ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গতকাল অফিস থেকে ফিরে বাসার সামনের চায়ের দোকানে বসে কাপে কেবল এক চুমুক দিছি, পাশ থেকে কথা বলার জন্য উসখুস করা এক যুবক একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ এটা দিয়ে শুরু করে … শুরুতে সে বলে বসল যে সে রাজনীতি পছন্দ করে না, আওয়ামলীগ বিএনপি করে না, সে রাজনীতি খুব অপছন্দ করে। এরপর সে খুব দ্রুত দেশ এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যেভাবে হরহর করে বলে গেল তাতে মনে হল সে আমার চেয়েও বড় রাজনীতি সচেতন। কোন দল কোনটা ঠিক করে নাই, দেশের কোনটা কম পড়েছে সব কিছু সে বুঝে। নিজের অধিকার, দেশের অধিকার সব কিছুই সে বুঝে।

সে আমেরিকা বুঝে, রাশিয়ার পুতিন বুঝে, ভারত বুঝে, বর্ডার বুঝে, দূর্নীতি বাজেট কিংবা ভারত দেশটা খারাপ হলে ওদের প্রশাসন ভালো এবং ওদের প্রশাসনের মত আমাদের দেশ হলে দেশ এগিয়ে যেত সব কিছু বুঝে।

প্রায় মিনিট ১৫ কথা হল তার সাথে। সে আমাকে প্রায় কথা বলার সুযোগ কম দিয়ে ১৫ মিনিটে গড়গড় দেশের বাইরের কোথায় কি ঘটছে আমেরিকা কাকে আক্রমন করতে পারে, ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসলে কি সমস্যা হতে পারে, আওয়ামলীগ যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে কি হতে পারে, বিএনপি যদি আন্দোলন জমাতে পারে কি হতে পারে সব কিছু নিয়েই সে বেশ ভালো ভাবে চিন্তা করে।

আমি শেষে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে আবার এদিকে বৃষ্টি আসছে দেখে তাকে বিদায় জানালাম। বল্লাম, এখানেইতো থাকি আবার কথা হবে।

অনেকেই বলতে শুনি সে রাজনীতি করে না, কিন্তু আপনি যদি নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন থাকেন এবং আপনার অধিকার নিয়ে কথা বলেন এবং বলতে জানেন আপনি কি রাজনীতি করছেন না তাহলে ? আমি মনে করি মানুষ তার জন্মের সাথে সাথে রাজনীতি শিখে যায়, দুধ না পেলে বা খিদে পেলে যে কেঁদে জানান দেয় তার অধিকার এর কথা।

অনেকেই দেখি ভোট দেন না বা ভোট দিতে পছন্দ করেন না বলে বেশ গর্ব বোধ করেন। অনেকেই এটা নিয়ে ‘খোঁড়া’ যুক্তি উপস্থাপন করেন যা আমার কাছে বালখিল্যতা ছাড়া আর কিছু মনে হয়না। এটাকে নাগরিক উদাসীনতা বলেই মনে হয়।

ধন্যবাদ