ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

543255_10150855258072944_1096678602_n

অপরাধী কিংবা খুনি সনাক্ত করণে ফরেনসিক সাইন্স অনেক অনেক চিন্তাতিত প্রযুক্তিতে পৌঁছে গেছে , তবে সেটা উন্নত বিশ্বে। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আলামত থেকে প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের উচ্চতর প্রয়োগের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি খুঁজে বের করছেন অপরাধীর তথ্য। উন্নত বিশ্বে ফরেনসিক প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সফল পর্যায়ে এখন । ইন্টারনেটে ফরেনসিক টেকনলজি নামে সার্চ দিলেই হাজার হাজার তথ্য পাওয়া যাবে।

ভারতীয় সনি টিভিতে বহুল প্রচারিত সিআইডি টিভি সিরিয়ালে আমরা ফরেসনিক ল্যাবে খুনী সনাক্তের যে সব চর্চা দেখি তা কিন্তু আজ আর অবাস্তব নয। ভিকটিমের মৃতদেহ থেকে প্রাপ্ত খুনীর চুল, রক্ত, গায়ের কাপড়ের সূতো এমন সূক্ষ্ম বিষয় এনলাইসিস করে, ডিএনএ টেস্ট করেও খুনি সনাক্তের বিষয় দেখে থাকি সেখানে। প্রযুক্তি কিন্তু ঐদেখার চেয়েও বেশী অগ্রগতি সম্পন্ আজ।

ফরেনসিক সাইন্স সম্পর্কে সহজ ইংরেজীতে জানতে পাই

Forensic science is a discipline that applies scientific analysis to the justice system, often to help prove the events of a crime. Forensic scientists analyze and interpret evidence found at the crime scene. That evidence can include blood, saliva, fibers, tire tracks, drugs, alcohol, paint chips and firearm residue.

অথচ সাগর-রুনি হত্যাকান্ড বিষয়ে গতকাল আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বলেছেন,

যেখানে সাগর-রুনি খুন হয়েছিল। সেখানে এত বেশি লোক গিয়েছিল যে অনেক আলামতই নষ্ট হয়ে গেছে। পা দিয়ে মাড়িয়ে আলামত নষ্ট করে দিয়েছে।”

“এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া অন্য কেউ আগে যাবেন না। ঘরে ঢুকে আলামত নষ্ট করবেন না,`

শেষোক্ত উক্তিটি অবশ্যই তদন্তের স্বার্থে পালযোগ্য। কিন্তু আলামত নষ্ট হয়ে গেছে এধরনের কথা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী না বললেও বোধহয় হতো। ঐ বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরও উক্তি যেমন বেডরুমে সরকারের পক্ষে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়, কিংবা পূর্বেকার সাংবাদিক হত্যার জন্য সাংবাদিকরা আন্দোলন করেনি , এখন করতে পারছে তারা এখন স্বাধীন- এইসব বিষয়ে পর্যালোচনা আসলে করার কিছু নেই। সবাইই মিডিয়ার কল্যানে জেনে বুঝে নিয়েছেন যে যার মত করে। কিন্তু মোদ্দা কথা হত্যাকান্ডের ১৩ দিন পরেও পড়ছি ও শুনছি-তদন্তের অগ্রগতিতে তেমন কোন বলার মত কিছু নেই। সে কারনেই হয়তো প্রসংগগুলো ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। এ এ দেশে নতুন কিছু নয়।

ভীষন লজ্জার ! ভীষন ভীতি জাগানোর মত বিষয়। আমরা সাধারণ জনগন আতংকিত না হয়ে পারিনা। নিরাপত্তাহীনতা আমাদের মনে মনে ঘোরে ফেরে।

স্বাধীনতার অরনেক বছর পেরিয়েছে। দরিদ্র দেশ বলে বলে অরনেক কিছুই এখানে আজও উন্নত হয়নি। প্রচেষ্টা ফলপ্রসু হয়নি অনেক পরিকল্পনারই। অনেক কিছুই সেই মানে আধুনিকায়ন হয়নি। (এখানে অবান্তর হলেও একটি ছেটা কথা- যে পযর্টন শিল্প আমাদের দারিদ্রতা ঘুচাতে পারত থাইল্যান্ড মালেশিয়ার মত সেটাতও ৪০ বছরে গুনগত এবং মানসম্পন্ন উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়নি) । উন্নত প্রযুক্তির ফেরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

গতবছর জুলাই মাসে চট্রগ্রামে দেশের ২য় ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন

এ ধরনের ল্যাব থাকলে বিভিন্ন অপরাধ, হত্যাকাণ্ড ও মাদকদ্রব্যের আলামত দ্রুত সনাক্ত করা যায়। ফলে অপরাধীদের ত্বরিত ধরা যাবে।

ঐ অনুষ্ঠানেই তিনি আরও বলেন, অপরাধ নির্মূলে এবং অপরাধীদের দ্রুত ধরতে দেশের জেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে

৪৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারী খুঁজে বের করবেন এই ধরনের কথা বলে সেটাকে আবার পরে কৌশল হিসেব কথার একটা মারপ্যাচ চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতা সম্পন্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই কথাকে তবুও আমরা আশা ধরেই নেব। কিন্তু আসরে এইযে ২টি ফরেনসিক ল্যাব এ কতটুকু উন্নত। ডিএনএ টেস্ট কি করা যায় দুইজায়গাতেই? গেলে কতটা সফলভাবে?

বাংলানিউজ ২৪.কম এর এক নিউজে এই নতুন ফরেনসিক ল্যাব সম্পর্কে জানা যায়-
চট্টগ্রামে সিআইডি’র ২য় বৃহত্তম ফরেনসিক ল্যাব

চট্টগ্রাম বিভাগে অপরাধ সংক্রান্ত কার্যকম দ্রুত নিস্পত্তি করতে সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাব এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহত্তর ১১টি জেলার অপরাধ সংক্রান্ত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিক্ষার জন্য চট্টগ্রামে নির্মিত দেশের দ্বীতিয় বৃহত্তম এ ল্যাব কার্যক্রম শুরুর ৭ মাস পর উদ্বোধন….।

…চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার অপরাধ সংক্রান্ত উপকরণ এই ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে অপরাধ সংক্রান্ত যে কোন আলামত পরিক্ষার জন্য উপকরণ পাঠানো হয় ঢাকার সিআইডি দপ্তরে। আর সেখান খেকে জেলাগুলোতে রিপোর্ট আসতে সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস। কিন্ত চট্টগ্রামে এ ল্যাব চালু হওয়ায় ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে অপরাধ সংক্রান্ত যে কোন পরিক্ষার রিপোর্ট।

প্রযুক্তি প্রয়োগ যুগের দাবী। এলোমেলো কথার প্যাচ দেয়ার চেয়ে উন্নতির দিকে ধাবমান হওয়ার কার্যকরী ব্যবস্থার বাস্তবয়ানই বোধহয় সাধাণ জনগণ দেখতে চায়। ফরেনসিক ল্যাব আরও দ্রুত প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলো আধুনিকায়ন রাখা আবশ্যক। তাহলে আর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আলামতকে উপক্ষা করে -আলামাত পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট হয়েছে ধরনের কথা বলার প্রয়োজন হবেনা।

সাগর -রুনির হত্যার কারন এবং খুনিদের জনগণ চিনতে চায়- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য শোনাটা জনগনের জন্য মুখ্য নয়। সেটা কোন আশার বাণী শোনায় না।

আমাদের ক্রাইম রিপোর্টাদের থেকেও কোন অগ্রগতির খবর নিশ্চয় আশা করা যেতে পারে।

নাকি জনগন কেবল ভীতি নিয়ে নিরাশায় সব সময় নিশ্চুপ হয়ে সহ্য করেই যাবে। তাহলে দেশটিকে কেউ তখন আর অরাজক যদি বলে, তার কি অন্যায় হবে?