ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

 
manonesh(4-8 ana)

বর্তমান বাজারে এক টাকায় একটি চকলেট পাওয়া যায় । এক টাকার কয়েন বাজারে অভাব নেই । একটি আট আনার দুই আধুলি অথবা চার আনার পচিশ পয়সার দুইটি সিকি একসাথে এক টাকা । এই মুদ্রা গুলির সংযোগে একটি সিকি হারিয়ে গেলে বার আনায় বিক্রেতা চকলেট নাও দিতে পারে । একটি চার আনা দিয়ে বাজারে কোন জিনিস মেলে না । ভিক্ষুকরাও চার আনার ভিক্ষা নিতে নারাজ । অনেকে প্রশ্ন করে বলেন , চার আনার প্রচলন কি উঠে গেলো ? জানা যায় , আজ থেকে আশি নব্বই বছর আগে এদেশে পোয়া পয়সা , আধা পয়সার প্রচলন ছিল । পোয়া ও আধা পয়সার প্রচলন উঠে গেছে । সে যুগে পোয়া পয়সার সওদা মিলতো । মুদ্রার মূল্যায়ন হ্রাসের কারণে ধীরে ধীরে পোয়া ও আধা পয়সার প্রচলন উঠে যায় । পোয়া ও আধা পয়সা তামা দিয়ে তৈরি হতো । এখনও অনেক প্রবীণ ব্যক্তি জীবিত আছেন যারা পোয়া ও আধা পয়সার দিয়ে জিনিস কিনেছেন । সেই পোয়া ও আধা পয়সা এখন প্রতœ সম্পদে পরিণত হয়েছে ।

ব্রিটিশ আমলে পোয়া ও আধা পয়সার প্রচলন হয় । ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এদেশে যখন সরকারী মুদ্রা প্রচলন করে সে সময় পোয়া , আধা ও এক পয়সা চালু করা হয় । সে সাথে এক পয়সা , দু’ পয়সা , এক আনা , দু’ আনা , সিকি , আধুলি এবং এক টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা প্রচলন করা হয়েছিল । ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ দিকে পোয়া ও আধা পয়সার প্রচলন উঠে যেতে থাকে । পাতিস্তানী শাসন আমলে এক পয়সার প্রচলন ছিল । তামার এক পয়সার মাঝে গোলাকার ছিদ্র ছিল । ষাটের দশকে দশমিক মুদ্রা চালু করা হয় । এক, দু, পাঁচ, দশ, পঁচিশ পয়সার ধাতব মুদ্রা চালু করা হয় । সাথে সাথে আগের এক পয়সা দু’ পয়সা, এক আনা দু’আনা, সিকি আধুলি ধীরে ধীরে বাজার থেকে উঠিয়ে দেয়া হয় । ৭১- এর স্বাধীনতার পরও এক ও দু’ পয়সার প্রচলন ছিল । পরে আর এক বা দু’পয়সার কোন সওদা মিলতো না । বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে এগুলো উঠিয়ে নেয় । পাঁচ ও দশ পয়সার মুদ্রা তৎপরবর্তীতে উঠিয়ে নেয়া হলেও সরকারীভাবে চালু থেকে এখন প্রয়োগে অনুপযোগী । এখনও চার আনা বা পঁচিশ পয়সা ও আট আনা বা আধুলি ধাতব মুদ্রা চালু রয়েছে ঠিকই কিন্তু কমে যাচ্ছে প্রয়োগ ।