ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

কেউ কবিতা লেখেন,কেউ লেখেন গল্প আবার কেউ লেখেন দুটোই। প্রতিভার ঢেউ গুলো প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়তে থাকে তাদের মনে। অথচ অব্যবস্থার কারনে প্রতিভা বিকাশের পথ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর তাই যখন চোখে পড়ে গল্পকবিতা.কম এর আহ্বান….

গল্পকবিতা ডট কম লেখক ও পাঠকের জন্য একটি অনলাইন সামাজিক যোগাযোগের প্লাটর্ফম তৈরীর উদ্যোগ। যেই নবীণ লেখক লিখতে চায়, নিজেকে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় – তারা সবসময়ই একটি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে আসছে। সেই প্রতিবন্ধকতাটি হলো “কাগজের স্বল্পতা”। প্রতিষ্ঠিত লেখকদের লেখার ভীরে নবীণ লেখকের লেখা খুঁজে পায়না তার ছাপার জায়গা। দুই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সেই লেখাটি হারিয়ে যায় অপেক্ষমান থাকতে থাকতে। নবীণ লেখক হারাতে থাকে তার প্রেরনা। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে একসময় উদিয়মান লেখক হারিয়ে যায় সুযোগের অভাবে। এক অদৃশ্য দূর্ভাগ্য বরণ করে নেয় পাঠক সমাজ।

…..তখন একদল সাহিত্যপ্রেমী সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মন উজাড় করে লিখতে থাকে এবং সত্যি সত্যি এই দীর্ঘ ১১মাসে গল্পকবিতা.কম হয়ে ওঠে লেখক পাঠকের এক সুন্দর ও দৃষ্টান্ত মূলক মিলন মেলা।

অনলাইনের ভার্চুয়াল জগত থেকে এক পা দুপা করে মুক্ত বাতাসে সবুজ ঘাসে সেই মিলন মেলা খুঁজে পায় এক নতুন বাস্তব আসর। সম্ভবত প্রথমবারের মত গল্পকবিতা.কম এর অচেনা বন্ধুগন মিলত হয় ২০১১ এর এপ্রিলে বৈশাখী মেলায় বাংলা বর্ষের প্রথম দিনে। তারপর থেকে প্রতিমাসে নিয়মিত। ফেসবুকের মত সোশ্যাল নেটওয়ার্কে মিলন মেলার ঐক্যবদ্ধ গ্রুপ গড়ে ওঠে।

ওয়েব জগতে দীর্ঘদিনের পরিভ্রমনে নানান ব্লগে ঘুরে ফিরে চলার কারনে অনেক অনেক সুন্দর কমিউনিটি গড়ে উঠতে দেখেছি কখনও একাত্ম প্রকাশের সময় সুযোগ পেয়েছি । অনেক সময় গর্বিত হয়েছি অনেক সময় পেয়েছি বিষন্নতা।

গল্পকবিতা.কম এর বন্ধুমেলার বন্ধন দৃঢ়তা অতি স্বল্প সময়ের হলেও একটা আলাদা ব্যঞ্জনা জাগিয়েছে প্রাণে। হতে পারে এটার মূল কারন এখানে সবাই সাহিত্যপ্রেমী। অথচ এখানের শুরুটা গল্পকবিতা লেখার প্রতিযোগীতার মাধ্যমে। প্রতিযোগীতা মানেই একটা অসুস্থ গুতোগুতি শুরু হবার আশংকা। কিন্তু না সত্যি এই দীর্ঘ ১১ মাস পর প্রমাণিত হয়েছে এখানের লেখকগণ প্রতিযোগীতার চেয়ে লেখা এবং আন্তরিকতার উপরই অন্তরকে মিশিয়ে দেয় বেশী। সাহিত্য নিয়ে ঠিক প্রতিযোগীতা হয়না এটা এখানের সবাই বোঝেন ( তারপরও প্রতিযোগীতাটা এখানে প্রয়োজন এই কারনে যে এটা একটা বন্ধন এনেছে। প্রতিযোগীতাটা এখানে ঠিক সুপার গ্লুর মত লেখকগণকে আটকে রাখার এক উপকরণ মাত্র) ।

সাহিত্য যে মননের বিষয় এটা এখানের সবাই বোঝেন এবং মানেন। সেই মননশীল মানুষগুলো গত ৯ই ডিসেম্বর হালকা কুয়াশার প্রভাত চাদর ফুঁড়ে ছুটে যায় বনভোজনের উদ্দেশ্যে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের পূবাইলে।

গল্পকবিতা.কম এর সিনিয়র ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট গল্পকার আখরুজ্জমান ভাইয়ের গ্রামের বাড়ী ঐ স্থানে। ওনার আতিথেয়তা এবং পরম ব্যবস্থাপনায় গল্পকবিতা.কম এর একদল নবীন প্রবীণ সাহিত্যপ্রেমী সাহিত্যক এবং পাঠক স্বপরিবারে বনভোজনের আন্দন উল্লাসে মেতেছিল গতকাল শুক্রবার।

নিরিবিলি গ্রাম্য এক সুশ্রী নান্দনিক প্রাকৃতিক পরিবেশ। একপাশে কচি সবুজ মন মাতানো লাউয়ের মাচা। অন্যপাশে জমিতে চাষ করছেন কৃষক, বন্ধ জলাশয়ে লাল সাদা পদ্ম।
তালগাছ দাঁড়িয়ে একপায়, হিজল গাছগুলো নিশ্চল দাঁড়িয়ে ঠাঁয়।

একটা দিন এই শহুরে জঞ্জালের নিবির আলিঙ্গন থেকে; ব্যস্ততা নামক ঘুনে পোকার কামড় হতে এবং যানজট কৃমির কুটকটু যন্ত্রনা হতে মুক্তি পেয়ে কবিতা আবৃতি, কে হবে সহস্র পতি, পতির নির্দেশনায় হাড়ি ভাঙা, বোতল পাসিং এমন কত আনন্দে খেলায় মেতে ওঠে নানান বয়সী গল্পকবিতা বন্ধুদল। । শিশুরা এঁকে যায় মনের আনন্দে মনের ছবি। নিশ্চয় বহুদূর এগিয়ে যাবে এইসকল লেখক কবি।