ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, ধর্ম বিষয়ক

অভিজিৎ এর মৃত্যু টা হঠাৎ শুনে খুব বিষণ্ণ হয়ে পড়লাম তারপর অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করে তার মুক্তমনা ব্লগে লেখা গুলি পড়লাম পড়ে আরো হতবাক হয়ে গেলাম এবং উত্তেজিত হয়ে গেলাম বুঝলাম না কিছু কিছু বাচ্ছা ছেলে পবিত্র কোরআন হাদিস না জেনে কি ধরনের বিশ্রী সব মন্তব্য করে চলেছেন আসলে খুব খারাপ লাগছে তাদের মন্তব্য গুলি পড়ে। আমি কলম হাতে পেয়েছি বলে যা খুশি তা লিখে যাব তা কখনো গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না।

আসলে ধর্ম হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস কেউ যদি সেই অনুভূতিতে আঘাত দেয় তাহলে সে তা কখনো মেনে নিতে পারে না।তাই বলে তাকে খুন করে ফেলতে হবে এটা কখনো মেনে নিতে পারা যায় না।আমাদের রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে এক জন মানুষ কে হত্যা করল সে পুরা মানব জাতিকে হত্যা করল। আর মক্কা বিজয়ে সেই চুক্তির কথা সবাই তো জানেন সেই দিন যদি শক্তি প্রয়োগ করে পবিত্র মক্কা বিজয় করা অসম্ভব ছিল না তার পর ও আমাদের রাসুল (সাঃ) সেইদিন চুক্তি করে ফেরত এসেছিলেন। যেখানে আমাদের খলিফা (রাঃ) অনেক নারাজ ছিলেন।পরবর্তীতে আমাদের রাসুল (সাঃ) বললেন আমি শান্তি প্রতিষ্টার জন্য এসেছি। উনি দুনিয়াতে কি সুন্দর শান্তির প্রতিষ্টার উদাহরণ রেখে গেছেন কিন্তু আজ আমরা ধর্মের নামে কি করে চলেছি।একবার প্রশ্ন করি নিজের বিবেকের কাছে আজকে IS বলি, বকো হারাম বলি, তালেবান বলি, আনসার বাংলা সেভেন বলি, আদৌ কি ইসলাম প্রচার করছেন নাকি ইসলামের ক্ষতি করছেন। আমার ত মনে হচ্ছে ক্ষতি করে যাচ্ছেন।
এই ভাবে যদি হত্যা করে যদি ইসলাম প্রচার করতে হয় তাহলে আমি তাদের সাথে কখনো একমত নই। আমি যখন দুবাইতে থাকতাম আমার ফ্লাটে আমরা চার জন একসাথে থাকতাম একজন মুসলিম, একজন হিন্দু, একজন ক্রিষ্টান, এক জন ছিল শিখ, প্রায় তিন বছর আমরা এক সাথে ছিলাম চার ধর্মের লোক যার যার ধর্ম সে সে পালন করেছি একজন আরেকজনের সাথে বিতর্ক করেছি কই আমাদের মধ্যে কখনো কোন কারনে ঝগড়া টি পর্যন্ত হয়নি, এমন কি আমি দেখেছি দুবাইতে একটি মসজিদ এবং একটি মন্দির রয়েছে ১৫ মিটার এর মধ্যে। এবং ১৫ মিটার এর মধ্যে রয়েছে শিয়া ও সুন্নি মসজিদ আবুধাবিতে।কত সুন্দর সহবস্থান এর মধ্যে ধর্ম পালন করে যাচ্ছে সবাই। আসল কথা হচ্ছে আমরা চার বন্ধু একসাথে থাকতে পেরেছি এই কারনে তা হল সন্মান বোধ একজন আরেকজনের ধর্মকে সন্মান দেখাতাম তাই।আশা করি সবার চিন্তার উন্নয়ন হবে।

ধন্যবাদ সবাইকে মান্নান আলজেরিয়া থেকে।