ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ জানুয়ারি ২০১১ সাল ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের হত্যার সঠিক বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনে প্রথমে শিক্ষার্থীরা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এবং পরে শিক্ষক সমাজের ব্যানারে শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করে। সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার দাবী করতে গিয়ে শুরু হয় মাননীয় উপাচার্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অর্থ্যাৎ তিন বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি প্রায় দুই শতাধিক অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষার মানকে বিনষ্ট করে তিনি দিদারসে ক্ষমতার আসনে আসিন ছিলেন। যখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষকগনও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শিক্ষক সমাজ তাদের আন্দোলনের কর্মসূচি টানা তিন মাস চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর শিক্ষাঙ্গনের সকল প্রকার পাঠদান থেকে শুরু করে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাস পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এভাবে আন্দোলনে অবস্থা খারাপ হয়ে গেলেও মাননীয় উপাচার্য কোন ধরনের কর্ণপাত করেনি। যার ফলে শিক্ষক সমাজ তাদের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা আমরণ অনশন এর ডাক দেয়।

আমরণ অনশন শুরু হয় মাননীয় উপাচার্যের বাসার মেইন ফলকে। এভাবে টানা বিশদিন অনশনে থাকার ভেতরে সাংস্কৃতিক জোটের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে ভিসি লীগ নামক বাহিনী তাদের উপর আক্রমণ করে ৭-৮ জনকে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও আমরণ অনশন ডাকে । এভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনশনে এক পর্যায় আন্দোলন তীব থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলে শিক্ষক সমাজের আহ্বায়কসহ অন্যান্য শিক্ষকদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডেকে পাঠান। শিক্ষক সমাজের শিক্ষকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক সমাজের সভাপতি নাসিম আক্তার হোসাইন তাদের অনশনসহ সকল প্রকার কর্মসূচি স্থগিত করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। এর কিছুদিন পর শিক্ষক সমাজের শিক্ষকদের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন স্থগিত করে। সকল প্রকার আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর চলতি মাসের ১৭ মে মাননীয় উপাচার্য পদত্যাগ করেন এবং মাননীয় আচার্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করেন ঢাকাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন স্যারকে। মাননীয় উপাচার্যের পতনের মাধ্যমে জাবিতে আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করে। এই আনন্দ জাবির আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য লভ্যাংশ। প্রাথমিকভাবে এটি আনন্দের বিষয় মনে হলেও এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেমন লাভ করেছে তারচেয়ে হারিয়েছে বেশি। সবাই লাভের পিছনে ছুটলে এই উচ্চবিদ্যাপিঠের ক্ষতির দিকটা কেউ কি চিন্তা করেছেন? সদ্যপদত্যাগী উপাচার্যের অনৈতিক কর্মকান্ডের পিছনে তো নৈতিক কর্মকান্ডও ছিল সেগুলি কি কেউ কখনো খতিয়ে দেখেছেন?

একটু নিরব মনে মনে চিন্তা করলেই বেরিয়ে আসবে আমরা আমাদের খতিয়ানে ক্ষতির অংশ কতটুকু সঞ্চয় করেছি! কারণ হিসেবে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন উপাচার্য থেকে সদ্যপদত্যাগী উপাচার্যের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলেই আমাদের লাভ-ক্ষতির হিসাব পেয়ে যাব। সদ্যপদত্যাগি উপাচার্যের সময়ে শিক্ষাংগনের ভাবমূর্তি কিছুটা নষ্ট হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে উন্নয়নেরও ছোয়া। বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট রয়েছে কিন্তু সাবেক উপাচার্য ড. শরীফ এনামুল কবির স্যার সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় রেখে গেছেন। যেটা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তার গতিটা বৃদ্ধি করে এবং শিক্ষা জীবনের গতিটাকেও সঞ্চারিত করে। আবাসন ব্যবস্থা বৃদ্ধি করেছেন, উন্নত বিজ্ঞান গবেষণাগার করেছেন এমনি আরো অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। মানুষ তার কৃতকর্মের মাঝেই প্রকৃতভাবে বেচে থাকে এটি বুঝিয়ে গেলেন ড. শরীফ এনামুল কবির স্যার। অন্যদিকে আনন্দের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উপাচার্যের ছোয়া পেতে শুরু করেছে। এভাবে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়ায় অনেক শিক্ষকদের মন্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা এমন অনেক প্রবীণ শিক্ষক রয়েছেন যাদের উপাচার্য হবার যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু মাননীয় রাষ্ট্রপতি কেন বাহির থেকে উপাচার্য নিয়োগ করলেন এটা কি কারো বুঝি আসা সম্ভব নয় ? নিজের ঘরের প্রতি নিজের না অন্য কারো ভালোবাসা বেশী? অর্থ্যাৎ বলা যায় মহান রাষ্ট্রপতি যেটা করলেন সেটা এক প্রকার বহুল প্রচলিত প্রবাদের মত ‘মায়ের দরদ না মাসীর দরদ’ সেটাই এখন দেখার বিষয়।