ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

mymensingh
ছবি ক্যাপশন: ময়মনসিংহ শহরে মুক্তাগাছার জমিদার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাময়ী স্কুল

ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত মুক্তাগাছার জমিদারদের যে সকল বিস্ময়কর স্থাপনা এখনো পর্যটকদের কৌতুহল জাগায় তার মধ্যে আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল (এখন টিচার্স ট্রেনিং কলেজ), শশী লজ (এখন মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মহিলা ), সূর্যকান্ত হাসপাতাল (বর্তমানে এসকে হাসপাতাল ), রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ট্যাঙ্ক, শিব মন্দির, মহাকালী স্কুল, টাউন হল, অমরাবতী নাট্য মন্দির, বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, পন্ডিতপাড়া ক্লাব ইত্যাদি ।

এর মধ্যে আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল লোহার কুঠি বলে পরিচিত । বাড়িটি তৈরি করতে লোহার পরিমাণ বেশী লেগেছিল তাই এই নামকরণ । পৃথিবী বিখ্যাত বহু ব্যক্তি এই বাড়িতে রাত কাটিয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি বিজড়িত এ ক্যাসেলের শ্বেত পাথরগুলো একে একে খোয়া গেছে । স্মৃতির সাথে এই উদাসীন প্রতারণা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে ব্যথিত করে। এই ব্যাথা পেরিয়ে সামনে কিছু দূরেই ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উল্টোপিঠে বিশাল প্রাচীর ঘেরা ফটক। ফটক পেরুলে সামনেই ফোয়ারা । ফোয়ারার মাঝে নার্সিসাস ভঙ্গীর নারী মূর্তি । এটিই শশীলজ । আজ এই লজে নেই বিষ্ময়কর সেই মিউজিক্যাল সিঁড়ি । যার জন্য শশীকান্ত ব্যায় করেছিলেন তৎকালীন ৩ লক্ষ্য টাকা ।

জানা যায়, মুক্তাগাছার জমিদার বীরেন্দ্র কিশোর আচার্য চৌধুরী শশীকান্ত নামে পরিচিত ছিলেন । তার নির্মিত শশীলজ এখনো অনেকের মনে বিস্ময় জাগায়। তিনি রাজা থেকে মহারাজা পর্যন্ত উপাধি পেয়েছিলেন । ১৯২০ সালে বাংলার গভর্ণর রোনাল্ড তাকে মহারাজা উপাধি দেন। ময়মনসিংহ শহর জমিদারদের শহর হিসাবে পরিচিত লাভ করে মুক্তাগাছার জমিদারদের স্থাপনা কেন্দ্র করে। এছাড়াও ময়মনসিংহ জাদুঘরে সংরক্ষিত অধিকাংশ সামগ্রী মুক্তাগাছার জমিদারদের ব্যবহৃত।

ময়মনসিংহে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন মহারাজা শশীকান্তের আমন্ত্রণে । ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কবি ময়মনসিংহ আসেন । ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কবি গুরু সূর্যকান্তের বাগানবাড়ি আলেকজান্দ্রা ক্যাসেলে অবস্থান করেন। কবি গুরুর ময়মনসিংহে আগমন ময়মনসিংহবাসীর জন্য কম অসামান্য গৌরবের বিষয় নয়।