ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বর্তমানে খুবই উত্তপ্ত। বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও আলোড়িত বিষয় হচ্ছে ‘ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’। এই সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুটি পক্ষ-বিপক্ষ শিবিরে চলছে ব্যাপক তর্ক বিতর্ক । বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ত্বাধীন মহাজোট সরকার এবং দ্বিতীয়টি বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্ত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। তৃতীয়পক্ষ নাগরিক ও সুশীল সমাজের বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবিগণও এ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরছেন। তবে বুদ্ধিজীবিরা তাদের মতামত স্পষ্টত প্রকাশ করেননি। তারা হয়তোবা ‘ ঝোঁপ বুঝে কোঁপ মারবেন’ এমনো হতে পারে।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী একটি নির্বাচিত দলের অধীনে নির্বাচন সংগঠিত হবে। এরকম নির্বাচন যেহেতু পূর্বে কখনো হয়নি সেহেতু দেশের জনগণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা কাজ করছে। যদিও পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা অনেক আগে থেকে রয়েছে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গন দ্বিমতে বিভক্ত। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার বারবার ১/১১ এর ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ১/১১ এর জন্য বড় দুটি রাজনৈতিক দলই দায়ী । কেননা এই দুটি রাজনৈতিক দলের বিতর্কিত কিছু কর্মকান্ডের জন্যই মঈন ফখরুদ্দিন এক ধরনের সুবিধা নিয়েছিল। গতবারের তত্ত্বধায়ক সরকার এর মদদপুষ্ঠ বর্তমান আওয়ামী লীগের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন ছিল সামরিক বাহিনীর। কিন্তু ফখরুদ্দীন সরকার বাদে অন্যান্য তত্ত্বধায়ক সরকারের কথা কি মনে পড়েনা ? যারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। এসব কথা মনে পড়লেও হয়তোবা সরকার পক্ষের কেউই তা স্বীকার করছে না। কারণ ১/১১ এর ইন্ধনদাতা সরকার আগামী নির্বাচনে কতগুলো আসনে বিজয়ী হবে সে আস্থা জনগণের ওপর থেকে হারিয়ে ফেলেছে। কেননা সে আস্থাটুকু যাচাই না করেই তারা ভীতু হয়ে পড়েছে। যে জন্য নিজেদের অধীনে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থা করে তারা আবার ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে।
গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন গণতান্ত্রিক সুলভ আচরণ নেই। যে জন্য আমাদের রাজনীতি দুষিত, অবাঞ্চিত। বলা চলে রাজনীতি আজ দূর্বৃত্তদের কবলে পড়েছে। দেশের রাজনীতিতে যদি নেতৃত্বের গুণাবলীতে সঠিকভাবে পরিবর্তন আসে তাহলে দুটি দল , সংসদ ও দেশের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া সম্ভব। দেশে বর্তমান ঐতিহ্যগত পরিবারতন্ত্র বাদ দিলে দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ সুন্দর মনোমুগ্ধকর হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ত্বের ছায়াতলে যে গণতন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে যা দেশের রাজনীতিকে সুন্দর ভবিষ্যতের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। দেশকে সুন্দর ভবিষ্যৎ এ ফিরিয়ে নিতে হলে মৃত(সরকার ঘোষিত) তত্ত্বধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্জীবন প্রয়োজন। বর্তমান তত্ত্বধায়ক নামক সংকট সমস্যার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ নামের প্রহসনের ব্যবস্থা করা হলেও বড় রাজনৈতিক দল দুটির কোন আগ্রহ না থাকায় তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। সেগুলো হলো, দেশের কত শতাংশ লোক এ সরকার ব্যবস্থা ফিরে পেতে ইচ্ছুক? আমরা শুধু জানি তত্ত্বধায়ক ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীক জরিপ কিন্তু সমগ্র দেশের মানুষ নির্দলীয় ব্যবস্থা নিয়ে কী ভাবছে? এটা জানাই এখন সময়ের প্রকৃত দাবী। তবে এ সরকার ব্যবস্থার জন্য মতামত বা জরিপ অতি শীঘ্রই দেয়া দরকার । একচোখা বিশ্লেষক , আইনজীবি , বা কোন রাজনীতিবীদদের মতামত গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার বাাংলাদেশের দুষিত রাজনীতির ক্ষেত্রে সংলাপের বাড়তি আয়োজন করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন যেটার সেটা হলো রাজনৈতিক দলের একে অপরের উপর আস্থাশীল হওয়া। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সংলাপ , মতামত বা বিশ্লেষকদের বিশ্লেষন কোন রাজনীতিবীদরা কর্ণপাত করেনা। এজন্য সর্বাগ্রে দরকার আস্থাশীলতা ও বিশ্বাস। যদি সেটা না হয় তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকার রাজনীতির কবলে পড়ে থাকবে। এখন প্রশ্ন হলো আমাদের এই রাজনীতি আর কতকাল অন্ধকার এবং দুর্বৃত্তদের বৃত্তাকারে পড়ে থাকবে? মেধাবী প্রজন্ম কী রাজনীতিতে আসবে না? নাকি এই রাজনীতি নামক অগণতান্ত্রিক চর্চার কবলে বেড়ে উঠবে? রাজনীতির আশার আলো পেতে হলে দরকার হিংসাত্মক রাজনীতি ছেড়ে গণতন্ত্রের চর্চা করা। আর জনগণের ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নিকট আস্থা অর্জন করা। তাহলে রাজনীতি স্বচ্ছ সুন্দর ও গণতান্ত্রিক হবে এবং দেশের রাজনীতির যে অস্বচ্ছ দুর্নাম রয়েছে সেটা মুছে যাবে।