ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শিক্ষা বোর্ডের নোটিশ অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে শিক্ষকদের নিজ গৃহে প্রাইভেট পড়ানো বা কোচিং করানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের কৌশলে স্কুলে কোচিং করতে বাধ্য করছে।
গত ২০ জুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা “কোচিং নীতিমালা ২০১২” অনুযায়ী শিক্ষকেরা নিজ গৃহে পড়ানো বন্ধ করেছে এবং একই সাথে বিভিন্ন স্কুলে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলে কোচিং শুরু হয়েছে।কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সরকারী স্কুলে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে ,কিন্তু সে সকল স্কুলের শিক্ষকেরা কৌশলে শিক্ষার্থীদের জোর করে এ কোচিং করতে বাধ্য করছে।যেসকল শিক্ষার্থী স্কুলের কোচিং-এ অংশগ্রহন করছে না তাদেরকে নানাভাবে শাস্তির ভয় দেখানো হচ্ছে,এমনকি কোচিং ক্লাস না করার জন্য টিসি দেওয়ার ভয়ও দেখানো হচ্ছে।কুষ্টিয়ার অন্যতম বিখ্যাত স্কুল “কুষ্টিয়া জিলা স্কুল”-এর দিবা শাখার দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের আজ (২ জুন) স্কুলে কোচিং ক্লাস শুরু হয়, কিন্তু এতে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্লাস করায় দশম শ্রেণীর ক্লাস টিচার স্কুলের ১ম পিরিয়ডে ছাত্রদের নানারকম ভীতিমূলক কথা বলে। যেহেতু অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুলের বাইরে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ক্লাস করে বা বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে পড়ে তাই সেই ক্লাস টিচার শিক্ষার্থীদের বলে স্কুলের কোচিং-এ ক্লাস না করে বাইরে অন্য কোথাও পড়লে তাদের চিহ্নিত করে টিসি দেওয়া হবে। এছাড়াও ঐ শিক্ষক বলেছেন যারা স্কুলের বাইরে অন্য কোথাও পড়ে তাদের চিহ্নিত করার জন্য তিনি ছাত্রদের নিয়ে বিশেষ দল গঠন করবেন, যে দলের কাজ হবে যারা বাইরে কোচিং বা অন্য কোথাও পড়ে তাদের নাম লিস্ট করা এবং সে সকল নাম পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রদান করে তাদের টিসি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও ঐ শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে,আগামী কাল (৩ জুন) থেকে যারা স্কুলের বাইরে অন্য কোনো স্থানে স্কুল সময় সকাল ৭টা থকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পড়বে বা বাইরে কোচিং করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা তাদের টিসি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ঐ শিক্ষকের এ ধরনের হুমকিমূলক কথাবার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্কুলে কোচিং করতে বাধ্য করছেন। এছাড়াও, জিলা স্কুলের এক মিটিংয়ে শিক্ষাবোর্ডের ডিডি(ডেপুটি ডাইরেক্টর) বলেছেন যে, যারা স্কুলের কোচিং এ অংশগ্রহন না করে বাইরে কোচিং করবে তাদের টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হোক।

এভাবে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কৌশলে জোর করে স্কুলে কোচিং করতে বাধ্য করানো হচ্ছে। কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে প্রভাতি ও দিবা দুইটি শাখায় ক্লাস করানো হয়,প্রভাতি শাখায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং দিবা শাখায় দুপুর ১২ টা ৩০মিনিট থেকে বিকাল ৫টা ৩০মিনিট পর্যন্ত , ফলে প্রভাতি শাখার শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২ টার পর এবং দিবা শাখার শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২ টার আগে স্কুলের বাইরে বিভিন্ন স্থানে পড়ে বা কোচিং করে,এখন শিক্ষকদের পড়ানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা স্কুলের কোচিং-এ কৌশলে কোচিং ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছে। শিক্ষাবোর্ডের “কোচিং নীতিমালা ২০১২” এ ২নং অনুচ্ছেদের “খ” নং-এ বলা হয়েছে ,”আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বা পরে শুধুমাত্র অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন।” কিন্ত উপরোক্ত শিক্ষকের হুমকিমূলক কথাবার্তা দ্বারা উক্ত নীতিমালা অবজ্ঞা করা হয়। শিক্ষাবোর্ডের একজন ডিডি(ডেপুটি ডাইরেক্টর) কীভাবে ওই ধরনের কথা বলতে পারেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা “কোচিং নীতিমালা ২০১২” ভঙ্গ করে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে আবার কোচিং ব্যবসা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।তাই এখনি প্রয়োজন ওই ধরনের শিক্ষকদের নীতিমালা ভঙ্গের শাস্তির ব্যবস্থা করা নতুবা এভাবে সারাদেশে কৌশলে শিক্ষার্থীদের জোর করে স্কুলে কোচিং করতে বাধ্য করা হবে।