ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

আলজেরিয়া পৃথিবীর ১০ম বৃহত্তম দেশ অবস্থান উত্তর আফ্রিকাতে পাশাপাশি লিবিয়া, তিউনেশিয়া, এবং মরক্কো অবস্থিত.১৯৫৪-১৯৬২ সাল পযন্ত দশ লক্ষ শহীদের জীবনের বিনিময়ে দীর্ঘ লড়ায়ের পর স্বাধীনতা লাভ করে ফ্রান্স থেকে। তাদের রয়েছে অফুরন্ত খনিজ সম্পদ গ্যাস এন্ড তেল যাহার আনুমানিক পরিমাণ ৭০৭ ট্রিলিয়ন ঘন ফুট ও ১২.২ বিলিয়ন ব্যারেলের মত। স্বাধীনতার পর বেশ কিছু দিন নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলছিল বর্তমানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।আবহাওয়া ও অনেক আরামদায়ক মধ্যপ্রচের মত গরম নয়। আমাদের দেশের সাথে বরাবরই সুসম্পর্ক বজায় ছিল এই দেশটির সাথে। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলজেরিয়া সফর করেন এবং ১৯৭৪ সালে তৎকালীন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব হুয়ারি ভুম্রদ্দিন বাংলাদেশ সফর করেন দুই দেশের মধ্যে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।২০০৭ সালে আলজেরিয়ান রাষ্টদুত মিঃ Larbui nadir (ইলামামাবাদ এ অবস্থান করা) আমদের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জনাব ইয়াজ উদ্দিন এর সাথে বঙ্গভবনে দেখা করেন এবং দুই দেশের ব্যাবসা বানিজ্য সম্প্রসারন এর বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং উনি (রাষ্ট্রদুত) বাংলাদেশ থেকে মেডিসিন, মেলামাইন এবং চামড়াজাত পণ্য আলজেরিয়াতে রপ্তানির জন্য প্রস্তাব দেন। এবং দুই দেশের মধ্য দূতাবাস খোলার ব্যাপারেও আন্তরিকতা প্রকাশ করেন।

২০০৮ সালে উনি আবার আমাদের স্বাধীনতা দিবসের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে পুনরায় দূতাবাস খুলার ব্যাপারে আলোচনা করেন সেই সুবাদে বাংলাদেশ থেকে ২০ সদস্যের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল আলজেরিয়া সফর করেন।এই হল দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। ২০১০ সালে আলজেরিয়া বিশেষ করে কন্সট্রাকশন ফিল্ডে অনেক ইনভেষ্ট করে চলেছে সেই সুবাদে তারা শুরু করেছেন অনেক হসপিটাল ইউনিভার্সিটি এবং আবাসিক প্রকল্প পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদিতে।

ইন্ডিয়া, চায়না, কোরিয়া, জাপান, তুর্কী, স্পেন অনেক দেশের কোম্পানিরা কাজ করে যাচ্ছে। আমি এবং আমার সাথে আমাদের দেশের বেশ কিছু লোক ইন্ডিয়ার একটি কম্পানিতে কর্মরত আছি। তাছাড়া কোরিয়ান কোম্পানিতে ও অনেক বাংলাদেশিরা কাজ করেন। এই দেশে আমাদের কোন দূতাবাস নাই যার কারনে অনেক কষ্ট পেতে হয় আমাদের তার একটা ঘটনা বলি কি রকম কষ্ট করতে হয়।বেশ কিছু দিন আগে আমাদের দেশ থেকে কিছু লোক নিয়ে আনা হয় আমাদের কোম্পানিতে এইখানে আসার পর দেখা যায় তাদের অনেকের পাসপোট মেয়াদ শেষ। এখন কি করে নবায়ন করবে সেই বিষয় নিয়ে কোম্পানির HRD কর্মচারীরা আমার সাথে যোগাযোগ করেন। আমি দেশে কথা বলে দেখি এক এজেন্সিতে তারা আমাকে জানায় এখন ডিজিটাল পাসপোর্ট বানাতে গেলে দেশে গিয়ে সশরীরে নিজেকে উপস্থিত থেকে বানাতে হবে আগের মত পুরাতন পাসপোর্ট সিল মেরে নবায়ন অসম্ভব।

এই বিষয় নিয়ে আমি পাশের দেশ মরক্কোতে বাংলাদেশের দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করি উনারা আমাকে জানান যদি সবাই ওই দেশে যেতে পারে তাহলে তাহারা বানিয়ে দিতে পারেন। এখন একজন লেবার টাইপের লোকের পক্ষে কি সম্ভব আরেক দেশে গিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে নিয়ে আসা নাকি লক্ষ টাকা বিমান ভাড়া দিয়ে আবার দেশে গিয়ে পাসপোর্ট নবায়ন করে আসা? তাছাড়াও প্রথম বার ভিসা লাগাতে গেলে পাকিস্তান থেকে লাগাতে হয়। যদিও এই দায়িত্ব ছিল সম্পূর্ণ এজেন্সির। তারা জানে আলজেরিয়াতে বাংলাদেশের দূতাবাস নেই, তাই অন্তত ২ বছের মেয়াদের যদি পাসপোর্ট থাকত, কোন প্রবলেম ছিল না। ২ বছর পর ছুটিতে গিয়ে নবায়ন করা যেত। তাদের (এজেন্সি মালিকদের) যাত্রি প্লেনে বসে গেলেই ডিউটি শেষ। তাদের আর কে ধরতে পারে? এখন আমিও বলতে পারছি না কিভাবে এর সমস্যার সমাধান করব। একটি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য এত কষ্ট শিকার করতে হচ্ছে আলজেরিয়া বসবাসরত বাংলাদেশিদের।

তাই সরকারের কাছে আবেদন করছি আলজেরিয়াতে একটি দূতাবাস অফিস অথবা মরক্কোর একটি সাব অফিস খোলার জন্য, যাহাতে আমরা হাজার হাজার বাংলাদেশিরা অনেক উপকৃত হব। জানিনা কি কারনে ২০০৮ সালের পরে দূতাবাস খোলার ব্যাপারে দুই দেশের কোন ধরনের আর আলোচনা হয়নি। প্রবাসী ও প্রবাসীদের রেমিটেন্স এবং ব্যবসায়িক দিক অন্তত চিন্তা করে দুতাবাস খোলার জোরালো আবেদন করছি।

 

ধন্যবাদ সবাইকে মান্নান।আলজেরিয়া থেকে।