ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তরুণদের উদাত্ত কণ্ঠে আহবান জানিয়েছেন-
“কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাকিছে ভবিষ্যৎ
এ তুফান ভারি দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার”

তরুণরা অনাগত প্রজন্মের ভবিষ্যৎ । তরুণরাই পারে সকল অসাধ্যকে সাধন করতে । তারুণ্যর সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া সম্ভাবনাময়ী সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা ঠিক নয় । দীর্ঘ নয়টি মাস বুকের তাজা রক্ত যারা রাজপথে ঢেলে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) নামক অংশটি স্বাধীন করল, তাদের তাজা রক্তের উপর দাড়িয়ে আজ স্বাধীন দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে চলেছি । আমরা যারা অনাগত প্রজন্মের ভবিষ্যৎ তাদেরকে এখন দেশের গণতন্ত্রের কান্ডারী হবার সুবর্ণ সময় । বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি অন্যতম দেশ যেখানে রাজনৈতিক দুটি দল সর্বদা হানাহানি, মারামারি, অরাজকতা মোট কথা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে অভ্যস্ত । যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বেড়াজাল থেকে দেশের জনগণ (বেশীর ভাগ) একটু স্বস্তি পেতে মুখ উঁচিয়ে আছে । এই নিরীহ জনগণকে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে পারে শুধু মাত্র বর্তমান তরুণরাই । আর তরুন প্রজন্মই পারে দেশের রাজনীতিতে “তৃতীয় শক্তি” হিসেবে গড়ে উঠতে । মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর (মিডিয়া ও উন্নয়নকর্মী) প্রথম আলোর একটি কলামে বলেন “যুব শক্তিই হবে তৃতীয় শক্তি” [ প্রথম আলো- ০৬/১০/২০১২] আমি এই বক্তব্যর সাথে একমত । দেশের প্রতিদিনের রাজনৈতিক হাল চাল নিয়ে আমাদের বিশেষজ্ঞগণ সমালোচনা করতে শুধু ভালোবাসেন । কিন্তু এই কঠিন পথ থেকে উৎরায়ের সমাধান কী সেটা কেউ বলেন না । হ্যাঁ তবে আমাদের প্রবীণ যারা, দেশের জন্য তাদের অবদান কম নয় ।

ভাষা অর্জন থেকে শুরু করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত এবং দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে পরিচিতি অর্জন করাতে আমাদের প্রবীণদের অনেক হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়েছে । তারা আজ পরিশ্রান্ত, ক্লান্ত । “পাল ছাড়া একটি নৌকা যেমন ঢেউ তোলা নদীতে” চলতে পারেনা ঠিক তেমনি বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে “তৃতীয় শক্তির” বড় প্রয়োজন । দেশে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, সামাজিক পরিস্থিতি সমূহ জটিল হচ্ছে, দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে যাচ্ছে, দিন যাচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হচ্ছে, দেশের কর্মসংস্থান দলীয়করণ হচ্ছে, সকল ক্ষেত্রে কোটা ভিত্তিক রাজনীতি হচ্ছে । এ সমস্ত বিষয় গুলো আমাদের তরুণ প্রজন্মের এখন আলোচনার প্রধান খোরাক । আগামী সভ্যতা আমরা কিভাবে গড়ব সেটার মডেল কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে চিন্তা ও কাজ শুরু করা উচিত । নিজের মাতৃভূমিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে কোন ভি,আই,পি ব্যক্তি হতে হয় না ।

দেশকে গড়ার জন্য সকল তরুণরাই তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি “গঠন প্রনালী” তৈরি করতে পারে । তার জন্য দরকার সততা, সাহস ও যোগ্যতা । আমাদের তরুণদের অনেকের যোগ্যতা, সততা রয়েছে, কিন্তু অভাব হল সাহসের । বর্তমান আইন বিভাগের স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া, মিডিয়া গুলোর নিরপেক্ষতা, দক্ষ জন শক্তি উৎপাদন, প্রতিটি তরুণদের মাঝে গণতন্ত্রের চর্চা, শিক্ষার মান ইত্যাদি বিষয় গুলো আজ প্রশ্নবিদ্ধ ? দরকার ছিল শিক্ষার মানের উন্নতি ও ব্যয়ভার কমানো । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল ক্ষেত্রে শিক্ষার ব্যয়ভার সহজ করে দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধি করে তরুণ প্রজন্মকে সকল ক্ষেত্রে হাল ধরার সুযোগ করে দেয়া । দেশকে বিশ্বমানচিত্রের মডেল হিসেবে গড়তে হলে তরুণ মেধাবীদের স্বচ্ছ রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার সাথে যুক্ত হতে হবে । নতুবা দেয়ালে মাথা ঠুকিয়ে মারা গেলেও কোন বিষয়েরই সমাধান সম্ভব নয় । তবে চেষ্টা চালালে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় । তবে সেক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে । তবে দেশের ইতিহাস ভিত্তিক সকল সমালোচনার সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশের জাতি ভিত্তিক বিভক্তি দূর করে দেশের উন্নয়নে শত ভাগ শিক্ষিত, দারিদ্রহীন করে গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতি সচেতন হতে হবে । প্রসঙ্গতভাবে, মালালা ইউসুফজাই এর মত তরুনী যদি পাকিস্তানের মত দেশের গর্ব হতে পারে তবে আমাদের তরুণদের সমস্যা কথায়? আগামী ১৫ বছরের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনৈতিক “তৃতীয় শক্তি” হবার টার্গেট গ্রহণ করতে হবে । তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া । দেশ ও মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে দেশের রাজনীতিতে “তৃতীয় শক্তি” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, সকল দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অরাজকতা, পরিবার তন্ত্রের নেশাগ্রস্থতার গান্ডি পেরিয়ে সঠিক সমাজ বিনির্মাণের উপযোগী নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পূর্ণ হবার সময় আসন্ন । তবে সঠিক সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রজন্মকেই নিতে হবে । তাহলে আগামী সভ্যতা হবে সুষ্ঠ, সুন্দর ও স্বচ্ছ ।

লেখক পরিচিতি
মোঃ মামুনুর রশীদ
শিক্ষার্থী ও ব্লগার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইলঃ ০১৯৪০৩৫৬৭১১