ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 
anarosh

ছবি ক্যাপশন: দেশী আনারস (মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ)
বাংলাদেশের উর্বর মাটিতে মৌসুমী আবহাওয়ায় বহিরাগত অনেক ফলই যুগ যুগ ধরে দেশী ফল হিসাবে টিকে আছে । এর মধ্যে আনারস একটি । জানা যায়, আনারসের জন্মস্থান আমেরিকায় । ১৫৯৪ সালে ভারতবর্ষে আসে । আনারসের ৬ টি প্রজাতি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায় । দীর্ঘ ৫ শতাব্দী ধরে যে প্রজাতির আনারসটি আমাদের আঙ্গিনায় ঠাঁই করে নিয়েছে , সেটিই আমাদের দেশী আনারস হিসাবে পরিচিত । যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘ এনানাছ কমোসাস’ ।

এক সময় এদেশের কৃষকের আঙ্গিনায় , বাঁশ ঝাঁড়ে , পুকুর পাড়ে অযতেœ- অবহেলাতেও ঝুঁপড়ি বাঁধা আনারস গাছ দেখা যেত । বর্ষায় ফলতো বিস্তর আনারস । এখন আর কৃষকের বাড়িতে আনারসের ঝোঁপ দেখা যায় না । উন্নত জাতের বলে পরিচিত বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল প্রজাতির আনারসের চাষ এখন বাণিজ্যিকভাবে হওয়ার ফলে দেশী আনারসের কদর অনেকটা কমে গেছে ।
দেশী আনারসের স্বাদগন্ধ যতটুকু প্রাকৃতিক , উফসী ঠিক ততটুকু নয় । উফসী আনারস ফলাতে পরিচর্যা, সার, কীটনাশক, হরমোন ইত্যাদি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। দেশী আনারসে তার প্রয়োজন পড়ে না । ঝোপ- ঝাড় – জঙ্গলে অনায়াসে তা বেড়ে ওঠে । দেশী পাকা আনারসের রসে ‘ ব্রোমেলিন’ নামক জারক রস অধিক থাকায় এর স্বাদ উফসীর চাইতে সামান্য টক বলে বাজারে এর চাহিদা কম ।

ভেষজ চিকিৎসকরা জানান , আনারসের জারক রসের ভেষজ গুরুত্ব অনেক । স্কার্ভি ও পান্ডুরোগে এটা হিতকর । জ্বর হলে একসময় দেশী আনারসের রস খাওয়ার প্রচলন ছিল । এতে জ্বর সেরে যেত ।

গত কয়েক বছর ধরে হরমোন দিয়ে ফলানো রাসায়নিক প্রয়োগে পাকানো আনারস বাজারে পর্যপ্ত পাওয়া গেলেও , ক্রেতাসাধারণের আগ্রহ কম । অন্যদিকে ক্রেতাদের দেশী আনারসের সন্ধান করতে দেখা যায় । কিন্তু ইতিমধ্যে দুর্লভ হয়ে পড়েছে দেশী আনারস । বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করে দুর্লভ এই আনারসের কয়েকটি ঝোপ দেখা যায় মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের কৃষ্টনগর গ্রামের আরমান মিয়ার বাড়ির বাঁশঝাঁড়ে। ঐ বাড়ির লোকজন জানান , সাত পুরুষ ধরে এই আনারসের ঝাড় এখানে আছে ।