ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গতকাল ২৬শে মার্চ ৯ বছরে পা দিয়েছে আমাদের বাংলাদেশের এলিট ফোর্স যার নাম আমাদের সকলের কাছে অতি পরিচিত- র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই এলিট বাহিনীর প্রতিটি ভালো কর্ম যা জনগনের জন্য সামান্যতমও শান্তি বয়ে এনছে তার জন্যে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন।

কিন্তু বিডিনিউজ২৪.কম এর র‌্যাবের ৮ বছরে নানা অভিযোগে ৪০০ চাকরিচ্যুত শিরোনামের গতকালের এক রিপোর্টে পড়লাম-

র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর গত আট বছরে এই বিশেষ বাহিনীর প্রায় চারশ’ সদস্যকে বিভিন্ন অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান।

র‌্যাবের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত বিশেষ দরবারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন বাহিনী থেকে বাছাই করে র‌্যাবে লোক আনা হয়। তারপরও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে র‌্যাবের নীতি হলো- জিরো টলারেন্স।”

তেমনি বাংলানিউজ২৪.কম এর ৯ম বছরে পদার্পণ: প্রশংসা-নিন্দার ‘র‌্যাব’ শীর্ষক রিপোর্টি এ উল্লেখ করা হয়েছে –

একই সঙ্গে সুশৃঙ্খল এ বাহিনীর কোনো সদস্যর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর তা কঠোরভাবে তদন্ত করে নেয়া হয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাবের বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৭শ সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সূত্র।

যা হোক মোটামুটি ৪ বছরে এই এলিট বাহিনীর ৪০০জন চাকুরিচ্যুত এবং বাকী ৩০০ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত এমনটা উপরোক্ত দুটি উদ্ধৃতি থেকে ধারনা করা যাচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালকের উক্তি-‘জিরো টলারেন্স’ শুনে খুবই ভাল লাগল। এবং এটা লক্ষ্যনীয় যে এই জিরো টলারেন্স পালনে ৭০০ সদস্য বরখাস্ত সহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের মত ব্যাপক দূর্নীতি প্রবণ দেশের প্রেক্ষাপটে অবশ্যই প্রশংসনীয়।

কিন্তু খুব সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে আমার মনে এরপরও একটু উষ্মা ভাব জাগে। যে বাহিনীটি দেশের একমাত্র এলিট বাহিনী হিসেব নিজেদের দাবী করছে (Only Elite Force of Bangladesh) এবং নানান কাজে তার স্বাক্ষরও রাখছে তাদের শাস্তিপ্রাপ্ত সদস্যগণের সংখ্যাটাও কিন্তু কম না। প্রবল ক্ষমতা প্রাপ্ত একটি বাহিনী, যেখানে খুব দেখেশুনে বিভিন্ন বাহিনী থেকে লোক নেয়া হয় সেখানে অভিযুক্ত লোকের সংখ্যা এত কেন হবে? ধরে নিলাম অধিকাংশ অপকর্মই ধরা পড়েছে এবং অপকর্মকারী শাস্তি পেয়েছে (তারপরও অনেক অপকর্ম হয়তো ধরা নাও পড়ে থাকতে পারে) কিন্তু জনগন কি এতে ভীত হয়ে উঠবে না? রাষ্ট্র কর্তৃক আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে , অন্যায় , অনিয়ম ধরতে অস্ত্রধারী এই বাহিনীর সদস্যদের একটা বড় অংকের এই শাস্তি পাওয়ার নিয়মিত হার দেখে জনগণ কি সংকিত হয়ে উঠবে না?

একজন ক্ষমতাধর অস্ত্রধারী এলিট ফোর্স সদস্য যদি বরখাস্ত হবার মত অন্যায় করে তবে তার সে অন্যায়ের শিকার যে তার ক্ষতিটাও কিন্তু ব্যাপকই হয়ে থাকবে বলেই ধারনা করা যায়।

একজন সাধারণ জনগণ হিসেবে আশা করি আগামীতে জিরো টলারেন্স মানে শাস্তির নিশ্চয়তার ক্ষেত্রই শুধু নয়, শাস্তি পাবার মত কর্ম না করার ক্ষেত্রেও এই এলিট সদস্যরা জিরো লেভেল প্রদর্শন করতে পারবে।