ছাড়িয়ে যখন এসে পৌঁছাচ্ছে গরু নামাতেই একদল একটু বেশী দামে সেগুলো হাটের ঢোকার আগেই কিনে নিচ্ছে। এড়া সম্ভবত ফড়িয়া শ্রেনীর লোক। নিজ চোখে দেখলাম মানুষ কিভাবে দিশেহারা হয়ে গতকালের দি্বগুন দামে গরু কিনতে বাধ্য হয়ে মুখটা শুকিয়ে তপ্ত রোদে পিপাসার্ত চেহারায় গরু নিয়ে যাচ্ছে। কুরবানী দিতে হবে , এ মন্ত্রে আমরা তো দিক্ষীত আগেই। উপায় নেই। পুরো ঢাকা শহরেরর গতকাল কিনতে না পারা লোক যেন সব জড়ো হয়েছে গাবতলীতে। সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে বিক্রেতারা। মনে হলো এদেরও একটা সিন্ডিকেট গজিয়ে উঠেছে। এবং সেটা বেশ শক্তিশালী। এক হাটের খবর মোবালেও দ্রুত পৌঁছে যায় অন্য হাটে।

বিড়ম্বনা এপর কেবল বেড়েছেই। গাবতলী থেকে কিনতে না পেরে নয়াবাজার ঘুরে বাড়ির কাছে শনির আখড়া। সেখানে কোন গুটিকয়েক যা গরু আছে তাও কোন ব্যাপারী বেঁচছে না। বুঝলাম মধ্যসত্বভোগীর দল গজিয়েছে। তারা গরু গুলো কিনে রেখেছ। তাদের কথা বার্তা বিক্রেতা সুলভও নয়। প্রায় অনেক বিক্রেতাই বলছিল,

একদাম …, কিনলে লন , না নিলে যান।

কঠিন বাজার। কোরবানীর গরু কিনার ধকল শয়ে শযে মানুষের মধ্যে। টিভি নিউজে শোনা যাচ্ছে মহাসড়কে দূর্ঘটনা জনিত যানজটে অরনক গুরুর ট্রাক ঢাকায় পৌঁছাতে পারেনি। একজন আবার বলল,

..শনিবার মোবাইলে ঢাকার বাইরে খবর দেয়া হয়েছে ঢাকায় অনেক গরু , আর গরু পাঠানোর প্রয়োজন নেই…

সারাদিনের মার্কেট পরিভ্রমনে গরু সংকট ও দাম বেড়ে যাবার পেছেন মূলত – দালাল আর মধ্যসত্বভোগী একদল ফড়িয়ার দৌরাত্ব ও বাড়তি মুনাফার লালসা, মগাসড়কের তীব্র যানজট, ঢাকায় গুরুর বিপুল আগমনজনিত ভুল সংবাদ বাইরে ছড়ানো এইসকল কারনই থাকতে পারে বলে মনে হলো।

বিড়ম্বনা এবার নাহয় হয়েই গেলো। কিন্তু ভয়টি হয় বানিজ্য ক্ষেত্র কাঁচা বাজার বা অন্যান্য নিত্যপন্যের ক্ষেত্রে যে বিপুল পরাক্রমশালী সিন্ডিকেটের দৌড়াত্বের খবর আমরা নিত্য শুনি তেমন কিছূ যদি কুরবানীর গরুর বানিজ্যেও সক্রিয় হয়ে ওঠে আসলেই তবে ভবিষ্যতে এই মধ্যবিত্ত মানুষ যারা কোরবানী দিতে চায় তাদের কি হবে?….।

আর কতকাল সাধারন মানুষ, এই আমরা আমজনতা জিম্মি হয়েই রব? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?