ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

অনেক দিন ধরে ব্লগ লিখিনি কারণ ভয়ের মধ্যে ছিলাম কারণ যে ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানো হয়।সেই ব্লগের কারনে না আবার মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হয়ে যায়।যাই হোক বিবেকের কারনে ফিরে এলাম। বেশ কিছুদিন ধরে কিছু সংবাদ মনে নাড়া দিয়ে উঠল জাতীয় সাংসদ মঞ্জুরুল এর গুলি করেছেন এক শিশুকে। জাতীয় ক্রিকেটার ও তার পরিবার এর হাতে শিশু নির্যাতিত। গো মাংস খাওয়ার আপরাধে মানব হত্যা। জামারাত এ গেইট বন্দ করে দিয়ে সন্মানিত হাজী সাহেবদের হত্যা। ভারতের এক গৃহকর্মীর হাতের কব্জি কেটে নিলেন সউদিয়ার নাগরিক।

আমাদের মহান সাংসদের পিস্তল আছে উনি আবার পুলিশ পোটেকশন ও পেয়ে থাকেন তাই যদি হয় জাতীয় সাংসদ দের নিরাপত্তার হাল, আমাদের মত সাধারন জনগণের নিরাপত্তা ত কি অবস্থা হবে তা অকল্পণীয় সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা কে দিবে? যাই হউক ধরে নিলাম অনেকদিন ধরে পিস্তলটি অব্যবহারে পরে আছে তাই টেষ্ট করা দরকার নিজের ঘরে ত কেউ নাই সব ত জনগণ এর টাকায় বিদেশে পাটিয়ে দিয়েছেন। আর ছোট্ট শিশু মারলে ঝামেলা কম তাকেই বেঁচে নিলেন জরিমানা দিলে বেশী দিতে হবে না তাই না। কি আর করা হিরক দেশের হিরক সাংসদের যখন পিস্তল আছে সেইটা দিয়ে গুলি শিশুকে করবে না ত নিজে পাশ্চাতে করবে নাকি? উনি গিয়েছেন আবার জামিন নিতে তাকে ত আগে জনগণের জুতাপিটা খাইতে দেওয়া উচিৎ। তারপর বিচার।

আমাদের আর এক জাতীয় কুলাঙ্গার ক্রিকেটার নাম তার শাহাদাত নিজে এবং নিজের বউয়ের দিয়া এক শিশুকে দিনের পর দিন নির্যাতনের টেষ্ট ম্যাচ খেলে চলেছেন।এখন কেন জানি মনে হচ্ছে তা বলিং দেখে যখন হাততালি দিতাম তখন তার বউ সেই খুশীতে কাজের মেয়েকে মেরে প্রমান করত দেখ আমি ও কম নই। আমার সেই হাততালি পেয়ে তার বউ এত অহংকারী হয়ে যেত, আর কপাল পুড়ত সেই অভাগা শিশুটি।এই হল জাতীয় লোকদের জাতীয় মানবতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।তাই সবার কাছে অনুরোধ প্রথমে নিজের ভিতর অমানুষটাকে হত্যা করি আগে।

এবার আসি ভারত প্রসঙ্গে গোমাংশ খাওয়ার অপরাধে দাদরি গ্রামের আখলাখক নামক ব্যাক্তি কে হত্যা করেছেন প্রতিবেশিরা।বি জে পি যে দিন থেকে মহারাষ্টে গরুর মাংস নিষেধ করেছিলেন সেইদিন থেকে মনে মনে ধারনা হচ্ছে কিছু একটা অঘটন হবে তা ঘটে গেল কিন্তু গ্রামবাসী দের কথা বাদ দিলাম তারা না হয় অশিক্ষিত ছিল বা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ নাবুঝে হত্যা করে ফেলেছে কিন্তু দেখলাম তা নয় তাদের সংসদে ও সেই একই অবস্থা। পশু মারার জন্য মানুষ মেরে ফেলেছে সেখানে মানুষের চেয়ে পশুর মুল্য বেশী আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। এক বার এক কৌতুক পড়েছিলাম এক লোকের ছাগলের বাচ্ছা হয়েছে বলে উনি গরু জবেহ করে খানা পিনার আয়োজন করেছিলেন এখন অবস্থা সেই রকম মানব মেরে পশু প্রেমের জয়গান গাইতে হবে।তাই বলছি আগে মানবতা শিখেন তারপর ধর্ম বা পশুপ্রেম শিখবেন।

সাউদিয়াতে এক আরব লোক তার বাসার কাজের মেয়ের হাতের কব্জি কেটে দিয়েছেন। সবাই ভাবছেন চুরি করেছে তাই, আসলে সে রকম নয় কাজে করার অপারগতার কারনে তার হাতের কব্জি কেঠে নেওয়া হয়েছে। এই আরবিদের অমানুষ সুলভ কাজের জন্য,তাদের দেশে হাউজমেইডদের নিরাপত্তায় আলাদা কানুন তৈরী করতে হয়েছে। আর মহান আল্লাহ্‌ যত নবী রাসুল পাঠিয়েছেন সব আরব দেশে মানবতা শিক্ষা দেয়ার জন্য কিন্ত আদৌ তারা মানবতার শিক্ষা কতটুকু পেয়েছেন তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ।যেখানে জামারাতে গেইট বন্দ করে বাদশার ছেলে এতগুলি সন্মানিত হাজি ভাইদের হত্যা করতে পারে তাদের দ্বারা এক হাউজ কর্মীর হাত কেঠে নেওয়া খুব সহজ একটা ব্যাপার।তখন জামারাত এ শয়তান এর পিলার এ পাথর না মেরে বাদশার ছেলে কে পাথর মেরে শেষ করে দিলে উচিৎ শিক্ষা হত।যার কারনে পুরা বিশ্ব এতগুলি হাজি ভাইদের হারাতে হল।সউদিয়াতে চুরি করলে হাত কেঠে ফেলা হয় এখন দেখার অপেক্ষায় আছি হাত কাটার জন্য কি কেঠে নেয়। এই হল সউদি মানবতা শুধু স্বর্ণের কমোডে মল ত্যাগ করেলে মানব হয়না, মনে মানবতা থাকতে হয় তারপর হবেন মানব।

পৃথিবী, মানু্‌ষ, মানবতা, ধর্ম। ধর্ম মানুষকে মানবতা শিক্ষা দেয় আজ সেই ধর্মের নামে খুন করছি মানুষ আর যদি মানুষ ই না থাকে পৃথিবীতে তাহলে ধর্ম কে রক্ষা করবে? তাই সর্বপ্রথম মানবতা শিখি তার পর রক্ষা হবে মানুষ, আর মানুষ রক্ষা করবে ধর্মকে।তাই আসুন সবাই মানবতার ধর্ম কে আগে বাঁচায় গায় মানবতার গান।

ধনব্যাদ সবাইকে মান্নান আলজেরিয়া থেকে।