ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

মুক্তাগাছায় টিআর প্রকল্পের অর্থ আতœসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে । অভিযোগে প্রকাশ , আতœসাতকৃত অর্থ জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলেিগর নেতা কর্মীরা ভগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন । মুক্তাগাছায় একই অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বিশেষ খাতে ৩য় পর্যায়ে জাতীয় পার্টির এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তির নামে ১৪০ টন খাদ্যশস্য (গম) বরাদ্দ হয়। বরাদ্দকৃত ১৪০ টনের সিংহভাগই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। যা দিয়ে ৯৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৪টি প্রকল্পই দেখানো হয়েছে নেতাকর্মীদের বাড়িতে নলকূপ স্থাপন। এসব নেতাকর্মীর বাড়িতে আগে থেকেই অন্য প্রকল্পের নলকূপ স্থাপন করা রয়েছে। এতে নলকূপই স্থাপন না করে আগের নলকূপকেই নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়। অপরদিকে ,ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় টিআর ও কাবিখার চাল-গম আগের মতোই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি হচ্ছে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ভাগ-বাটোয়ারার মহোৎসব চলছে বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গত অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাজের বিনিময়ে খাদ্য-কাবিখা) এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাজের বিনিময়ে টাকা-কাবিটা) সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দের অধীনে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রকল্পের অর্ধেক প্রকল্পই সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ভাগাভাগি করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রকল্পের কাজ দায়সারাভাবে করে বা না করেই বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ পকেটে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দলীয় চাপের মুখে এসব প্রকল্প না দেখেই শতভাগ কাজ সম্পন্নের রিপোর্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন। দলীয় চাপের কারণে নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পসমূহ বাছাই করা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের টিআর (সাধারণ/বিশেষ) ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ১৩ হাজার ২৬৫ টন খাদ্যশস্যের বিনিমিয়ে সর্বমোট ৬ হাজার ২২০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। একই অর্থবছরের কাবিখা (সাধারণ/বিশেষ) ১ম পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ৫ হাজার ৬৮৮ টন খাদ্যশস্যের বিনিময়ে ৪৫৭টি প্রকল্প এবং কাবিটা (সাধারণ/বিশেষ) ২য় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৩২ হাজার টাকার বিনিময়ে ৬৮৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিখা/কাবিটা) সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দের প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রকল্পের অর্ধেকই সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ভাগাভাগি হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ হাবীবুল্লাহ জানান, প্রকল্পসমূহের কাজ শেষ হয়েছে। এখন বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে মুক্তাগাছায় ৯৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪টি প্রকল্প দেখানো হয়েছে নেতাকর্মীদের বাড়িতে নলকূপ স্থাপন। এর মধ্যে যাদের বাড়িতে নলকূপ আছে সেগুলো নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গৌরীপুর উপজেলায় সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. মজিবুর রহমান ফকির এমপির নির্বাচনী এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ৩৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ নেতা, সরকারি চাকরিজীবী ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়ে প্রকল্প কমিটি করা হয়েছে। বোকাইনগর ইউনিয়নে কাওলাটিয়া মোড় হতে স্বল্পবরভাগ আবদুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজের প্রকল্প কমিটির সভাপতি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও সেক্রেটারি ছিলেন তারই ভাবী ইউপি সদস্য রেনোয়ারা বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন তার স্ত্রী শামীমা বেগম এবং ইমাম প্রতিনিধি ছিলেন জালাল উদ্দিন। এই প্রকল্পের সেক্রেটারি রেনোয়ারা বেগম জানান, প্রকল্প কাজের অগ্রগতি বা কমিটির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্প কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা, বোকাইনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন আর সেক্রেটারি হলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক। প্রকল্পের সেক্রেটারি নাজমুল হক জানান, তার স্কুলে বা মাঠে কোনো কাজ হয়নি। বোকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুল ইসলাম খান শহিদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদকে পাশ কাটিয়ে এসব প্রকল্প গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিয়ে প্রকল্প কমিটি করে শুধু হাত ও পায়ের ছাপ দিয়ে মাস্টার রোল তৈরি করে সবকিছু হজম করে ফেলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, সব কটি প্রকল্পের কমিটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. মুজিবুর রহমান ফকির করেছেন। তাদের কিছুই করার ছিল না। ময়মনসিংহ জেলার অন্য সব উপজেলারও টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের একই হাল বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।
Share this: