ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে দুবাই, কাতার, সৈদি, লিবিয়া হয়ে আমি এখন আলজেরিয়াতে এই প্রবাস জীবনের আনেক খুঁটি খাটি বিষয় নিয়ে লেখা হয় আজ লিখতে বসেছি খুবই সেনসেটিভ বিষয় নিয়ে সেইটা হল আমাদের দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির কর্ম কলাপ নিয়ে ও সরকার এর দায়বদ্ধতা নিয়ে। সবাই জানেন বর্তমানে মধ্যপ্রাচে আধিকাংশ দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ এই ব্যাপারটি আমি খুবই কাছের থেকে অনুধাবন করার সু্যোগ হয়েছে, আমার। আমাদের দেশ থেকে যে সকল লোক জন বিদেশে আসেন তারা সাধারণত দুই পর্যায়ে এসে থাকে তা হল এজেন্সি অথবা আত্মীয়তার সূত্র ধরে। কিন্তু কথা হল এই এজেন্সিগুলো এত বেশি পরিমাণ টাকা আদায় করে নেয় যা তার খরচার চেয়ে ৩/৪ গুন বেশি। আমাদের কোম্পানিতে বেশ কিছু লোক এনেছে। ২৭৫ ডলার বেতনে হেলপার পদে ঢাকার কয়েকটা এজেন্সির মাধ্যমে। কোম্পানি এই ভিসার জন্য কোন প্রকারের খরচ নেয়নি এবং বিমানের টিকেটও কোম্পানি বহন করেছে। এখানে আসার পরে যখন তাদের জিজ্ঞেস করলাম। এক এক জন তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা করে দিয়ে তারপর তারা এসেছেন- শুনে আমি সম্পূর্ণ অবাক হয়ে গেলাম। ২৭৫ ডলার এর বেতনে, ওভারটাইম মিলিয়ে কোন অবস্থাতে তারা ১৮০০০ টাকার বেশি টাকা মাসে বাড়িতে পাঠাতে পারবে না। থাকা খাওয়া কোম্পানি বহন করে থাকেন। কিন্তু কথা হলো, যে টাকা তারা এজেন্সিতে দিয়ে এসেছেন কত দিনে তা শোধ করতে পারবেন বা আদৌ শোধ করতে পারবেন কি না জানিনা। কিন্তু এজেন্সি সুন্দর আখের গুছিয়ে নিলেন। ২০০ লোকের অর্ডার দেয়া হয়েছে, তাদের কম করে হলেও লাভ সরূপ ২ লক্ষ টাকা করে নিলে (খরচা বাদ দিয়ে) ও প্রায় চার কোটি টাকার ইনকাম করে নিলেন আর ২০০ লোকের কত বছরের ইনকাম আপনারা নিয়ে নিলেন একবার ভেবে দেখুন।

কী ভাবে ঠকানো হল এই লোকদের! তাদের থেকে তিন সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিল আর আসার সময় ভিডিও রেকর্ড করে নিল এই বলে, আমি ৮০ হাজার টাকা দিয়ে যাচ্ছি। আর একজনের কথা শুনে আমি আরো অবাক ওই লোকটি সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দিয়েছেন। যখন বিমানবন্দরে এসেছে এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি শার্ট দিয়েছে পরিধানের জন্য। ওই শার্ট বাবদ আদায় করে নিয়েছেন সাড়ে তিন হাজার টাকা, যতক্ষন টাকা দেয়নি ততক্ষণ টিকেট হাতে দেয়নি এমন কি তার কাছে ৩২০০ টাকা ছিল। সে বলেছে আর টাকা নাই, তারা বলল- তোমার আত্মীয় যারা এয়ারপোট এ এসেছে তাদের থেকে নিয়ে দাও। সে বলেছিল তারা যদি এই টাকা দিয়ে দেয় তাদের সুদূর পাবনা যাওয়ার জন্য আর টাকা থাকবে না। তারপরও তার থেকে বাকি টাকা আদায় করে টিকেট হাতে দিয়েছে।

৩০০ শত টাকার শার্ট দশ গুন দাম দিয়ে নেওয়ার বাধ্য করা হল কি অমানবিক আচরণ সত্যি কষ্টকর। এই কথাগুলি কাউকে বলার নাই তাই লিখছি, সরকারেরও এর জন্যও কিছু করার নাই মনে হয় কারন তাহাদের তো চোখ থাকিতেও অন্ধ, যেখানে ইন্ডিয়াতে কোন এজেন্সি যদি ৪০/৫০ হাজারের বেশি টাকা নেয় সরাসরি পুলিশকে জানাতে পারবেন। আমাদের দেশের এ যেন দেখার কেউ নাই।তাই যাহারা এই লেখাটি পড়বেন তাদের কাছে অনুরোধ করছি সবাইকে জানানোর কেউ যেন এক/দেড় লক্ষ টাকার বেশি দিয়ে যেন আলজেরিয়াতে না আসেন। আর এই লোকগুলি এখন অতিরিক্ত টাকা ইনকাম করতে গিয়ে করবে অন্য কোন অসৎ উপায়। আর আমরা হয়ে যাব এক প্রকারের অপরাধী মানুষ এবং যখন এর সংখ্যা অধিক হয়ে যাবে যে কোন দেশ বাধ্য হবে বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করতে আর আমরা কি সুন্দর ভাবে একটি অপরাধী রাষ্ট্রের ঠিকানা করে নিচ্ছি… আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন ধিক্কার জানাচ্ছি সেই অসাধু আদম দালালদের, যাদের জন্য নিজের মাতৃভূমির এই অপমান।

 

ধন্যবাদ সবাইকে।
মান্নান আলজেরিয়া থেকে।