ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক

বর্তমান সময়ে বিশ্বে নতুন সব রোগ , প্রতিবন্ধকতা এবং মানুসিক সমস্যার উদ্ভব ঘটেছে। এসব রোগে শিশুসহ বয়স্ক ব্যাক্তিরা আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে আলোচিত রোগ হলো অটিজম। তবে অটিজম নামক রোগের সন্ধান মিলেছে খুব বেশী দিন আগে নয়। ১৯৪৩ সালে ডা. লিউ কানার নামক একজন মনোবিজ্ঞানী এ রোগ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেন। ১৯৮০ সালে ঘধঃরড়হধষ ংড়পরবঃু ভড়ৎ অঁঃরংঃরপ পযরষফৎবহ(টঝঅ) এর প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন প্রতি ১০০০০ জনে ৪/৫ টি শিশু অটিজমে আক্রান্ত এবং এদের মধ্যে ছেলে মেয়ের অনুপাত ৪ঃ১। ১৯৯৭ সালে এই সংখ্যা দাড়িয়েছিল ১০০০০ জনে ৯১ টি শিশু। বর্তমানে এই সংস্থাটি জোরদারভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে বর্তমানে ১৫০ জন শিশুর ১ জন(অঝউ) শিশু। প্রতি ৫০০ জনে ১ টি শিশু অটিস্টিক। ছেলে মেয়ের অনুপাত ৫ঃ১। অটিস্টিক শিশুদেও যোগাযোগের সমস্যা দেখা যায়। এ রোগ সম্পর্কে অনেকের ধারণা অস্পষ্ট। শহর এলাকায় এনজিও অটিজম নিয়ে কাজ করলেও গ্রামাঞ্চলে এর তেমন কোন কার্যক্রম বর্তমানে নেই। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

অটিজম শিশুর মস্তিষ্কেও বিকাশ জনিত প্রতিবন্ধকতা যা জন্মেও পর থেকে প্রথশ ৩ বছওে প্রকাশ পায়। যার মাধ্যমে শিশুর সামাজিক আচরণ, যোগাযোগ এবং কল্পনাশক্তির পরিবর্ধণগত জটিলতা সৃষ্টি করে যা চিকিৎসকদেও মতে , অঁঃরংস ংঢ়বপঃৎঁস ফরংড়ৎফবৎ(অঝউ) নামে পরিচিত। বিশেষজ্ঞগণ অটিজমের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে টঃধ ভৎরঃয তার গবেষণায় দেখেছেন য়ে যেকোন ধরণের ‘ জেনেটিক ফল্ট’ মস্তিষ্কেও আঘাতের কারণে শিশুর যে কোন ধরনের উবাবষড়ঢ়সবহঃ উরংড়ৎফবৎ হয় যা এই রোগের পূর্বলক্ষণ।
তবে বর্তমানে সমস্ত গবেষকরাই মনে করেন অটিজম মস্তিষ্কেও রোগ । জন্মেও সময় একজন অটিজম আক্রান্ত শিশুর মস্তিষ্কেও আকার স্বভাবিক হলেও দুই বছরের মধ্যে সেটি দ্রুত বড় হতে শুরু করে। অনেক সময় দেখা যায়, ৪/৫ বছরের অটিজম আক্রান্ত শিশু ১২-১৩ বছরের একজন কিশোরের সমান। গবেষকরা আরো কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন সেটা হলো, একজন স্বাভাবিক শিশু যে কাজের জন্য মস্তিষ্কেও যে অংশ ব্যবহার কওে অটিস্টিক শিশুরা সেটা করেনা।

তবে অটিজমের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পায়,
 খুব ছোট অবস্থায় বাচ্চার ডাকে সাড়া দেয়না
 অন্যদেও সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনা।
 শিশুর মধ্যে প্রচন্ড আতœকেন্দ্রিকতা থাকে
 ঊুব পড়হঃধপঃ থাকে না।
 শিশুর নিজস্ব কোন আগ্রহ থাকেনা
 পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করতে থাকে
 একাকি থাকতে বেশী পছন্দ করে
 নির্দিষ্ট বস্তুর সাথে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়
 অপ্রাসঙ্গিক কথা বেশি কথা বলে

অটিজম চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্বজনিন ও কার্যকর কোন পদ্ধতি নেই।ঔষধ নই বরং শিক্ষার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব। তবে অটিজমের জাদুকরি কোন চিকিৎসা নেই বরং যত দ্রুত রোগটি সনাক্ত করা যায় এবং যত দ্রুত একটি সঠিক শিক্ষার কার্যক্রম দেয়া যায় তত তাড়াতাড়ি তার উন্নতি করা সম্ভব । প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর প্রতিভা ও সমিাবদ্ধতা মূল্যায়ন করে একটা যথোপযোগি শিক্ষ কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে পারলে এই শিশুযরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পাওে ।তবে কোন কৌশলগত শিক্ষার কার্যক্রম এই শিশুদেও সামাজিক যোগাযোগ, আচরণগত সমস্যা, কোন বিষয়ে দক্ষতা তৈরি কওে সামাজিকভাবে চলাফেরার পথতৈরি করা যায়। এই ক্ষেত্রে অটিজমের শিশুদেও অবজ্ঞা, অবহেলায় না রেখে বিশেষ শিক্ষা কৌশল সম্পন্ন স্কুলে ভর্তির মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

লেখক পরিচিতি
মো. মামুনুর রশীদ
শিক্ষক
আনন্দশালা স্কুল
(বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশ কেন্দ্র)
জাকসু ভবন , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়